Ajker Patrika

এপস্টেইনের সঙ্গে তরুণীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া সিয়াদের রহস্যজনক মৃত্যু

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৬, ২০: ৩২
এপস্টেইনের সঙ্গে তরুণীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া সিয়াদের রহস্যজনক মৃত্যু
ডেনিয়েল সিয়াদ। ছবি: সিএনএন

প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে একাধিক মডেলের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া ফরাসি পেশাদার মডেল রিক্রুটার ডেনিয়েল সিয়াদকে প্যারিসের উপকণ্ঠে নিজ বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। বুধবার (২২ জুলাই) সিএনএন জানিয়েছে, গত সোমবার কলম্ব শহরের ওই বাড়ি থেকে সিয়াদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্যারিসের শহরতলি নঁতের জুডিশিয়াল কোর্টের ডেপুটি পাবলিক প্রসিকিউটর মারি-সেলিন লওরিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এই মৃত্যুর কারণ এখনো জানা যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্ত করা হবে।

সিয়াদ এক দশকের বেশি সময় ধরে এপস্টেইনের সঙ্গে মডেলদের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার কাজ করেছেন। সম্প্রতি সিএনএনের এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছিলেন, এপস্টেইনের কাছে তিনি যেসব নারীকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে দুজন পরে সিএনএনকেই জানিয়েছিলেন, এপস্টেইন তাঁদের যৌন নির্যাতন করেছিলেন। তবে সিয়াদ বলেন, ওই নারীদের ক্ষতি হতে পারে—এমন কোনো কারণ তিনি কখনো দেখেননি।

২০০৮ সালে যৌন অপরাধে এপস্টেইন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও মডেলিং জগতের কিছু ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। সিয়াদও তাঁদের একজন। তিনি এপস্টেইনকে ফ্যাশন ইভেন্টে আমন্ত্রণ জানাতেন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।

সিয়াদের দাবি ছিল—এপস্টেইন তাঁকে জানিয়েছিলেন, তিনি তাঁর অপরাধের শাস্তি পেয়েছেন এবং তাঁর মাধ্যমে পরিচিত কোনো নারীর সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না। সিএনএনকে সিয়াদ বলেছিলেন, ‘আমি তাকে বিশ্বাস করেছিলাম এবং ভেবেছিলাম, লোকটি একজন পেশাদার।’ তিনি আরও জানান, এপস্টেইন নিজেকে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেট ও মডেলিং এজেন্সি এমসি২-এর কাস্টিং ডিরেক্টর হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ খুঁজে পায়নি সিএনএন।

মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশ করা নথিতে দেখা গেছে, এপস্টেইন সিয়াদকে কয়েক হাজার ডলার দিয়েছিলেন। নথিতে সিয়াদের পাঠানো এমন বার্তাও রয়েছে, যেখানে তিনি এপস্টেইনকে মরক্কোর মারাকেশে পরিচিত এক তরুণীর কথা জানান। ২০১৮ সালের এক ই-মেইলে তিনি এপস্টেইনের জন্য ‘সুন্দরী তরুণী সহকারী’ খোঁজার কথাও লিখেছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি তরুণীদের ছবি পাঠিয়ে তাঁদের মডেল বা সহকারী হিসেবে সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করতেন। একটি ছবির জবাবে এপস্টেইন লিখেছিলেন, ‘বয়স অনেক বেশি।’

বিচার বিভাগের নথি অনুযায়ী, সিয়াদ ভ্রমণের সময় পরিচিত হওয়া তরুণীদের ছবি এপস্টেইনকে নিয়মিত পাঠাতেন। এসব নথিতে তাঁর নাম দুই হাজারের বেশি বার এসেছে বলে সিএনএনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিএফএমটিভি জানিয়েছে।

এপস্টেইনের মডেলিং জগতের যোগাযোগ নিয়ে তদন্ত এখনো চলছে। এ বছর প্যারিসে শুরু হওয়া একটি ফৌজদারি তদন্তেও সিয়াদ-সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ১৯৯০ সালে ফ্রান্সে কাজ করার সময় এক মডেল সিয়াদের বিরুদ্ধে তাঁকে ধর্ষণের অভিযোগ করেছিলেন। সিয়াদ সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত