Ajker Patrika

খুব নেতিবাচক কিছু শক্তি এআই নিয়ে অতিরঞ্জিত উদ্বেগ ছড়াচ্ছে: ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩: ৩৪
খুব নেতিবাচক কিছু শক্তি এআই নিয়ে অতিরঞ্জিত উদ্বেগ ছড়াচ্ছে: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে যারা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, তাদের ‘খুব নেতিবাচক শক্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এসব সমালোচক এমন সব পরিস্থিতির কথা সামনে আনছেন, যেগুলো বাস্তবে ঘটবে না। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেন এআই শিল্পে বিশ্বের শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখতে পারে, সেটিই তিনি নিশ্চিত করতে চান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, গতকাল রোববার আয়ারল্যান্ডে নিজের গলফ কোর্সে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। এআই শিল্পের অগ্রগতি ধীর করা বা এ খাতে আরও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা উচিত কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা এআইয়ে চীনের চেয়ে এগিয়ে আছি। আমরা বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক দেশ। আর সত্যি বলতে, আমি এটিই ধরে রাখতে চাই। কারণ যে এআইয়ে জয়ী হবে, জয় তারই।’

ট্রাম্প বলেন, এআইয়ের ওপর কিছু ‘গার্ডরেল’ বা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা আরোপ করা যেতে পারে। তবে তাঁর মতে, এআই নিয়ে এমন কিছু মানুষ উদ্বেগ তৈরি করছেন, যাদের তা করা উচিত নয় এবং তারা এমন সব বিষয় সামনে আনছেন, যা বাস্তবে ঘটবে না।

ট্রাম্প এর আগে থেকেই এআই নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে এআই নিয়ে জনপরিসরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। এর পেছনে বড় কারণ হলো, এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের দুই গবেষকের সতর্কবার্তা। তারা বলেছেন, দ্রুত এগিয়ে চলা এই প্রযুক্তি খুব দূরবর্তী নয় এমন ভবিষ্যতে মানবজাতির বিলুপ্তির কারণ হতে পারে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তার প্রশাসন মূলত এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সমর্থনমূলক অবস্থান নিয়েছে। এসব এআই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ অন্যান্য প্রযুক্তি কোম্পানিও ট্রাম্পের বিভিন্ন উদ্যোগে সমর্থন দিয়েছে।

এদিকে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে এআই খাতের নির্বাহীরা বিপুল অর্থ ঢালছেন। ওই নির্বাচনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে। বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের সুপার প্যাক ‘আমেরিকা প্যাক’ ইতোমধ্যে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে কয়েক মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। চলতি শরতে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসার প্রচেষ্টায় এই সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে চলতি বছর পেন্টাগন অ্যানথ্রপিকের একটি মডেল থেকে সৃষ্ট ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেছে। গবেষকদের সতর্কবার্তার পর কিছু এআই প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী দ্রুতগতিতে এআই মডেলের উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে এর গতি কমানোর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। শনিবার অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দারিও আমোদেই এআই উন্নয়নের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং এর ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য আরও সময় তৈরি করতে তিন ধাপের একটি কাঠামো তুলে ধরেন।

তাঁর এই প্রস্তাব প্রকাশের পরই মাস্ক এবং ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যানসহ বড় কয়েকটি এআই প্রতিষ্ঠানের আরও কয়েকজন শীর্ষ নির্বাহী এতে সমর্থন জানান। রোববার প্রচারিত সিবিএসের অনুষ্ঠান ‘ফেস দ্য নেশন উইথ মার্গারেট ব্রেনান’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আমোদেই বলেন, এআই উন্নয়নের জন্য একটি ‘গতিসীমা’ নির্ধারণের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের এআই কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা হলো ‘সবচেয়ে কঠিন দ্বিধা।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের নিজেদের সঙ্গে মিথ্যা বলা উচিত নয়। কারণ এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রণোদনা এবং এর মাধ্যমে যে সামরিক সুবিধা পাওয়া যায়, তা এত বড় যে অন্য পক্ষ নিয়ম ভঙ্গ করছে কি না, তা যাচাই করার সক্ষমতা অবশ্যই কঠোর ও নির্ভরযোগ্য হতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তাই আমি মনে করি, এটি নিয়ে কাজ করতে কয়েক বছর সময় লাগবে। আর সত্যি বলতে, এটি আদৌ সম্ভব কি না, তা আমি জানি না।’

অ্যানথ্রপিকের সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সনও এআই উন্নয়নের গতি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রকে অন্যান্য দেশের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সেই দুই গবেষকের একজন, যারা প্রতিষ্ঠানটি থেকে পদত্যাগের পর এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। রোববার এনবিসির অনুষ্ঠান ‘মিট দ্য প্রেস’-এ কক্সন বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমাদের আন্তর্জাতিক সমন্বয় প্রয়োজন। তা না হলে আমরা চীনের সঙ্গে একই দৌড়ে নেমে পড়ার ঝুঁকিতে থাকব, যা সমানভাবে বিপজ্জনক হতে পারে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত