Ajker Patrika

সিরিয়ায় কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে সৌদি আরব, চুক্তি স্বাক্ষর

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯: ৪৫
সিরিয়ায় কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে সৌদি আরব, চুক্তি স্বাক্ষর
সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল–শারা। ছবি: এএফপি

সিরিয়ার নতুন সরকার ১৪ বছরের বিধ্বংসী গৃহযুদ্ধের পর দেশ পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায় সৌদি আরবের সঙ্গে বিমান চলাচল, জ্বালানি, আবাসন এবং টেলিযোগাযোগ খাত মিলিয়ে বড় ধরনের বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

গতকাল শনিবার সিরিয়ান ইনভেস্টমেন্ট অথরিটির প্রধান তালাল আল-হিলালি একগুচ্ছ চুক্তির ঘোষণা দেন। এর মধ্যে রয়েছে—আলেপ্পোতে একটি নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ, একটি সিরীয়-সৌদি সাশ্রয়ী এয়ারলাইন চালু করা এবং ‘সিল্কলিঙ্ক–SilkLink’ নামক টেলিযোগাযোগ প্রকল্প, যার লক্ষ্য সিরিয়াকে একটি আঞ্চলিক হাবে পরিণত করা।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর সিরিয়ার নতুন সরকারের অন্যতম প্রধান সমর্থক হিসেবে আবির্ভূত হয় সৌদি আরব। ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর এই চুক্তিটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।

সৌদি বিনিয়োগমন্ত্রী খালিদ আল-ফালিহ জানান, নবগঠিত এলাফ তহবিল, যা সৌদি বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে বড় মাপের প্রকল্পে অর্থায়নের লক্ষ্য নিয়ে তৈরি, সিরিয়ার আলেপ্পো শহরে দুটি বিমানবন্দর উন্নয়নে ২ বিলিয়ন ডলার (৭.৫ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল) বরাদ্দ করবে।

সিরিয়ার যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আবদুস সালাম হায়কাল বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। এর আওতায় এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সংযোগ বৃদ্ধিতে হাজার হাজার কিলোমিটার কেব্‌ল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

সৌদি আরবের বাজেট এয়ারলাইন ফ্লাইনাস এবং সিরিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ 'ফ্লাইনাস সিরিয়া' নামে একটি নতুন এয়ারলাইন প্রতিষ্ঠার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই এয়ারলাইনের ৫১ শতাংশ মালিকানা থাকবে সিরিয়ার এবং এটি ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে কার্যক্রম শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া সিরিয়ার জ্বালানি মন্ত্রণালয় সৌদি আরবের এসিডব্লিউএ পাওয়ারের সঙ্গে একটি পানি সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। কোম্পানিটি মধ্যপ্রাচ্য এবং এর বাইরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও লোনাপানি শোধন প্রকল্পের জন্য সুপরিচিত।

আল-হিলালি বলেন, এই চুক্তিগুলো এমন সব গুরুত্বপূর্ণ খাতকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে, যা ‘মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে এবং সিরিয়ার অর্থনীতি পুনর্গঠনের অপরিহার্য স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে।’

সিরিয়ায় নিযুক্ত মার্কিন দূত টম বারাক এক্সে এই সৌদি-সিরীয় চুক্তির প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিমান চলাচল, অবকাঠামো এবং টেলিযোগাযোগ ক্ষেত্রে এই কৌশলগত অংশীদারত্ব সিরিয়ার পুনর্গঠন প্রচেষ্টায় অর্থবহ অবদান রাখবে।’ তবে করম শার অ্যাডভাইজরির সিনিয়র রিসার্চ অ্যানালিস্ট বেঞ্জামিন ফেভ কিছুটা সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, স্বল্পমেয়াদে অর্থনৈতিক পরিবর্তনের চেয়ে এই চুক্তিগুলোর ‘রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক বেশি।’

উল্লেখ্য, গত এক বছরে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে করা লিখিত প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে ব্যাপক উন্নয়নের আশ্বাস দিলেও সেগুলোর অনেকগুলো এখনো বাধ্যতামূলক চুক্তিতে রূপান্তরিত না হওয়ায় সিরিয়া সরকার সমালোচনার মুখে পড়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত