Ajker Patrika

বদলে গেল মমতার দলের নাম ও প্রতীক, বিদ্রোহীরাও পেল নতুন পরিচয়

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ৩৯
বদলে গেল মমতার দলের নাম ও প্রতীক, বিদ্রোহীরাও পেল নতুন পরিচয়
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের দুই অংশের নাম ও প্রতীক সাময়িকভাবে বদলে দিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। ছবি: সংগৃহীত

তৃণমূল কংগ্রেসের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীকে আলাদা নাম ও নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন দুই গোষ্ঠী নতুন পরিচয় ও প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে। আগামী ৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোট গণনা হবে ৯ অক্টোবর। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

ভারতের নির্বাচন কমিশন অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খাম’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন আজ শুক্রবারের আদেশে জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও ত্রিপুরা এই তিন রাজ্যে উভয় গোষ্ঠীকেই স্বীকৃত রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই সিদ্ধান্তের আগে গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন একটি অন্তর্বর্তী আদেশ দিয়েছিল। দলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধের মধ্যে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আসন্ন উপনির্বাচনে কোনো গোষ্ঠীকেই মূল দলের নাম বা প্রতীক ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এর মধ্যে ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনও রয়েছে। সাম্প্রতিক আদেশে চলমান নির্বাচনে ইতিমধ্যে জমা দেওয়া মনোনয়ন নিয়েও সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন বলেছে, রেজিনগর, নন্দীগ্রাম ও নাগাঁওয়ে দুই গোষ্ঠীর অনুমোদিত প্রার্থীদের নিজ নিজ নতুন দলীয় নাম ও প্রতীকের অধীনেই বিবেচনা করা হবে। তবে এ ক্ষেত্রে ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন (Representation of the People Act, 1951)-এর ৩৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি শর্ত পূরণ করতে হবে।

কমিশন আরও জানিয়েছে, এই নাম ও প্রতীক বরাদ্দ ‘সাময়িক।’ নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের মূল বিষয় হলো দলের সাংগঠনিক কর্তৃত্ব, ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটির বৈধতা এবং দলীয় পদাধিকারীদের নিয়োগ নিয়ে দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবি।

অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীর সমর্থন পেয়েছে। তারা বিদ্যমান ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের দাবি, এই কমিটির মেয়াদ ২০২৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়ে গেছে। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী এই প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের বক্তব্য, প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর দাবি এবং দলীয় পদাধিকারীদের নির্বাচন দলের সংবিধানের পরিপন্থী।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যগুলোর মধ্যে সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের বক্তব্যও রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, দলের সংবিধানে সংশোধন এনে ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি এবং অন্যান্য সাংগঠনিক সংস্থার মেয়াদ তিন বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করা হয়েছে। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী ওই সংশোধনগুলোর বৈধতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের বৃহস্পতিবারের আদেশে বলা হয়েছিল, কোন গোষ্ঠী স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করছে, তা নির্ধারণের জন্য ‘Election Symbols (Reservation & Allotment) Order, 1968 ’-এর ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। সেই সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত উভয় গোষ্ঠীকে নিজেদের পছন্দের তিনটি করে নাম এবং অবাধ বা ফ্রি প্রতীক জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। আজ শুক্রবারের নতুন আদেশে সেই প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই দুই গোষ্ঠীকে পৃথক নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করা হলো।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত