
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘লক্ষ্য করে’ হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক নৈশভোজে হামলার চেষ্টার প্রায় এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও, সিক্রেট সার্ভিস অফিসারের ওপর গুলি চালানোর বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) ওয়াশিংটন হিলটনে বন্দুক হামলার সময় ঠিক কার গুলিতে ওই কর্মকর্তা আহত হয়েছিলেন, তা নিয়ে প্রসিকিউটর ও তদন্তকারী সংস্থাগুলোর পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে নতুন আইনি জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।
সেদিন রাতে ওয়াশিংটন হিলটনের গ্ল্যামারাস পরিবেশে যখন মার্কিন সংবাদমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন, তখনই ৩১ বছর বয়সী কোল টমাস অ্যালেন নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল এবং ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) এক হাইপ্রোফাইল সংবাদ সম্মেলনে জানান, সন্দেহভাজন অ্যালেন একটি সেমি-অটোমেটিক হ্যান্ডগান, একটি পাম্প-অ্যাকশন শটগান এবং তিনটি ছুরি নিয়ে সজ্জিত ছিলেন। ম্যাগনেটোমিটার বা মেটাল ডিটেক্টর পার হওয়ার সময় তিনি গুলি ছুড়তে শুরু করেন।
ঘটনার পরপরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই প্রথম জনসম্মুখে জানান, একজন সিক্রেট সার্ভিস অফিসার আহত হয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘খুবই কাছ থেকে একটি শক্তিশালী অস্ত্র দিয়ে ওই এজেন্টকে গুলি করা হয়েছে।’ পরবর্তীকালে জানা যায়, ওই কর্মকর্তা বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে থাকায় তাঁর বুকে একটি গুলি লাগলেও তিনি বড় ধরনের জখম থেকে বেঁচে যান। তবে আদালত বা পেন্টাগন থেকে সরাসরি অ্যালেনের গুলিতেই ওই কর্মকর্তা আহত হয়েছেন কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো বয়ান আসেনি।
ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ গত রোববার (২৬ এপ্রিল) সিবিএস নিউজকে জানিয়েছিলেন, হামলাকারীই অফিসারকে গুলি করেছে বলে তাঁরা বিশ্বাস করেন। কিন্তু সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে তিনি কিছুটা সতর্ক অবস্থান নেন। ব্যালিস্টিক রিপোর্টের জন্য সময় চেয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে এখনো তদন্ত করছি এবং চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হতে চাই যে গুলিটি কার অস্ত্র থেকে বের হয়েছিল।’
আদালতে জমা দেওয়া চার্জশিটে অ্যালেন শটগান চালিয়েছিলেন এমন উল্লেখ থাকলেও, সেখানে সুনির্দিষ্টভাবে ‘অফিসারকে আহত করার’ অভিযোগটি এখনো যোগ করা হয়নি। সাবেক মার্কিন অ্যাটর্নি মার্ক লেসকোর মতে, সরকারের কাছে এখনো চূড়ান্ত ব্যালিস্টিক প্রমাণ না থাকায় তারা এই অভিযোগ আনতে ইতস্তত করছে।
তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে যখন ওয়াশিংটন ডিসির ইউএস অ্যাটর্নি জেনিন পিরো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি নতুন সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করেন। ফুটেজে দেখা যায়, অ্যালেন শটগান হাতে দৌড়াচ্ছেন এবং একপর্যায়ে তীব্র আলো বা ‘মাজল ফ্ল্যাশ’ দেখা যায়। তবে একই সময়ে কর্তব্যরত সিক্রেট সার্ভিস অফিসারও তাঁর অস্ত্র থেকে পাঁচটি গুলি ছুড়েছিলেন। পিরো দৃঢ়ভাবে দাবি করেছেন, এটি কোনোভাবেই ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ (সহকর্মীর গুলিতে আহত হওয়া) ছিল না। সিক্রেট সার্ভিস ডিরেক্টর শন কারানও ফক্স নিউজকে বলেন, ‘আমি যা দেখেছি তাতে এটি স্পষ্ট যে হামলাকারী পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে আমাদের অফিসারকে গুলি করেছে।’
কোল অ্যালেনের আইনজীবীরা এই তথ্যগত অমিলকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। তাঁরা আদালতের নথিতে উল্লেখ করেছেন, সরকার শুরুতে অফিসারের ওপর গুলির কথা বললেও পরবর্তী মেমোরেন্ডামে তা এড়িয়ে গেছে। তাঁদের দাবি, প্রসিকিউশনের এই অস্পষ্টতা প্রমাণ করে যে তাঁদের কাছে অ্যালেনের বিরুদ্ধে সরাসরি গুলি চালানোর কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ব্যালিস্টিক রিপোর্ট এবং ফরেনসিক প্রমাণাদি চূড়ান্ত করতে আরও কয়েক সপ্তাহ বা মাস সময় লাগতে পারে। ততদিন পর্যন্ত ট্রাম্পের প্রেস ডিনারের এই ‘শুটিং রহস্য’ মার্কিন রাজনীতি ও নিরাপত্তা মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। তবে বিশেষজ্ঞ লেসকো মনে করেন, অফিসারকে গুলি করার বিষয়টি প্রমাণিত না হলেও, বেআইনি অস্ত্র এবং হত্যার চেষ্টার যে চার্জগুলো অ্যালেনের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে, তা তাঁকে আজীবন জেলে রাখার জন্য যথেষ্ট।
তথ্যসূত্র: বিবিসি

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন আইন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হামিদরেজা হাজি-বাবাই জানিয়েছেন, এই নতুন আইনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে ইসরায়েলি জাহাজসহ শত্রুদেশের যেকোনো নৌযানের চলাচল পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হবে।
৭ ঘণ্টা আগে
শান্তি আলোচনা যখন স্থবির হয়ে পড়ছে, তখন এই অবরোধের প্রভাবকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে চাইছে পেন্টাগন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরান নীতিতে এই অবরোধই যুদ্ধের ইতি টানার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় কৌশলগত হাতিয়ার।
৯ ঘণ্টা আগে
ট্রাম্প তাঁর সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা তাদের জাহাজের ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়ি এবং সেটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিই। আমরা কার্গো এবং তেল জব্দ করেছি। এটি একটি অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা।’ উল্লসিত জনতার উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অনেকটা জলদস্যুদের মতো আচরণ করছি।’
৯ ঘণ্টা আগে
মাছ ধরার সময় জেলের ছিপের সুতা একটি ঝোপের মধ্যে আটকে যায়। সুতা ছাড়াতে তিনি যখন ঝোপের ভেতর প্রবেশ করেন, তখন তীব্র দুর্গন্ধ পান। প্লাস্টিকের ব্যাগটি খোলা ছিল এবং ভেতরে লোনাপানি প্রবেশ করেছিল। তিনি বুঝতে পারেন, ভেতরে মানুষের দেহাবশেষ রয়েছে। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানান এবং তারা এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
৯ ঘণ্টা আগে