Ajker Patrika

বিশৃঙ্খলা, বিরোধ আর বিতর্কে ভরা এবারের মিস ইউনিভার্স মুকুট ফাতিমার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
বিশৃঙ্খলা, বিরোধ আর বিতর্কে ভরা এবারের মিস ইউনিভার্স মুকুট ফাতিমার
মুকুট জয়ে আপ্লুত ফাতিমা বশকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন অন্য সুন্দরীরা। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ৭৪ তম মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা শেষ পর্যন্ত যে নাটকীয় মোড় নেবে, তা হয়তো কেউই ভাবেননি। নানা বিতর্ক, অভিযোগ আর অরাজকতার ঝড় পেরিয়ে অবশেষে মুকুট উঠেছে মিস মেক্সিকো ফাতিমা বশের মাথায়। কিন্তু এর আগে পুরো আয়োজনটিকে ঘিরে দেখা যায় অভূতপূর্ব বিশৃঙ্খলা।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, শুক্রবারের (২১ নভেম্বর) জমকালো ফাইনালের আগে থেকেই আয়োজকদের ব্যস্ততা ছিল ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে। এই প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোট কারচুপির অভিযোগ ছড়িয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, মিস ইউনিভার্স অর্গানাইজেশনকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে বেশ কিছু ‘ভুল তথ্য’ স্পষ্ট করতে হয়।

তবে শুধু ভোট কারচুপি নয়—গত কয়েক সপ্তাহে এই প্রতিযোগিতা ঘিরে বিচারকদের পদত্যাগ, অবমাননার অভিযোগ, প্রতিযোগীদের হাঁটতে গিয়ে পড়ে যাওয়া, এমনকি মাদকসদৃশ আচরণের ভিডিও—সব মিলিয়ে একের পর এক বিতর্কে জর্জরিত ছিল আয়োজনটি।

মাসের শুরুতেই সবচেয়ে বড় আলোচনার জন্ম দেন মিস মেক্সিকো ফাতিমা বশ। তিনি অভিযোগ করেন—থাই ডিরেক্টর নাওয়াত ইসারাগ্রিসিল তাঁকে প্রকাশ্যে ‘ডামহেড’ বা ‘মাথামোটা’ বলে অপমান করেছেন। ক্ষুব্ধ ফাতিমা প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র ছেড়ে বাইরে চলে গেলে কয়েকজন প্রতিযোগীও তাঁর সঙ্গে বেরিয়ে যান। ঘটনাটি লাইভস্ট্রিমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে ফাতিমা মত দেন—এটি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অপমানই নয়, এটি নারীর প্রতি অসম্মানের উদাহরণ, যা বিশ্বকে দেখা উচিত।

চলমান বিতর্ককে ছড়িয়ে দেন গতবারের মিস ইউনিভার্স ভিক্টোরিয়া থেইলভিগও। তিনি ফাতিমার পক্ষ নিয়ে বলেন, ‘একজন নারীকে এভাবে অপমান করার কোনো জায়গা নেই।’ এমনকি মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউমও ফাতিমাকে ‘নারীর অধিকারের পক্ষে শক্ত অবস্থানের উদাহরণ’ বলে প্রশংসা করেন।

অভিযুক্ত থাই ডিরেক্টর নাওয়াত ইসারাগ্রিসিল অবশ্য পরে প্রকাশ্যে কাঁদতে কাঁদতে ক্ষমা চান এবং দাবি করেন, তাঁর বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।

এদিকে ফাইনালের মাত্র দুদিন আগে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান ফরাসি-লেবানিজ সংগীতশিল্পী ওমর হারফুশ। তিনি অভিযোগ করেন—১৩৬ জনের মধ্য থেকে ৩০ জন প্রতিযোগীকে গোপনে আগেই বাছাই করা হয়েছে। যদিও আয়োজকেরা এই অভিযোগকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে দাবি করেন। একই দিনে ফরাসি ফুটবলার ক্লোদ ম্যাকেলেলেও বিচারকের পদ ছাড়েন।

এবারের প্রতিযোগিতার প্রাথমিক রাউন্ডেও বিপত্তি কম ছিল না। সন্ধ্যার পোশাক প্রদর্শনের সময় মিস জ্যামাইকা গ্যাব্রিয়েল হেনরি মূল মঞ্চ থেকে পড়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। মিস গ্রেট ব্রিটেনও ওই দিন পড়ে যান, যদিও পরে তিনি বলেন, এটি নাকি পরিকল্পিত ‘কোরিওগ্রাফি’ ছিল।

পাশাপাশি রাজনৈতিক উত্তেজনাও ছড়িয়ে পড়ে যখন প্রথমবারের মতো অংশ নেওয়া মিস ফিলিস্তিন নাদিন আয়্যুব জেরুসালেমের ডোম অব দ্য রকের ছবি আঁকা গাউন পরে মঞ্চে ওঠেন, আর মিস ইসরায়েল মারাত্মক হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেন।

সব বিতর্ক, উত্তেজনা আর নাটকীয়তা শেষে শুক্রবার বিকেলে মুকুট ওঠে মেক্সিকোর ফাতিমা বশের মাথায়। সপ্তাহজুড়ে অস্থিরতার পরও তিনি প্রতিযোগিতার শেষ মুহূর্তে নিজের অবস্থান দৃঢ় করেন এবং দর্শকদের সামনে তুলে ধরেন—একটি শান্ত, আত্মবিশ্বাসী ও জোরালো বার্তা।

এদিকে, এবারই প্রথম বাংলাদেশের কোনো প্রতিযোগী হিসেবে তানজিয়া জামান মিথিলা প্রতিযোগিতার শীর্ষ ৩০-এর ভেতরে ঠাঁই করে নেন। যদিও শেষদিকে সেরা ১২-এর বাছাইয়ে তিনি বাদ পড়ে যান। ধারণা করা হচ্ছে, সাঁতারের পোশাকে শীর্ষ ৩০ প্রতিযোগীর হাঁটার একটি ইভেন্টে কিছুটা হোঁচট খান মিথিলা। এই হোঁচটের জন্যই তিনি প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়েন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত