Ajker Patrika

পাত্তা পেল না ভারতের উদ্বেগ, হরমুজে ‘অবরোধ ভঙ্গের চেষ্টা সহ্য করবে না’ যুক্তরাষ্ট্র

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৪ জুন ২০২৬, ১১: ১৯
পাত্তা পেল না ভারতের উদ্বেগ, হরমুজে ‘অবরোধ ভঙ্গের চেষ্টা সহ্য করবে না’ যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ছবি: এএফপি

ওমান উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে ফোন করে কড়া প্রতিবাদ জানান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে এ ধরনের ‘প্রাণঘাতী পদক্ষেপের’ কোনো যৌক্তিকতা নেই। গত শুক্রবার দুই নেতার মধ্যে এই ফোনালাপ হয়। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

পরে শনিবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় জয়শঙ্কর জানান, তিনি রুবিওর সঙ্গে কথা বলে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ভারতের শক্ত অবস্থান তুলে ধরেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, রুবিও জোর দিয়ে বলেছেন—বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর নির্দেশনা মেনে চলতে হবে এবং ইরানের বন্দর অবরোধ ভঙ্গের চেষ্টা ‘সহ্য করা হবে না।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জয়শঙ্কর লেখেন, ‘আজ (শুক্রবার) সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা হয়েছে। আমি আবারও উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর হামলার বিরুদ্ধে ভারতের জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছি, যে হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাণিজ্যিক নৌপরিবহনের বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রাণঘাতী পদক্ষেপের কোনো যৌক্তিকতা নেই।’ একই সঙ্গে নয়াদিল্লির অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা গ্রহণযোগ্য নয়।

তবে এই ফোনালাপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত বিবৃতিতে ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যু কিংবা ভারতের উদ্বেগের বিষয়ে কোনো সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। বরং সেখানে ইরানের বন্দর অবরোধ কার্যকর করার প্রশ্নে ওয়াশিংটনের অবস্থান তুলে ধরা হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, দুই নেতা ‘হরমুজ প্রণালির সাম্প্রতিক ঘটনাবলি’ নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ সময় রুবিও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর নির্দেশনা সব বাণিজ্যিক জাহাজকে অবিলম্বে মেনে চলতে হবে।’

রুবিও আরও জোর দিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ভঙ্গ এবং ইরানি তেলের অবৈধ পরিবহন কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।’

এদিকে ফোনালাপের কয়েক ঘণ্টা আগে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তিন দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত জেসন মিকসকে তলব করে। ভারতীয় নাবিক বহনকারী বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন হামলার ঘটনায় আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর দেশের বাইরে থাকায় মিকস ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করছেন। ভারতের অতিরিক্ত পররাষ্ট্রসচিব (আমেরিকা বিভাগ) নাগরাজ নাইডু তাঁর কাছে ভারত সরকারের উদ্বেগ তুলে ধরেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ওমান উপসাগরে ভারতীয় নাবিক বহনকারী বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন নৌবাহিনীর ধারাবাহিক হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এসব হামলায় ইতিমধ্যে তিন ভারতীয় নাগরিকের মর্মান্তিক এবং এড়ানো সম্ভব ছিল এমন মৃত্যু ঘটেছে।’ ভারতীয় পক্ষ আবারও বেসামরিক নৌযানে ‘প্রাণঘাতী ও মারাত্মক শক্তি প্রয়োগ’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানায়। তাদের ভাষ্য, এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি একটি সংবেদনশীল সময়ে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

ভারত মিকসকে অনুরোধ করেছে, তিনি যেন ভারতের উদ্বেগ মার্কিন প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেন এবং অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন বাহিনী যেন বেসামরিক প্রাণহানি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয় তা নিশ্চিত করেন। এর এক দিন আগে বৃহস্পতিবার ওমানের শিনাস বন্দরের কাছে ২০ ভারতীয় নাবিক বহনকারী ট্যাংকার এমটি জলভিরকে লক্ষ্য করে মার্কিন বাহিনী হামলা চালায়। এরপরই আবার মিকসকে তলব করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের বন্দর অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করার অভিযোগে তারা এই সপ্তাহে তিনটি জাহাজকে ‘অচল’ করতে অভিযান চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৮ জুন এমটি মারিভেক্স, ৯ জুন এমটি সেট্টেবেলো এবং ১১ জুন এমটি জলবীর।

জলবীরকে অচল করতে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তিনটি জাহাজের কোনোটিই ভারতীয় পতাকাবাহী ছিল না। মারিভেক্স ও সেট্টেবেলো পালাউর পতাকাবাহী এবং জলভির ছিল গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী। তবে তিনটি জাহাজেই ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন।

এই সপ্তাহে ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় নাবিক বহনকারী তিনটি বিদেশি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হন। এতে ভারতে জনরোষ সৃষ্টি হয়েছে। ওমানের সশস্ত্র বাহিনী তিনটি জাহাজ থেকেই ৬০ জনের বেশি ভারতীয় নাবিককে উদ্ধার করেছে।

এদিকে এমটি সেট্টেবেলোর তিন ভারতীয় নাবিক, যাঁদের আগে নিখোঁজ বলা হয়েছিল, তাঁদের বৃহস্পতিবার মৃত ঘোষণা করা হয়। নিহত ব্যক্তিদের একজন ২৩ বছর বয়সী আদিত্য শর্মা। হিমাচল প্রদেশের বাসিন্দা তিনি ডেক ক্যাডেট হিসেবে কাজ করছিলেন এবং লাইসেন্সধারী জাহাজ কর্মকর্তা হওয়ার প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত