Ajker Patrika

ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে ছবি তুলছিলেন অভিযাত্রীরা, তখনই ঘটল অগ্ন্যুৎপাত

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৮ মে ২০২৬, ২১: ২০
ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে ছবি তুলছিলেন অভিযাত্রীরা, তখনই ঘটল অগ্ন্যুৎপাত
অগ্ন্যুৎপাতের পর মাউন্ট দুকোনো আগ্নেয়গিরি থেকে এভাবেই ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। ছবি: ডয়চে ভেলে

ইন্দোনেশিয়ার উত্তর মালুকু প্রদেশের হালমাহেরা দ্বীপে অবস্থিত সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট দুকোনোতে ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনায় অন্তত তিন পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়েছে। আজ শুক্রবার (৮ মে) সকালে আগ্নেয়গিরিটি বিস্ফোরিত হলে সেখানে আটকে পড়া বহু আরোহীকে উদ্ধারে জরুরি অভিযান শুরু করে দেশটির উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সিঙ্গাপুরের দুই নাগরিক ও একজন ইন্দোনেশীয় রয়েছেন।

উত্তর হালমাহেরা পুলিশের প্রধান এরলিখসন পাসারিবু জানিয়েছেন, অগ্ন্যুৎপাতের সময় মাউন্ট দুকোনোতে ২০ জন আরোহী অবস্থান করছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৯ জন বিদেশি ও ১১ জন স্থানীয় পর্যটক ছিলেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৭ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নিহত তিনজনের মরদেহ তখনো পাহাড়েই পড়ে ছিল। সন্ধ্যার পর উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয় এবং আগামীকাল শনিবার আবারও অভিযান শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাস্থলে থাকা ইন্দোনেশীয় পর্বত গাইড অ্যালেক্স জাঙ্গু জানিয়েছেন, তিনি দুই জার্মান পর্যটককে নিয়ে পাহাড়ে উঠছিলেন। একপর্যায়ে তাঁরা গভীর কম্পন অনুভব করেন। পরে ড্রোন উড়িয়ে আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ পর্যবেক্ষণ করে তাঁরা দেখতে পান, সেটি অস্বাভাবিকভাবে আগ্নেয় উপাদানে পূর্ণ হয়ে আছে। কিছুক্ষণ পর পরপর দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

জাঙ্গুর ভাষ্য অনুযায়ী, আজ সকাল ৭টা ৪১ মিনিটে বড় ধরনের অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। সে সময় কয়েকটি পর্যটক দল জ্বালামুখের কিনারায় পৌঁছে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছিল। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে পাহাড় বেয়ে পাথর ও গরম ছাই গড়িয়ে পড়তে শুরু করলে তিনি নিজের দলকে দ্রুত নিচে নামিয়ে আনেন। তবে অনেক আরোহী তখনো বিপজ্জনক এলাকায় অবস্থান করছিলেন।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, আগ্নেয়গিরি থেকে ব্যাপক ধোঁয়া ও ছাই আকাশে উঠে যাচ্ছে। উদ্ধারকর্মীদের একজন আহত ব্যক্তিকে স্ট্রেচারে করে বনের পথ ধরে নামিয়ে আনতেও দেখা গেছে।

অ্যালেক্স জাঙ্গু অভিযোগ করেন, মাউন্ট দুকোনোতে পর্যটকদের নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই। সেখানে প্রবেশ ও প্রস্থানের পথে কোনো নিরাপত্তাচৌকি বা বন পুলিশ না থাকায় ঝুঁকি বেড়ে গেছে।

ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের আগ্নেয়গিরির আশপাশে সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। উল্লেখ্য, মাউন্ট দুকোনো ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরিগুলোর একটি। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

অনলাইন জুয়ার দেড় কোটি টাকার ভাগ-বণ্টন নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাসের পর সরকারি কর্মচারীর আত্মহত্যা

এমএলএ বাগিয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা বিরোধীদের, বিজয়ের দলের বিধায়কদের গণপদত্যাগের হুমকি

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী: শুভেন্দু প্রায় নিশ্চিত, পেতে পারেন দুই ডেপুটি

র‍্যাবের তালিকা: খুলনায় ৩৩ চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী

সড়কে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই মামলা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত