Ajker Patrika

মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নিলেও বিপদ কাটেনি বিজয়ের, মুখোমুখি হতে হবে আস্থা ভোটের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নিলেও বিপদ কাটেনি বিজয়ের, মুখোমুখি হতে হবে আস্থা ভোটের
বিজয় থালাপতি। ছবি: সংগৃহীত

বিধানসভা নির্বাচনে চমক দেখিয়ে জয়ের পর তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেও বিপদ এখনো কাটেনি অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া থালাপতি বিজয়ের। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেও তাঁকে আগামী ১৩ মের আগেই বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে। তবে আস্থা ভোটের আনুষ্ঠানিক তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, গত রোববার বিজয়ের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে টানা ৪ দিন ধরে জটিল রাজনৈতিক দরকষাকষি চলেছে। কারণ, তাঁর দল টিভিকে বা তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) এমন এক নজিরবিহীন জনসমর্থন পেয়েছে, যা তামিলনাড়ুর পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে চলে আসা দ্বিমুখী রাজনৈতিক সমীকরণকে ভেঙে দিয়েছে।

তবে ১১৮ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা ছোঁয়ার পথ মোটেও সহজ ছিল না। শুরুতে বিজয়ের দল টিভিকে কেবল কংগ্রেসকেই সম্ভাব্য মিত্র হিসেবে পাশে পেয়েছিল। কিন্তু কংগ্রেসের ছিল মাত্র পাঁচজন বিধায়ক। বাকি দলগুলো—যেমন সিপিআই, সিপিএম ও পিএমকে, কয়েক দিন ধরে টিভিকেকে অনিশ্চয়তায় রেখে শেষ পর্যন্ত সমর্থনে রাজি হয়। ভিসিকে তাদের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখে, অন্যদিকে আইইউএমএল সমর্থন দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানায়। এদিকে এএমএমকে অভিযোগ তোলে, টিভিকে নাকি মান্নারগুড়ির তাদের একমাত্র বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করে এমন দেখানোর চেষ্টা করেছে যে তিনি সমর্থন দিচ্ছেন।

এমন খবরও ছড়ায় যে, গত পাঁচ দশকের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ডিএমকে ও এআইএডিএমকে নাকি বিজয় ও কংগ্রেসকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে একজোট হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর জবাবে টিভিকে ঘোষণা দেয়, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে দলের প্রতিটি বিধায়ক পদত্যাগ করবেন।

অন্যদিকে গভর্নর আরভি আরলেকার বিজয়কে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাতে প্রস্তুত ছিলেন না। তাঁর দাবি ছিল, বিজয়ের হাতে পর্যাপ্ত সংখ্যা নেই। এমনকি আরলেকর বিজয়ের কাছে সমর্থন দিতে প্রস্তুত দল ও বিধায়কদের তালিকাও চেয়েছিলেন। এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

শেষ পর্যন্ত সিপিআই ও সিপিএম ডিএমকে নেতৃত্বাধীন সেক্যুলার প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্সের শরিক থাকলেও তারা টিভিকেকে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। দলগুলোর যুক্তি, ‘গভর্নরের শাসন এড়াতে, বিজেপিকে রাজ্যে প্রবেশের সুযোগ না দিতে এবং ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষার জন্য’ এই সমর্থন প্রয়োজন। এরপর ভিসিকে ও আইইউএমএলও একই পথে হাঁটে। তবে সব দলই স্পষ্ট করে জানায়, তারা ডিএমকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করছে না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত