Ajker Patrika

গবেষণায় বেরিয়ে এল কোরিয়ার প্রাচীন সিলা রাজ্যের অদ্ভুত বলিপ্রথা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
গবেষণায় বেরিয়ে এল কোরিয়ার প্রাচীন সিলা রাজ্যের অদ্ভুত বলিপ্রথা
একটি প্রাচীন সমাধিস্থল খননকালে পাওয়া মানুষের কঙ্কাল। ছবি: দ্য ইনডিপেনডেন্ট

প্রাচীন কোরিয়ায় রাজপরিবারকে সন্তুষ্ট করতে একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষকে বলি দেওয়া হতো। চাঞ্চল্যকর এই তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। দক্ষিণ-পূর্ব কোরিয়ার গিয়ংসান অঞ্চলে আবিষ্কৃত অসংখ্য কঙ্কাল বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষণাটি প্রাচীন সিলা রাজ্যের (খ্রিষ্টপূর্ব ৫৭ থেকে ৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দ) সামাজিক কাঠামো ও রীতিনীতি সম্পর্কে প্রথম বৃহৎ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গবেষকেরা জানতে পেরেছেন, প্রায় দেড় হাজার বছর আগে কোনো অভিজাত ব্যক্তির সম্মানে পরিচালিত আচার-অনুষ্ঠানে পুরো পরিবারকে বলি দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এই প্রথাকে বলা হতো ‘সুঞ্জাং’। এভাবে মূলত মৃত অভিজাত ব্যক্তির সঙ্গে জীবিত একাধিক মানুষকেও হত্যা করে সমাধিস্থ করা হতো। ধারণা করা হচ্ছে, পরকালে মৃত ব্যক্তির সেবার জন্য ওই মানুষগুলোকে উৎসর্গ করা হতো।

১৯৮২ সালে গিয়ংসানের ইমডাং-জোইয়ং সমাধিক্ষেত্রে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা প্রথমবারের মতো খননকাজ শুরু করেন। সেখানে চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ শতকের মধ্যে নির্মিত প্রায় ১ হাজার ৬০০টি সমাধি এবং ২৬০ জন মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া যায়। তবে এত দিন এই সমাধিগুলোর পারিবারিক সম্পর্ক ও সামাজিক স্তরবিন্যাস স্পষ্ট ছিল না।

সাম্প্রতিক গবেষণায় ৪৪টি সমাধি থেকে উদ্ধার করা ৭৮টি কঙ্কালের পূর্ণ জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে অন্তত ২০টি সমাধিতে সুঞ্জাং প্রথার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনটি ক্ষেত্রে একই সমাধিতে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের একসঙ্গে সমাহিত থাকার প্রমাণ মিলেছে। আর অন্তত একটি সমাধিতে পুরো পরিবার—বাবা, মা ও সন্তানকে একত্রে দাফন করা হয়েছে।

গবেষকেরা বলছেন, এই প্রথমবারের মতো জিনগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি পুরো পরিবারকে বলি দেওয়ার ঘটনা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফলাফল ইঙ্গিত দেয়, সে সময় একটি নির্দিষ্ট ‘বলিদান শ্রেণি’ বিদ্যমান ছিল, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যাদের বলি দেওয়া হতো।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, পাঁচজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে তাদের বাবা-মা ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ছিলেন। এ থেকে বোঝা যায় রাজপরিবার ও বলিদানপ্রাপ্ত উভয় গোষ্ঠীতেই নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়ের প্রচলন ছিল।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বলি দেওয়া মানুষগুলো হয়তো দাস, অনুচর বা নির্ভরশীল শ্রেণির সদস্য ছিলেন। এই গবেষণা প্রাচীন কোরিয়ার সমাজে দাসপ্রথা, সামাজিক গতিশীলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহিংসতার নতুন দিক উন্মোচন করেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পায়নি বাংলার জয়যাত্রা, শারজা বন্দরে ফিরে যাচ্ছে

আপনার জিজ্ঞাসা: হজের সময় ঋতুস্রাব শুরু হলে নারীদের করণীয়

৪০ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলের খরচ কত, ক্ষতিপূরণের আবেদনই পড়েছে ২৮২৩৭টি

ইসলামাবাদে সাজ সাজ রব: ত্রিমাত্রিক সুরক্ষা বলয়, দুই দিনের ছুটি ও ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার

ছেলেকে নিয়োগ দিতে সুন্দরগঞ্জে মাদ্রাসা সুপারের জালিয়াতি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত