
কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো রাজনীতি ছাড়ার পর এক ভিন্নধর্মী জীবন বেছে নিয়েছেন, যা প্রচলিত ধারা থেকে বেশ আলাদা। সাধারণত ক্ষমতা ছাড়ার পর বিশ্বনেতারা অপেক্ষাকৃত শান্ত, করপোরেট বা পরামর্শমূলক ভূমিকায় চলে যান। কিন্তু সেই পথে হাঁটছেন না ট্রুডো। তিনি বরং একই সঙ্গে রাজনৈতিক ভাষ্যকার, সেলিব্রিটি সঙ্গী ও বৈশ্বিক ব্র্যান্ডে পরিণত হচ্ছেন।
আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘কোচেলা’ সংগীত উৎসব থেকে ট্রুডোর একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সেখানে তিনি হাঙ্গেরির রাজনৈতিক পটপরিবর্তন নিয়ে মন্তব্য করেন। বিশেষ করে, তিনি হাঙ্গেরির দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের পতনের পর দেশটির গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা নিয়ে আশা ব্যক্ত করেন। একজন সাবেক বিশ্বনেতার কাছ থেকে এই বার্তা নতুন কিছু নয়। অবসরে থাকা বিশ্বনেতাদের প্রায়ই এই ধরনের ভাষ্য দিতে দেখা যায়। কিন্তু বার্তাটি যখন একটি ধুন্ধুমার সংগীত উৎসবের পরিবেশ থেকে দেওয়া হয়—তখনই তা ব্যতিক্রমী হয়ে ওঠে।
উৎসবে ট্রুডোর সঙ্গে ছিলেন তাঁর বর্তমান প্রেমিকা, মার্কিন পপ তারকা কেটি পেরি। তাঁরা সেখানে জাস্টিন বিবারের পারফরম্যান্স উপভোগ করছিলেন। একই দিনে পেরি সামাজিক মাধ্যমে ট্রুডোর একটি ছবি শেয়ার করেন, যেখানে তাঁকে সাধারণ পোশাকে নুডলস খেতে দেখা যায়। চিত্রটি যেন কোনো সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নয়, বরং একজন স্বচ্ছন্দ সেলিব্রিটি সঙ্গীর।
এই বৈপরীত্য ট্রুডোর বর্তমান অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে। তিনি কি একজন গভীর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, না সেলিব্রিটি—এই প্রশ্ন নতুন নয়। ট্রুডোকে দীর্ঘদিন ধরে পর্যবেক্ষণ করছেন সুসান ডেলাকোর্ট। বিষয়টি নিয়ে সুসান বলেন, এ ধরনের দ্বৈত পরিচয় ট্রুডোর ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ছিল।
ক্ষমতা ছাড়ার পর ট্রুডোর প্রথম পোস্ট ছিল একটি সাধারণ সেলফি, যেখানে তিনি কানাডিয়ান টায়ার নামে একটি দোকানে কেনাকাটা করছিলেন। এতে বোঝা গিয়েছিল, তিনি হয়তো সাধারণ জীবনে ফিরে যেতে চান। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁকে বিভিন্ন সেলিব্রিটির সঙ্গে দেখা যায়—ইয়টে, রেস্তোরাঁয়, এমনকি স্কি-রিসোর্টেও। তাঁর এসব সেলিব্রিটি সঙ্গীর মধ্যে ছিলেন প্রিন্স হ্যারি থেকে শুরু করে অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী এইলিন গু-ও।
সাধারণত কোনো প্রধানমন্ত্রী সাবেক হয়ে যাওয়ার পর তাঁরা যেসব পথ বেছে নেন, প্রায় সময়ই সেগুলো হয়—কোনো করপোরেট চাকরি, পরামর্শকের ভূমিকা কিংবা একেবারে ব্যক্তিগত জীবনে ফিরে যাওয়া। এমনকি স্টিফেন হারপারের সঙ্গে আলাপচারিতায় ট্রুডো নিজেও স্বীকার করেছিলেন—রাজনীতি-পরবর্তী জীবন কীভাবে পরিচালনা করবেন, তা নিয়ে সব নেতাই দ্বিধায় থাকেন।
তবে ট্রুডোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হলো—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিশাল অনুসারী গোষ্ঠী রয়েছে। তিনি এখনো সক্রিয়ভাবে বিশ্ব রাজনীতি নিয়ে মতামত দেন এবং সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তুলনামূলকভাবে কম বয়সী হওয়ায় (৫৪ বছর) অনেকেই তাঁকে ‘নিজের মতো করে জীবন উপভোগ করছেন’ বলেই দেখছেন।
ট্রুডোর এই সেলিব্রিটি পরিচয়ের শিকড় তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্যেও রয়েছে। তাঁর বাবা পিয়েরে ট্রুডো ছিলেন কানাডার প্রথম ‘রকস্টার’ রাজনীতিবিদদের একজন। সেই উত্তরাধিকার ট্রুডোর মধ্যেও প্রতিফলিত হয়েছে। এমনকি ক্ষমতায় থাকাকালে তাঁর ‘ভোগ’ ম্যাগাজিন কভার বা ‘রোলিং স্টোন’ ম্যাগাজিনে ‘নর্থ স্টার’ বা উত্তরের তারকা উপাধি পাওয়া নিয়ে দেশে সমালোচনাও হয়েছিল।
জাস্টিন ট্রুডোর রাজনৈতিক অর্জন নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। স্টিফেন মাহের মনে করেন, জনপ্রিয়তা কমে গেলেও ট্রুডো বাস্তবে অনেক কাজ করেছেন। বিশেষ করে, তিনি দেশের দারিদ্র্য হ্রাস, আদিবাসীদের জীবনমান উন্নয়ন এবং বহু সাংস্কৃতিক সমাজকে প্রতিফলিত করার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন।
এদিকে কানাডার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি নিজেকে একজন বাস্তববাদী টেকনোক্র্যাট হিসেবে তুলে ধরছেন, যা ট্রুডোর সেলিব্রিটি ভাবমূর্তির সঙ্গে একেবারেই বিপরীত। ফলে ট্রুডো আরও স্বাধীনভাবে নিজের পরিচয় গড়ে তুলতে পারছেন—কখনো তিনি একজন বৈশ্বিক বক্তা, আবার কখনো সেলিব্রিটি সঙ্গী।
অবসরের এক বছর পরও ট্রুডোর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার পুরোপুরি নির্ধারিত হয়নি। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—তাঁর সেলিব্রিটি ইমেজ, যা তাঁকে ক্ষমতায় এনেছিল, সেটিই সম্ভবত দীর্ঘদিন তাঁর পরিচয়ের অংশ হয়ে থাকবে।

পশ্চিমা বিশ্বের কিছু তরুণ পুরুষের মধ্যে বিদেশে গিয়ে ‘ঐতিহ্যবাহী’ স্ত্রী খোঁজার প্রবণতা বাড়ছে। বিষয়টি ‘পাসপোর্ট ব্রো’ নামে পরিচিত একটি নতুন সামাজিক প্রবণতা হিসেবে আলোচনায় এসেছে। আধুনিক ডেটিং নিয়ে হতাশা থেকে অনেকে এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
২ ঘণ্টা আগে
আইআরজিসির নৌ কমান্ডের পক্ষ থেকে জাহাজ চলাচলের জন্য যে শর্তগুলো দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো—নির্দিষ্ট রুট: কেবল বেসামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ইরানের নির্ধারিত রুট বা পথ দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে। সামরিক জাহাজে নিষেধাজ্ঞা: এই প্রণালি দিয়ে যেকোনো বিদেশি সামরিক জাহাজ চলাচল আগের মতোই কঠোরভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
২ ঘণ্টা আগে
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে এটি (ইউরেনিয়াম) উদ্ধার করতে যাচ্ছি। আমরা ইরানের সঙ্গে মিলে বেশ ধীরস্থিরভাবে সেখানে যাব এবং বড় বড় যন্ত্রপাতি দিয়ে খননকাজ শুরু করব...এরপর আমরা সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসব।’
৩ ঘণ্টা আগে
ইরান নিয়ে নিজের গৃহীত নীতিগুলোর সমালোচনা করায় যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর আবার চড়াও হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ শুক্রবার এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি সংবাদমাধ্যমগুলোকে আক্রমণ করে বলেন, তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর কাজের নেতিবাচক সমালোচনা করছে।
৩ ঘণ্টা আগে