Ajker Patrika
সাক্ষাৎকার

যুদ্ধ বন্ধ হলেও আমরা জ্বালানি সংকট থেকে মুক্ত হব না: অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম

যুদ্ধ বন্ধ হলেও আমরা জ্বালানি সংকট থেকে মুক্ত হব না: অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম

অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম জ্বালানি বিশেষজ্ঞ। বর্তমানে তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রকৌশল অনুষদের ডিন। তিনি কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানি উপদেষ্টা। এর আগে তিনি চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এনার্জি টেকনোলজির পরিচালক ছিলেন। তিনি ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর পিএইচডি করেছেন। সম্প্রতি জ্বালানি সংকটের কারণ এবং এ থেকে সমাধান পেতে করণীয় নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন আজকের পত্রিকার মাসুদ রানা

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসন ও হত্যাযজ্ঞ শুরু হওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় দেশে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেয়। কিন্তু সরকার এ সংকট স্বীকার করেনি। গত ২৪ মার্চ জ্বালানিমন্ত্রী বলেছেন, দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। মন্ত্রীর এ কথার যৌক্তিকতা কতটুকু?

মন্ত্রীর কথাকে যদি ইতিবাচকভাবে দেখি, তাহলে স্বাভাবিক চাহিদার বিপরীতে যে পরিমাণ তেল বাজারে থাকার কথা, সেই পরিমাণ তেল বাজারে আছে। কিন্তু চাহিদা সংকটের কারণে বেড়ে গেছে। এই সংকটের সময়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বা সংশয় তৈরি হয়েছে। সে কারণে মানুষ অতিরিক্ত জ্বালানি মজুত করা, বেশি করে জ্বালানি ক্রয় করার চেষ্টা করছে। যখনই চাহিদা বেড়ে যায় সরবরাহের তুলনায়, তখন সংগত কারণেই কালোবাজারি, অসাধু ব্যবসায়ী তৈরি হয়। সে কারণে এখন দেশে জ্বালানি নিয়ে কালোবাজারি ও অসাধু ব্যবসায়ীদের দাপট দেখা যাচ্ছে। এখন যেনতেনভাবে মূল সাপ্লাই চেইন ব্রেক করে কালোবাজারিদের নিয়ন্ত্রণে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।

সরকার প্রবর্তিত স্বচ্ছ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এখন সংকটে পড়েছে। এ কারণে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। যখন আট ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ট্রাকচালক তেল না পেয়ে পাম্পের একজনকে হত্যা করে, তখন সংকটের তীব্রতা মানুষকে অস্বাভাবিক করে তোলে। এই ঘটনা হলো তার অন্যতম দৃষ্টান্ত। মন্ত্রীর কথা এই প্রেক্ষাপটে ঠিক না। সংকটকে এভাবে সুনির্দিষ্ট করা যায় না। যে কারণে তাঁর এই ব্যাখ্যাটা যৌক্তিক হয়নি বরং বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই নির্ভরশীলতা আমাদের কতটা ঝুঁকিতে ফেলছে বা ফেলতে পারে?

অবশ্যই ফেলছে। পৃথিবীর সিংহভাগ জ্বালানি সরবরাহ হয় মধ্যপ্রাচ্য থেকে। আর বাংলাদেশও মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপরই নির্ভরশীল। ইউরোপের দেশগুলোয় রাশিয়া থেকে জ্বালানি আসে। আমাদের দেশে রাশিয়া থেকে জ্বালানি আসে না। সুতরাং মধ্যপ্রাচ্যে যদি সমস্যার সৃষ্টি হয়, তার প্রভাব তো সারা বিশ্বেই পড়বে। এ কারণে আমরাও সমস্যার মধ্যে পড়েছি।

আমাদের বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের যে অবস্থা, তাতে বর্ধিত মূল্যে জ্বালানি কেনা আমাদের অর্থনীতির জন্য কতটা সংকটের সৃষ্টি করতে পারে?

বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য স্বাভাবিক দামে স্থির ছিল। তারপরেও সেই মূল্যে আমরা জ্বালানি আমদানি করতে পারিনি, শুধু আমাদের সক্ষমতা না থাকার কারণে। আমাদের চাহিদা অনুযায়ী যতটুকু জ্বালানি আমদানি করা দরকার, ততটা জ্বালানি আমরা আনতে পারিনি। তা ছাড়া এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) নির্ভর হওয়ার কারণে আমাদের জ্বালানিনিরাপত্তা বিপন্ন হয়ে গেছে। যতটুকু বিদ্যুৎ উৎপাদন করা দরকার, ততটুকু উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার আমরা যে দামে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছি, সেই দামে ভোক্তাদের দেওয়া যাচ্ছে না। সে কারণে ভর্তুকি দিতে হয়েছে। যদিও বিগত সরকার দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধি করেছে। এটা হলো একটা ন্যারেটিভ।

অন্য একটা ন্যারেটিভ হলো, আমরা জ্বালানি সরবরাহের কৌশলগত জায়গা থেকে বেসরকারীকরণ করার মাধ্যমে এ খাতটিকে একটা লুণ্ঠনের ক্ষেত্রে পরিণত করেছি। লুণ্ঠন করার জন্য ন্যায্য ও যুক্তির দাম উপেক্ষা করে ৫০ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে। জনগণের কাছ থেকে ট্যারিফ (এক দেশ থেকে অন্য দেশে পণ্য আমদানির সময় সরকার কর্তৃক আরোপিত কর) বৃদ্ধির নাম করে শতভাগ দাম বাড়িয়ে অর্থ তছরুপ করা হয়েছে। এভাবে লুণ্ঠন করে জনগণের টাকা ব্যবসায়ীদের পকেটে ঢোকানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর অসাধু ব্যবসায়ীদের পকেট থেকে সেটা বিভিন্নজনকে বিতরণ করা হয়েছে। এ খাতের বড় বড় কর্মকর্তা ও কর্মচারী অলিগার্ক (সুবিধাপ্রাপ্ত গোষ্ঠী) হয়ে গেছেন লুণ্ঠনের ক্ষেত্র প্রস্তুতিতে। তাঁরা লুণ্ঠন করার জন্য বিশেষ গোষ্ঠী তৈরি করেছেন। তাঁরা সুবিধা পেয়েছেন। বিগত সময়ের রাজনৈতিক নেতারা কাজ করেছেন এ অবস্থা তৈরি করার জন্য। এভাবে একটা কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে লুণ্ঠনের একটা স্থায়ী ব্যবস্থায় পরিণত করা হয়েছে জ্বালানি খাতকে। এই ন্যারেটিভটা এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে না, গুরুত্ব পাচ্ছে না এবং সরকারও সেদিকে নজর দিচ্ছে না। এটাই হলো সমস্যার মূল জায়গা। যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু আমরা জ্বালানি সংকট থেকে মুক্ত হব, তা ভাবার সুযোগ নেই।

জনগণ এই ন্যারেটিভটা না জানার কারণ কী?

প্রথম কারণ হলো, এই তথ্যগুলো সামগ্রিকভাবে সামনে আসেনি এবং আসতে দেওয়া হয়নি। আজকে জ্বালানি সংকটের জন্য ‘যুদ্ধ যুদ্ধ’ করা হচ্ছে। আসলে তো যুদ্ধ সংকট তৈরি করেনি। তবে সংকটের কিছুটা মাত্রা বাড়িয়েছে। কিন্তু এ সংকট তৈরি করেছে বিগত সরকারগুলো লুণ্ঠনমুখী জ্বালানি খাত উন্নয়ন এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনার নাম করে।

তাহলে বিগত সরকারের ভূমিকা কী ছিল?

দেশের বিগত শাসকগোষ্ঠী এ খাতে লুণ্ঠনমুখী উন্নয়ন এবং লুণ্ঠনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করার জন্য কাজ করেছে। ফলে জ্বালানির ব্যয় বেড়েছে। সে ব্যয় সংকুলান করার সামর্থ্য কি সরকারের ছিল না? ভর্তুকির নাম করে সরকারের কাছ থেকে অর্থ গেছে। কোথাও ঘাটতি তৈরি করা হয়েছে, কোথাও যা দাম তার চেয়ে বেশি ব্যয় করা হয়েছে। আবার সেই অর্থ জোগান দেওয়ার জন্য ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধি করে জনগণের কাছ থেকে অর্থ লোপাট করা হয়েছে। সেভাবে অর্থ নেওয়ার প্রক্রিয়া ১৬-১৭ বছর ধরে অব্যাহত ছিল। এসব কাজ করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতা ব্যবহার করে। অর্থাৎ সরকার নামক প্রতিষ্ঠানই এসব অপকর্ম করেছে।

কোনো সরকারই কেন জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা থেকে বের হওয়ার জন্য চেষ্টা করেনি?

মূলত বিগত আওয়ামী লীগ এবং অন্তর্বর্তী সরকার এ কাজটি করেনি। স্বাধীনতার পরে চুরির ঘটনা ঘটেছে মাঠপর্যায়ে। সিস্টেম লস করে বিদ্যুৎ, গ্যাস, তেল চুরি করা হয়েছে। ম্যানেজার, এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার, ভোক্তা লেভেলে চুরি করা হয়েছে। ভোক্তারা একাধিক জায়গায় বিদ্যুতের লাইন নিয়েছে। এভাবে বিদ্যুৎ খরচ করে চুরি করেছে। এই চুরি অব্যাহত রাখার জন্য ঘুষ দিয়েছে। এভাবে সেটা একটা পদ্ধতিতে পরিণত হয়েছিল। এগুলো ছিল ক্ষুদ্র পর্যায়ের দুর্নীতি।

মেজর দুর্নীতি করা হয়েছে রূপপুর ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করার মাধ্যমে। রূপপুরে বিদ্যুৎ আগে ৬ টাকা ছিল। এরপর সেটা দ্বিগুণ করা হয়েছে। এই দুর্নীতির ক্ষেত্র করা হয়েছে ২০০০ সালের পর থেকে বা তার কিছু আগে থেকে। তার আগে আশির দশকে পাওয়ার সেক্টরের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সংস্কারের নামে। সংস্কারের নামে এসবের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও বিশ্বব্যাংক পৃষ্ঠপোষকতা করে সরকারের পলিসিকে প্রভাবিত করেছে।

এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জ্বালানি খাত বেসরকারীকরণ করে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্র তৈরি করা হয়েছে। সেই ব্যবসা সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা মিলিয়ে করেছেন। এ খাতসংশ্লিষ্ট সব ব্যবসা যেমন এলএনজি আমদানি, অবকাঠামো তৈরি, ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন লাইন তৈরির কাজও তাঁরা করেছেন।

সাতক্ষীরায় গ্যাস যাচ্ছে না কেন, তার কোনো খবর নেই। অথচ সেখানে ১৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে গ্যাসলাইন নির্মাণ করা হয়েছিল। সেটা পরে আন্ডারগ্রাউন্ডে তলিয়ে গেছে। ভেড়ামারা থেকে গ্যাস পাইপলাইন নিয়ে যাওয়া হয়েছে খুলনায়। যে পাইপলাইনে কোনো দিনও গ্যাস না যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবার বিদেশি কোম্পানি দিয়ে গ্যাস তুলতে গিয়ে বাপেক্সের চেয়ে আড়াই-তিন গুণ খরচ করা হয়েছে। এসব কাজের কন্ট্রাক্ট দিতে গিয়ে ঘুষ-দুর্নীতির ঘটনাও ঘটেছে। মাগনামা-২ কূপ খনন করে ২৬২ কোটি টাকা তছরুপ করা হয়েছে। এর সঙ্গে তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী জড়িত ছিলেন। যদিও এটা বাপেক্সকে দিয়ে করানো হয়েছিল। সে সময় বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীরা বলেছিলেন, সেখানে কোনো গ্যাস পাওয়া যাবে না। সেই সময়কার সচিব সে কথা শোনেননি। এভাবে প্রতিটি জায়গাতেই নানা ঘটনা ঘটিয়ে শত শত কোটি টাকা জলে ফেলা হয়েছে।

এখন তাহলে কী করণীয়?

এই অবস্থার মধ্যে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। এখনো সরকার সেভাবে পরিকল্পনা করছে না এবং করতে পারছে না। আমরা মনে করি, সময় বয়ে যাচ্ছে। এখন এগুলোকে প্রতিরোধ করা সরকারের জন্য খুব সহজ। কারণ এ সময়ে যা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তাই বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এটাকে বাধা দেওয়া এবং প্রতিরোধ করার কোনো শক্তি এখন আর নেই। এখন যদি সরকার তাদের করণীয় নিয়ে বিলম্ব করে, তাহলে পরবর্তী সময়ে সরকারের জন্য তা আরও কঠিন হয়ে যাবে।

আপনি অনেক দিন থেকে বলে আসছেন, আমাদের নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে জোর দেওয়া দরকার। এখন কি এটা করা সম্ভব?

আমাদের ছাতক ইস্ট গ্যাস কূপে একদম খাঁটি গ্যাস আছে। সরকারের এখনই বাপেক্সকে নির্দেশ দেওয়া দরকার গ্যাস উত্তোলনের জন্য। এই গ্যাস উত্তোলনের জন্য সরকারকে কোনো বাড়তি টাকা দিতে হবে না। কারণ, গ্যাস উত্তোলনের তহবিলে টাকা তো পড়ে আছে।

পিডিবি কর্তৃপক্ষও বলে আসছে, আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ দেওয়া হোক ভোলার গ্যাস দিয়ে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুৎ বিতরণের জন্য আমাদের অবকাঠামোও আছে। সে জন্য কোনো বাড়তি অর্থ খরচ করতে হবে না। আর আমরা সেখান থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যে পরিমাণ গ্যাস নেব, সে পরিমাণ বিদ্যুৎ আমরা ঢাকা, ঈশ্বরদী ও আশুগঞ্জ থেকে নেওয়া বন্ধ করে দেব। এতে করে যে পরিমাণ গ্যাস উদ্বৃত্ত থাকবে তা দিয়েই শিল্প-কলকারখানা চালানো যাবে। আর এলএনজি আমদানি করে ব্যয় বাড়ানোর দরকার নেই। এসব কাজ করলেই তো দেশের জ্বালানি সমস্যার অনেকখানি সমাধান হয়ে যাবে।

গ্যাস উত্তোলন না করার কারণ কী?

গ্যাস উত্তোলন করা হলে তো এলএনজি আমদানি করার সুযোগ থাকবে না। লুণ্ঠন তো বজায় রাখতে হবে। এটা যদি কোনো সরকারের দর্শন, আদর্শ হয় তাহলে আমাদের কোনো কিছুতেই লাভ হবে না। যে সরকারের লুণ্ঠনই আদর্শ ছিল, অন্তর্বর্তী সরকার সেটাকে আরও পাকাপোক্ত করেছে। আমি আশা করব, বর্তমান বিএনপি সরকারের সেটা আদর্শ হবে না।

সাধারণ জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকারের এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত?

প্রথমত, ভোক্তাদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ক্যাব বলেছে, বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি ৪ টাকা কমানো সম্ভব। ৪ টাকা কমালে ৪০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। যেখানে বাড়তি ৩০ হাজার কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে ক্যাপাসিটি চার্জের জন্য। ক্যাব এগুলো বন্ধ করার কথা অনেক দিন থেকে বলে আসছে।

ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের লাইসেন্স বাতিলের জন্য হাইকোর্টে ক্যাব মামলা করেছে। আর এদিকে অন্তর্বর্তী সরকার তাদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ নেওয়ার খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। কাকে আমরা গণশত্রু বলব? কোনো সরকার এটা করতে পারে? ইউনূস এ কাজ করে গেছেন। এখন এটা বাতিল করা দরকার। বাতিল করলে টাকা ফেরত আসবে। মাত্র ৪৫ শতাংশ ক্যাপাসিটি ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে কয়লা-বিদ্যুতের সক্ষমতা ৯০ শতাংশ ব্যবহার করা যায়। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে এখন কয়লা আমদানি বাড়ানো দরকার। কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা গেলে আর আদানির বিদ্যুতেরও দরকার পড়বে না। এতে বিদ্যুতের দামও কমে আসবে।

সবচেয়ে জরুরি হলো, সরকারকে আর মুনাফাখোর হওয়া যাবে না। জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে নাকে খত দিয়ে প্রতিজ্ঞা করতে হবে—যারা এই খাতকে ব্যবসায়িক খাতে পরিণত করেছে, লুণ্ঠনের ক্ষেত্রে পরিণত করেছে, সে রকম কোনো কাজ বিএনপি সরকার করতে দেবে না। তারা আগে এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করুক। আর গণশুনানির মাধ্যমে তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের দাম নির্ধারণের জন্য নির্দেশ দিতে হবে। একদিকে ঘোষণা, অন্যদিকে নির্দেশ দিলে বাদবাকি সমস্যা এমনিতেই সমাধান হয়ে যাবে।

সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ

আজকের পত্রিকাকেও ধন্যবাদ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

‘ইলন মাস্কের হাত থেকে বাঁচাতে’ কিশোরী কন্যাকে হত্যা করলেন মা

অবশেষে অনশনরত স্বামীর হাত ধরে ঘরে ফিরলেন সেই স্ত্রী

মার্কিন বাহিনীর নতুন মাথাব্যথা ইরানের ‘অদৃশ্য কমান্ডো’

ক্রুকে উদ্ধারে কী কী প্রযুক্তি ব্যবহার করল যুক্তরাষ্ট্র, ইরানিরা কেন খুঁজে পেল না

ভূপাতিত বিমানের দ্বিতীয় ক্রুকে উদ্ধারের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের, তবে ইরান থেকে বের হতে পারেনি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত