Ajker Patrika

সাত বছর পর চীন সফরে যাচ্ছেন ব্রিটিশ এমপিরা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৮ মে ২০২৬, ১৮: ২২
সাত বছর পর চীন সফরে যাচ্ছেন ব্রিটিশ এমপিরা
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বেইজিং সফর করেন। ছবি: এএফপি

দীর্ঘ সাত বছর পর এই প্রথম ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একটি সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল চীন সফরে যাচ্ছে। গত জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বেইজিং সফরের পর দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবেই এই সফরের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে।

জানা গেছে, চলতি মাসের মাঝামাঝিতে পাঁচ দিনব্যাপী এই সফরে লেবার ও কনজারভেটিভ পার্টির ১২ জন এমপি অংশ নেবেন। সফরটির আয়োজন করছে ‘গ্রেট ব্রিটেন-চীন সেন্টার’। এটি মূলত যুক্তরাজ্যের ‘ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস’ (এফসিডিও) দ্বারা পরিচালিত একটি বেসরকারি সংস্থা, যা চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সফরের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলমান থাকায় সফরে অংশ নেওয়া এমপিদের নাম ও ভ্রমণের বিস্তারিত সূচি এখনই প্রকাশ করা হয়নি।

করোনা মহামারি, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গুপ্তচরবৃত্তির পাল্টাপাল্টি অভিযোগে বিগত বছরগুলোতে লন্ডন ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক বেশ সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে ২০২১ সালে জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলায় কনজারভেটিভ পার্টির সাবেক নেতা ইয়ান ডানকান স্মিথসহ ৯ জন ব্রিটিশ নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল চীন।

তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার চীন সফর করে দেশটির প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই সময় উভয় পক্ষই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘রিসেট’ বা নতুন করে সাজানোর ঘোষণা দেয়। এর ধারাবাহিকতায় বেইজিং গত জানুয়ারি মাসে ছয়জন ব্রিটিশ এমপির (বর্তমান) ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এরপরই সংসদীয় পর্যায়ে এই নতুন কূটনৈতিক যোগাযোগের দ্বার উন্মোচন করা হলো।

এদিকে যুক্তরাজ্য ও চীনের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের এই স্থবিরতার মধ্যেও ২০২২ সাল থেকে এ পর্যন্ত ব্রিটিশ আইনপ্রণেতারা স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানে নয়বার সফর করেছেন। দ্বীপটিকে চীন নিজেদের অংশ বলে দাবি করে। তবে চীনের এই দাবি তাইওয়ান বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

গত মার্চ মাসে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৯ জন সদস্যও চীন সফর করেছেন। ২০১৫ সালে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আট বছর পর ইউরোপের সঙ্গেও চীনের এই সংসদীয় সম্পর্ক পুনরায় শুরু হলো।

সম্পর্ক মেরামতের এই উদ্যোগের সমান্তরালে দুই দেশের মধ্যে একধরনের উত্তেজনাও বিরাজ করছে। লন্ডনে চীনের একটি বিশালাকার নতুন দূতাবাস বা ‘মেগা-অ্যাম্বাসি’ নির্মাণ পরিকল্পনা এবং গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাজ্যের একটি আদালত হংকং ও চীনের হয়ে ব্রিটেনে অবস্থানরত গণতন্ত্রপন্থী ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর নজরদারি ও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দ্বৈত নাগরিকত্বধারী (ব্রিটিশ ও চীনা) হলেও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। লন্ডনে অবস্থিত চীনা দূতাবাসও একে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে দাবি করেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

অনলাইন জুয়ার দেড় কোটি টাকার ভাগ-বণ্টন নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাসের পর সরকারি কর্মচারীর আত্মহত্যা

এমএলএ বাগিয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা বিরোধীদের, বিজয়ের দলের বিধায়কদের গণপদত্যাগের হুমকি

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী: শুভেন্দু প্রায় নিশ্চিত, পেতে পারেন দুই ডেপুটি

র‍্যাবের তালিকা: খুলনায় ৩৩ চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী

সড়কে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই মামলা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত