Ajker Patrika

রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার প্রস্তাব ইউক্রেনের জেলেনস্কির

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার প্রস্তাব ইউক্রেনের জেলেনস্কির
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: এক্স

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, কিয়েভ রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে’ যেতে প্রস্তুত। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার নিউইয়র্ক সিটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকের পর তিনি এই কথা জানান। যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আরও সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়া তাঁর দেশের বিরুদ্ধে ‘নতুন করে ব্যাপক হামলার’ পরিকল্পনা করছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে থাকা জেলেনস্কি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ৪০ মিনিট বৈঠক করেন। তিনি বলেন, বৈঠকে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন বন্ধের প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে পড়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বৈঠকটিকে ‘ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন উভয়েই এই অর্থহীন রুশ যুদ্ধ শীত আসার আগেই শেষ হতে দেখতে চায়। আমরা সম্ভাব্য উত্তেজনা প্রশমনমূলক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছি, যা কূটনীতির পথ খুলে দিতে পারে।’

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় জেলেনস্কি বলেন, মস্কো যদি ইউক্রেনের জ্বালানি ব্যবস্থায় হামলা বন্ধ করে, তাহলে কিয়েভও রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে প্রস্তুত। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউক্রেন একতরফাভাবে রাশিয়ার তেলশিল্পে হামলা বন্ধ করবে, এমন কোনো আলোচনা ট্রাম্পের সঙ্গে হয়নি।

তিনি বলেন, ‘আমরা জ্বালানি যুদ্ধবিরতির জন্য প্রস্তুত। তারা যদি না চায় যে আমরা তাদের ডিজেল, শোধনাগার ইত্যাদিতে হামলা করি, তাহলে আমরা প্রস্তুত আছি—যদি তারা আমাদের জ্বালানি ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ, গরম করার ব্যবস্থা ও পানি সরবরাহে হামলা না করে।’

তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গে বৈঠকের পর টেলিগ্রামে দেওয়া পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, ‘ইউক্রেনীয়রা যখন প্রতিদিন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার হুমকির মধ্যে জীবনযাপন করছে, তখন রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে কোনো আলোচনা হতে পারে না।’ তিনি লেখেন, ‘এই মুহূর্তে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে যে রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে নতুন করে ব্যাপক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

উভয় পক্ষের কয়েক সপ্তাহ ধরে দূরপাল্লার হামলা আরও তীব্র করার পর জ্বালানি যুদ্ধবিরতির জন্য নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাশিয়া বারবার ইউক্রেনের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও বন্দর অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। এতে তাপমাত্রা কমতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে দেশটির জ্বালানি ব্যবস্থার আরও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া ইউক্রেনজুড়ে প্রায় ২০০টি ড্রোন নিক্ষেপ করে। এসব হামলায় কিয়েভের পেট্রোল স্টেশন এবং দেশের অন্যান্য স্থানে জ্বালানি ও বন্দর অবকাঠামোতে আঘাত হানে।

অন্যদিকে ইউক্রেন রাশিয়ার তেলশিল্পের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান আরও বিস্তৃত করেছে। দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে তারা শোধনাগার ও অন্যান্য জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। এসব হামলার কিছু লক্ষ্যবস্তু ইউক্রেনের সীমান্ত থেকে ৩ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত দূরে অবস্থিত। রয়টার্স বার্তা সংস্থা শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ২০ সেপ্টেম্বরের একটি হামলার ফলে মস্কো তেল শোধনাগারকে অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ বন্ধ করতে হয়। ২০২৪ সালে ওই শোধনাগারে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করা হতো।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত