Ajker Patrika

হরমুজ খুলবে ইরান, টোল থেকে পুষিয়ে নেবে যুদ্ধের ক্ষতি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২: ৫৮
হরমুজ খুলবে ইরান, টোল থেকে পুষিয়ে নেবে যুদ্ধের ক্ষতি
ফাইল ছবি

হরমুজ প্রণালি আর কখনোই যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরবে না। আজ সোমবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এমন ঘোষণা দিয়েছে ইরানি নৌবাহিনীর কমান্ড। প্রণালিটি তখনই উন্মুক্ত করা হবে, যখন যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের আরোপিত যুদ্ধের কারণে ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক মূল্য উঠে আসবে সেখান দিয়ে যাতায়াত করা নৌযানের ফি থেকে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভির খবরে বলা হয়েছে, ইরানের নৌবাহিনী কমান্ডের এক্স পোস্টে বলা হয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী বর্তমানে পারস্য উপসাগরে একটি ‘নতুন শৃঙ্খলা’ প্রতিষ্ঠার জন্য অপারেশনাল প্রস্তুতি সম্পন্ন করার শেষ ধাপে রয়েছে। এতে জোর দিয়ে বলা হয়, এই প্রণালি স্থায়ীভাবে বদলে যাবে, ‘বিশেষ করে আমেরিকা ও ইসরায়েলের জন্য।’

বিবৃতিতে আইআরজিসি নৌবাহিনী কমান্ড জানায়, এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথে বিদেশি আধিপত্যের যুগ নিশ্চিতভাবেই শেষ হয়ে গেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ঘটনাপ্রবাহ একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বহিরাগত শক্তিগুলো আর ইরানের নিকটবর্তী সামুদ্রিক পরিবেশে নিজেদের শর্ত চাপিয়ে দিতে বা বাধাহীন প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না।

আইআরজিসি নৌ কমান্ড আরও জানায়, ইরান তার সার্বভৌমত্ব ও পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং যেকোনো অস্থিতিশীলতামূলক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে। বিবৃতিতে আরও প্রকাশ করা হয়, শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাদের আগে ঘোষিত সমন্বিত পরিকল্পনার চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছেছে আইআরজিসি নৌবাহিনী। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো পারস্য উপসাগরে একটি নতুন, নিজস্ব নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা। এর ভিত্তি হলো—এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোই, কোনো বহিরাগত শক্তির উসকানিমূলক ও অবৈধ উপস্থিতি ছাড়া।

এই প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে নৌবাহিনীর উপস্থিতি জোরদার করা, উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা স্থাপন, এবং সমন্বিত দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা গড়ে তোলা। এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো ইরানের জলসীমা সুরক্ষিত রাখা এবং প্রণালি দিয়ে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ নিশ্চিত করা—যে দায়িত্ব ইরান বারবার বিদেশি উসকানির মাঝেও পালন করে আসছে।

ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা বারবার সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্ররা যদি এই নতুন ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করে বা আবার সামরিক আধিপত্য চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী দ্রুত, দৃঢ় ও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া জানাবে।

এর আগে, গতকাল রোববার রাতে ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের যোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা সাইয়্যেদ মোহাম্মদ মেহদি তাবাতাবাঈ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি ও প্রণালি খুলে দেওয়ার আল্টিমেটামের জবাবে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের কিছু পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

নিজের এক্স পোস্টে তাবাতাবাঈ বলেন, ট্রাম্প ‘চরম হতাশা থেকে...অশালীন ভাষা ও উন্মত্ততার আশ্রয় নিয়েছেন।’ তিনি আরও লেখেন, প্রণালি তখনই পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে, যখন ‘আরোপিত যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি ট্রানজিট টোলের আয়ের একটি অংশ থেকে সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিপূরণ করা হবে।’

বর্তমানে ইরান বাছাই করা কিছু অ–ইরানি জাহাজকে প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে। তবে এর জন্য কিছু ক্ষেত্রে সাত অঙ্কের ফি অর্থাৎ ১০ লাখ ডলারের বেশি পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

আইআরজিসি নৌবাহিনীর এই বিবৃতি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে হুমকি দিয়েছেন। চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরও জোরদার করেছে। এই বিধিনিষেধের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে এর প্রভাব ইতিহাসের অন্যতম উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

ইরানি কর্তৃপক্ষ ইঙ্গিত দিয়েছে, বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথ—যেখানে যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো—তা সবার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজের জন্য নয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

চৈত্রসংক্রান্তিতে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে সাধারণ ছুটি

ইরানের বিক্ষোভকারীদের অস্ত্র পাঠিয়েছিলাম, কুর্দিরা মেরে দিয়েছে: ট্রাম্প

সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলন ঠেকাতে আইন পাস, ‘অসদাচরণে’ কঠোর শাস্তির বিধান

পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন আর্টেমিস নভোচারীদের ৪০ মিনিট, কী ঘটবে তখন

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী আ.লীগের মন্ত্রীদের মতো উত্তর দিয়েছেন: বিএনপির এমপি মনিরুল

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত