
ইরানের দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে ভূপাতিত হওয়া এক মার্কিন বিমান সেনাকে উদ্ধারে কয়েকশ কমান্ডো এবং কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান নিয়ে এক নজিরবিহীন ও অত্যন্ত জটিল অপারেশন পরিচালনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই দিন ধরে শত্রুসেনার ডেরায় আত্মগোপন করে থাকা ওই ‘ডব্লিউএসও’ কর্মকর্তাকে উদ্ধারের এই রুদ্ধশ্বাস অভিযানে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং পেন্টাগনের স্পেশাল ফোর্সের সমন্বিত রণকৌশল ফুটে উঠেছে। তবে ইরানের মাটি থেকে উড্ডয়নের ব্যর্থ হয়ে দুটি মূল্যবান উড়োজাহাজ নিজেরাই ধ্বংস করেছে মার্কিন বাহিনী। ফলে তাদের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতিও কম হয়নি।
গত ২০ বছরের যুদ্ধ ইতিহাসে এই প্রথম সরাসরি শত্রুপক্ষের আঘাতে একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা ঘটল। বিধ্বস্ত বিমানের পেছনের আসনে থাকা ‘উইপনস সিস্টেম অফিসার’ বা সংক্ষেপে ‘উইজো’ পদমর্যাদার একজন কর্নেল ইজেকশন প্রক্রিয়ার সময় মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন। দক্ষিণ ইরানের পাহাড়ি এলাকায় প্যারাসুট দিয়ে নামার পর তিনি তাঁর অবস্থান গোপন করতে একটি গভীর গিরিখাদে আশ্রয় নেন। মাত্র একটি হ্যান্ডগান এবং সীমিত রসদ নিয়ে তিনি প্রায় ৩০ ঘণ্টা ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) তীক্ষ্ণ নজরদারি এড়িয়ে চলতে সক্ষম হন।
সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানের সফলতার নেপথ্যে মূল কারিগর ছিল মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং এবং গ্রাউন্ড ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে সংস্থাটি পাহাড়ের খাঁজে ওই বিমান সেনার নিখুঁত অবস্থান শনাক্ত করে পেন্টাগনকে জানায়।
একই সঙ্গে, উদ্ধার অভিযান চলাকালীন ইরানি সামরিক বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতে সিআইএ একটি অত্যন্ত সুনিপুণ ‘ডিসেপশন ক্যাম্পেইন’ বা প্রতারণা কৌশল শুরু করে। তারা ইরানের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা নেটওয়ার্কে এই ভুয়া খবর ছড়িয়ে দেয় যে, বিমান সেনাকে ইতিমধ্যে উদ্ধার করে অন্য একটি সীমান্ত দিয়ে বের করে নেওয়া হয়েছে। এই কৌশলী চালের কারণে ইরানি বাহিনী তাদের মূল জনবল ভুল স্থানে সরিয়ে নেয়, যার ফলে প্রকৃত উদ্ধারস্থলে মার্কিন কমান্ডোরা কিছুটা বাড়তি সুবিধা পান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ইমিডিয়েট রেসকিউ’ অর্ডারের ভিত্তিতে কয়েকশ বিশেষ বাহিনীর সদস্য (যেমন-নেভি সিল বা ডেল্টা ফোর্স), ডজনখানেক অ্যাপাচি গানশিপ এবং এফ-২২ র্যাপ্টর যুদ্ধবিমান এই অপারেশনে অংশ নেয়। সাধারণত এ ধরনের গোপন অভিযান রাতের আঁধারে শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও, ইরানি বাহিনীর সঙ্গে প্রচণ্ড গোলাগুলি শুরু হওয়ায় তা দিনের আলো পর্যন্ত গড়ায়। মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো তাদের সেনাকে সুরক্ষা দিতে পাহাড়ের চারপাশের ইরানি সামরিক অবস্থানগুলোর ওপর বোমাবর্ষণ করে একটি ‘নিরাপদ বলয়’ তৈরি করে।
অভিযানটি কৌশলগতভাবে সফল হলেও যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের যান্ত্রিক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। উদ্ধার কাজে ব্যবহৃত পাঁচটি বিশালাকার সি-১৩০ বা এমসি-১৩০ পরিবহন বিমানের মধ্যে দুটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ইরানি ভূখণ্ড থেকে আর উড্ডয়ন করতে পারেনি। মার্কিন অত্যন্ত গোপনীয় সামরিক প্রযুক্তির তথ্য যাতে শত্রুপক্ষের হাতে না পড়ে, সেজন্য কমান্ডোরা উড্ডয়নের আগে নিজেদের ওই মূল্যবান বিমান দুটিকে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক দিয়ে ধ্বংস করে দেয়।
উদ্ধার অভিযানের সফল সমাপ্তির পর ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ বিজয়োল্লাস প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘আমার সরাসরি নির্দেশে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মারণাস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমাদের মহান সেনারা তাকে নরকের মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছে। তিনি কিছুটা আহত হলেও এখন আমাদের হেফাজতে নিরাপদ আছেন।’
বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি ইরানের মূল ভূখণ্ডে ঢুকে কয়েকশ কমান্ডো নিয়ে এ ধরনের অপারেশন দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনার পারদকে চরম সীমায় নিয়ে গেছে। একদিকে ওয়াশিংটন তাদের সেনাকে ফিরিয়ে আনতে সফল হলেও, অন্যদিকে ইরানের মাটিতে দুটি মার্কিন বিমান ধ্বংস এবং সরাসরি গুলি বিনিময়ের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নতুন মোড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা-পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্য অস্থির হয়ে উঠেছে। এর প্রভাবে তেল-গ্যাসের সরবরাহ বিপর্যস্ত হয়ে টালমাটাল পুরো বিশ্বের অর্থনীতি। যুদ্ধের এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত সব পক্ষই ছাড় না দেওয়ার অবস্থানে।
১ ঘণ্টা আগে
দীর্ঘ ১৫ বছর মালয়েশিয়ার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দী হিসেবে কাটানোর পর অবশেষে মুক্তি পেয়ে নিজ দেশে ফিরেছেন ইন্দোনেশিয়ার এক নারী। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এই ঘটনা সীমান্তজুড়ে মাদক পাচার চক্রে দরিদ্র অভিবাসী নারীদের শোষণের একটি স্পষ্ট উদাহরণ।
১ ঘণ্টা আগে
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ অভিযোগ করেছেন, ভারত একটি ‘ফলস-ফ্ল্যাগ অপারেশন’ বা ‘সাজানো অভিযান’ চালানোর পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেছেন, এর উদ্দেশ্য হলো—যাতে দোষ চাপানো যায় পাকিস্তানের ওপর। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এমন কোনো ‘নাটক’ মঞ্চস্থ করা হলে নয়াদিল্লিকে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
৪ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আকাশপথে বড় ধরনের সংঘাতের খবর পাওয়া গেছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ ইস্পাহানে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সি-১৩০ সামরিক বিমান এবং দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ধ্বংস করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড
৪ ঘণ্টা আগে