Ajker Patrika

গাজার টেকনোক্র্যাট সরকারে কারা থাকছেন—জানাল হোয়াইট হাউস

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১০: ২৪
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

হোয়াইট হাউস গাজা শাসনে প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পরিষদের সদস্যদের নাম প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে গাজার শাসনের জন্য জাতীয় কমিটি ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজার (এনসিএজি) সদস্যদের নামও ঘোষণা করেছে। এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ২০ দফা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, যার লক্ষ্য গাজায় ইসরায়েলের চালানো গণহত্যামূলক যুদ্ধের অবসান ঘটানো।

গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস জানায়, এনসিএজির নেতৃত্ব দেবেন ড. আলী শাথ। তিনি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাবেক উপমন্ত্রী। বিবৃতিতে ড. শাথকে ‘ব্যাপকভাবে সম্মানিত টেকনোক্র্যাটিক নেতা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। তিনি গাজায় জনসেবা পুনরুদ্ধার, বেসামরিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন এবং দৈনন্দিন জীবন স্থিতিশীল করার কাজ তদারক করবেন। পাশাপাশি তিনি দীর্ঘমেয়াদি শাসনব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে তুলবেন।

হোয়াইট হাউস আরও জানায়, ‘বোর্ড অব পিসের’ অধীনে শাসনব্যবস্থা ও সেবা কার্যক্রমকে সহায়তা করতে একটি নির্বাহী বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এই বোর্ডে যাঁদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে, তাঁরা হলেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রিম আল-হাশিমি, কাতারের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আলী আল-সাওয়াদি, মিসরের গোয়েন্দাপ্রধান হাসান রাশাদ, জাতিসংঘের সাবেক দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ, সাইপ্রাস-ইসরায়েলি ব্যবসায়ী ইয়াকির গ্যাবায় এবং নেদারল্যান্ডসের রাজনীতিক সিগ্রিড কাগ।

এ ছাড়া বোর্ড অব পিসকে দিকনির্দেশনা দেওয়া নির্বাহী বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকবেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই নির্বাহী বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, স্টিভ উইটকফ, জ্যারেড কুশনার, টনি ব্লেয়ার, বিলিয়নিয়ার মার্ক রোয়ান, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং মার্কিন রাজনৈতিক উপদেষ্টা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল।

নিকোলাই ম্লাদেনভকে গাজার জন্য হাই রিপ্রেজেনটেটিভ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি ‘বোর্ড অব পিস’ ও এনসিএজির মধ্যে সংযোগকারী হিসেবে কাজ করবেন। মেজর জেনারেল জ্যাসপার জেফার্সকে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী—ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্সের (আইএসএফ) কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া আরিয়েহ লাইটস্টোন ও জশ গ্রুয়েনবাউমকে জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। তাঁরা দৈনন্দিন কৌশল ও কার্যক্রম তদারক করবেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আরও নিয়োগ ঘোষণা করা হতে পারে।

এই ঘোষণাটি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন চলতি সপ্তাহের শুরুতে স্টিভ উইটকফ নিশ্চিত করেন যে গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশ করেছে। এই ধাপে মূল গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নিরস্ত্রীকরণ, টেকনোক্র্যাটিক শাসনব্যবস্থা এবং পুনর্গঠনের ওপর।

গত অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতিতে ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধ সাময়িকভাবে থামে। এর ফলে ইসরায়েল আংশিকভাবে সেনা প্রত্যাহার করে, ইসরায়েলি বন্দীদের বিনিময়ে শত শত ফিলিস্তিনি বন্দীর মুক্তি হয় এবং গাজায় সীমিত মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়। দ্বিতীয় ধাপে পূর্ণাঙ্গ ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন এবং একটি অস্থায়ী টেকনোক্র্যাটিক প্রশাসন গঠনের কথা বলা হয়েছে।

এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও ইসরায়েল তা লঙ্ঘন করে চলেছে। গাজায় চালানো বিমান হামলায় অন্তত তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে ১০ বছর বয়সী মেয়েশিশু, ১৬ বছর বয়সী কিশোর এবং এক নারী।

এই হামলার ঘটনা ঘটে এমন এক সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্র ট্রাম্পের পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ ঘোষণার মাত্র এক দিন পেরিয়েছে এবং একই সঙ্গে গাজার জন্য প্রস্তাবিত টেকনোক্র্যাটিক কমিটি কায়রোতে বৈঠক করছে, যেখানে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত