Ajker Patrika

গাজায় এক ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে মিলল ১৯ মরদেহ, বেশির ভাগই নারী-শিশুর

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
গাজায় এক ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে মিলল ১৯ মরদেহ, বেশির ভাগই নারী-শিশুর
এখনো ৮ হাজারের বেশি মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ছবি: আনাদোলু

গাজায় একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশুর বলে জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স।

শনিবার এক বিবৃতিতে এই উদ্ধার কাজ শেষ হওয়ার কথা জানায় সিভিল ডিফেন্স। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মরদেহ উদ্ধারে ধীরগতিতে চলা এবং মূলত হাতে পরিচালিত কার্যক্রমের সর্বশেষ ঘটনা এটি। ভেঙে পড়া কংক্রিট সরাতে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির তীব্র সংকটের কারণে এসব উদ্ধারকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

উদ্ধার অভিযানের তদারককারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু দান জানান, টানা চার দিন ধরে তল্লাশি চালানো হয়েছে গাজার পশ্চিমাঞ্চলের ‘কারাম’ ভবনে। অবশেষে সেখানে উদ্ধার তৎপরতা শেষ হলো। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা এখন গাজার অন্য কোথাও তল্লাশি ও উদ্ধারকাজ শুরু করবে।

এর আগে মঙ্গলবার গাজা সিটিতে একটি গণদাফন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আবু শারিয়া ও আল-হাসাইনা পরিবারের ১১২ জনের মরদেহ দাফন করা হয়। তাঁদের মরদেহ গাজার সাবরা এলাকার একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের নভেম্বরে ইসরায়েলি হামলায় ভবনটি ধ্বংস হয়েছিল।

পুরো উপত্যকাজুড়ে এখনো ৮ হাজারের বেশি মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এদিকে সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা বারবার বলছেন, ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে উদ্ধারকর্মীরা ইসরায়েলি হামলায় ভেঙে পড়া কংক্রিটের স্তূপ সরাতে সাধারণ সরঞ্জাম এবং অতিরিক্ত কায়িক শ্রমের ওপর নির্ভর করছেন। যার ফলে উদ্ধারকাজ পিছিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমান কার্যক্রমটি সিভিল ডিফেন্সের মরদেহ উদ্ধারের প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের অংশ। গত ১৯ জুলাই এ প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়। এই প্রকল্প শুরুর সময় সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানিয়েছিলেন, এই ধাপে ৮০০ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালানো হবে। গাজা, উত্তর গাজা ও মধ্য গাজার গভর্নরেটগুলোর ১৪৭টি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে আনুমানিক ১ হাজার ৭২টি মরদেহ চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাসাল বলেন, ‘খুবই সীমিত’ সম্পদ নিয়ে এই কাজ চালানো হচ্ছে। তাদের কাছে রয়েছে একটি খননযন্ত্র, একটি বুলডোজার ও একটি ট্রাক। আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি এ কাজে সহায়তা করছে।

২০২৫ সালের নভেম্বরে শুরু হওয়া প্রকল্পের প্রথম ধাপে ৫৪টি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ি ও ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৩৩৩টি মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করে উদ্ধারকারী দলগুলো। তবে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে প্রায় ২২৬টি মরদেহ তখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয় ২০২৫ সালের অক্টোবরে জানিয়েছিল, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনিকে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ ধসে পড়া ভবনের নিচে চাপা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবার কারও পরিণতি এখনো জানা যায়নি।

২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপে মরদেহ উদ্ধারের কাজে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি গাজায় প্রবেশের সুযোগ ইসরায়েলের দেওয়ার কথা ছিল। তবে গাজার কর্তৃপক্ষ ও ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলো বলছে, ইসরায়েল তা করেনি।

মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের ১১ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় অন্তত ১ হাজার ২৫৪ জন নিহত ও ৪ হাজার ১২১ জন আহত হয়েছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৮০৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ। এ সময়ে ধ্বংস হয়েছে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত