Ajker Patrika

এপস্টেইনকাণ্ডে যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির লর্ড ম্যান্ডেলসনের পদত্যাগ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
এপস্টেইনকাণ্ডে যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির লর্ড ম্যান্ডেলসনের পদত্যাগ
সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ও লেবার পার্টির সদস্য লর্ড ম্যান্ডেলসন। ছবি: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

এপস্টেইনকাণ্ডে পদত্যাগের পথ বেছে নিয়েছেন যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির সদস্য পিটার ম্যান্ডেলসন। কুখ্যাত মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে বন্ধুত্বের বিষয়ে নতুন করে তথ্য ফাঁস হওয়ার পর লেবার পার্টিকে ‘আরও বিব্রতকর পরিস্থিতি’ থেকে বাঁচাতে দল ছাড়লেন তিনি। এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে অপসারিত করা হয় লর্ড ম্যান্ডেলসনকে। গত শুক্রবার মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত এপস্টাইন ফাইলসে তাঁর নাম উঠে আসে।

ম্যান্ডেলসন জানান, গতকাল রোববার সন্ধ্যায় লেবার পার্টির মহাসচিব হলি রিডলিকে চিঠি লিখে নিজের দলীয় সদস্যপদ থেকে পদত্যাগের কথা জানিয়েছেন তিনি। চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘এই সপ্তাহান্তে জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে তৈরি হওয়া তোলপাড়ে আমার নাম আবারও যুক্ত করা হয়েছে, যা নিয়ে আমি অনুতপ্ত ও দুঃখিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০ বছর আগে তিনি আমাকে অর্থ প্রদান করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ মিথ্যা এবং এর কোনো নথি বা রেকর্ড আমার কাছে নেই। এ নিয়ে আমার নিজেরই তদন্ত করা প্রয়োজন।’

ম্যান্ডেলসন বলেন, ‘এ কাজ করতে গিয়ে আমি লেবার পার্টিকে আর কোনো বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে চাই না। সে কারণে আমি দলের সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। আমি আবারও সেই নারী ও কিশোরীদের কাছে ক্ষমা চাইতে চাই, যাদের কণ্ঠস্বর অনেক আগেই শোনা উচিত ছিল।’

লেবার পার্টির এই নেতা আরও বলেন, ‘আমি আমার জীবন লেবার পার্টির আদর্শ ও সাফল্যের জন্য উৎসর্গ করেছি এবং এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে আমি বিশ্বাস করি যে আমি দলের বৃহত্তর স্বার্থেই কাজ করছি।’

এদিকে কনজারভেটিভ পার্টির এক মুখপাত্র বলেছেন, রাষ্ট্রদূত হিসেবে ম্যান্ডেলসনের নিয়োগ নিয়ে এখন একটি স্বাধীন তদন্ত হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও কিয়ার স্টারমার ও তাঁর চিফ অব স্টাফ ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেন, আর তাঁর বিরুদ্ধে প্রমাণের পাহাড় জমতে থাকলেও তাঁরা কোনো ব্যবস্থা নিতে অস্বীকৃতি জানান।’

মুখপাত্র আরও বলেন, ‘লর্ড ম্যান্ডেলসন পুরোপুরি কলঙ্কিত। তবু কিয়ার স্টারমারের তাঁকে বহিষ্কার করার মতো সাহস ছিল না। তিনি ম্যান্ডেলসনকে বহিষ্কার করার বদলে লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগের সুযোগ করে দিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বিচারবুদ্ধির শোচনীয়তা এবং তাঁর ডাউনিং স্ট্রিট কার্যক্রমের সংশ্লিষ্টতার পরিপ্রেক্ষিতে এখন একটি পূর্ণাঙ্গ ও গভীর স্বাধীন তদন্ত হওয়া আবশ্যক।’

এর আগে সরকারের এক মন্ত্রী বলেন, জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে ম্যান্ডেলসনের মার্কিন কংগ্রেসের সামনে সাক্ষ্য দেওয়া উচিত। কারণ প্রকাশিত নথিতে দেখা যাচ্ছে, প্রয়াত কুখ্যাত যৌন অপরাধী এপস্টেইন তৎকালীন লেবার দলের এমপি ম্যান্ডেলসনকে ৭৫ হাজার ডলার পাঠিয়েছিলেন।

গতকাল শুক্রবার মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত ইমেইল এবং অন্যান্য নথিতে এপস্টেইন ও লর্ড ম্যান্ডেলসনের সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতার ওপর নতুন করে আলোকপাত করা হয়েছে।

ব্যাংক বিবরণীতে দেখা গেছে, জেফরি এপস্টেইনের জেপি মরগান ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে তৎকালীন ব্রিটিশ বাণিজ্য সচিবের (ম্যান্ডেলসন) নাম উল্লেখ করে পৃথক তিন দফায় ২৫ হাজার ডলার করে অর্থ পাঠানো হয়েছে।

এসব বিবরণী সম্পর্কে জানতে চাইলে ম্যান্ডেলসন বলেন, ‘এই অর্থ পাওয়ার কোনো নথি বা স্মৃতি আমার নেই। এসব নথি আদৌ সত্য কি না, সে বিষয়েও আমি জানি না।’

ম্যান্ডেলসন পুনরায় স্বীকার করেন, এপস্টেইনকে বিশ্বাস করা এবং তাঁর সঙ্গে মেলামেশা চালিয়ে যাওয়া ভুল ছিল। তিনি আরও বলেন, ‘আমি এটি করার জন্য গভীরভাবে অনুতপ্ত এবং যে নারী ও মেয়েরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’

শুক্রবার প্রকাশিত ইমেইলগুলোতে আরও দেখা যায়, গর্ডন ব্রাউনের সরকারের সময় তৎকালীন বাণিজ্য সচিব ম্যান্ডেলসন ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসে জেফরি এপস্টেইনকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, তাঁর অনুরোধে ব্যাংকারদের বোনাস–সংক্রান্ত সরকারি নীতি পরিবর্তনের জন্য তিনি জোর চেষ্টা করছেন। এ তথ্য সামনে আসার পর লেবার দলের পিয়ার হিসেবে ম্যান্ডেলসনের হাউস অব লর্ডসে পুনরাগমন ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কিয়ার স্টারমারের ওপর চাপ বাড়তে থাকে।

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘পিটার ম্যান্ডেলসনের বিষয়ে বলতে গেলে, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে যে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসে, তার পরিপ্রেক্ষিতেই স্পষ্টতই তাঁকে রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর সম্পর্কে আমার আর কিছু বলার নেই।’

এদিকে ম্যান্ডেলসনের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলেছে, এসব বিবরণী হুবহু সত্য ধরে নেওয়া যায় না এবং এতে ভুলত্রুটি রয়েছে। তারা আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ আগেই বলেছিল যে এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথিতে ভুয়া ছবি, নথি বা ভিডিও থাকতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

চট্টগ্রাম-৭ ও ১৪ আসন: প্রতিপক্ষের সমালোচনায় অলি, থেমে নেই হুমামও

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সমীরণ দেওয়ানকে বহিষ্কার

বান্দরবানে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাবিবুর নিহতের তিন বছর, সেনাবাহিনীর শ্রদ্ধা

ভোটের দায়িত্বে বিএনসিসিকে চায় না বিএনপি

‘আমাকে বিয়ে করো’, এপস্টেইনকে বলেছিলেন প্রিন্স অ্যান্ড্রুর স্ত্রী, টাকাও ধার চেয়েছিলেন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত