Ajker Patrika

ট্রাম্পের কোটি ডলারের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প শেষ হতে না হতেই ধরা পড়ল ত্রুটি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৯ জুন ২০২৬, ১৩: ১৩
ট্রাম্পের কোটি ডলারের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প শেষ হতে না হতেই ধরা পড়ল ত্রুটি
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রায় দেড় কোটি ডলারে করা সংস্কার কাজ ভেস্তে যেতে বসেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ‘লিঙ্কন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুল’ সংস্কারের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় এর তলদেশের নীল প্রলেপ চটে যেতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ নির্দেশে কোটি কোটি ডলার ব্যয়ে এই ঐতিহাসিক জলাশয়টির সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পরপরই এই বড় ধরনের ত্রুটি দেখা গেল।

গতকাল বৃহস্পতিবার ন্যাশনাল মলে অবস্থিত এই জলাশয়ের তলদেশ থেকে একটি নীল রঙের স্তর আংশিক খুলে গিয়ে পানির ওপর ভেসে উঠতে দেখা গেছে। সংবাদমাধ্যম সিএনএনের ধারণ করা ফুটেজ ও ছবিতে দেখা যায়, নীল রঙের একটি বস্তু পানিতে ভেসে বেড়াচ্ছে। তবে ভেসে ওঠা উপাদানটি রং নাকি কোনো বিশেষ সুরক্ষা প্রলেপ (সিল্যান্ট) এবং ঠিক কী কারণে এটি চটে গেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

এই সংস্কারকাজের দায়িত্বে থাকা ভার্জিনিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘আটলান্টিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোটিংস’-এর মালিক এডি উড ভিডিও ও ছবি দেখে জানান, এগুলো থেকে সমস্যাটি ঠিক কী তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, ‘রক্ষণাবেক্ষণের সময় যেকোনো ধরনের সমস্যা হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে।’

অন্যদিকে, পুলের অবকাঠামো বিশেষজ্ঞ এবং অ্যাকুয়াটিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান টিম আওয়ারহান এটিকে ‘ডিল্যামিনেশন’ বা প্রলেপ আলগা হয়ে যাওয়া হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আওয়ারহান বলেন, ‘একটি কোটিং বা প্রলেপ ব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়ার পেছনে পৃষ্ঠতল তৈরিতে ত্রুটি, রাসায়নিক দূষণ, প্রলেপ দেওয়ার সময়কার আবহাওয়া বা যান্ত্রিক ক্ষতিসহ নানা কারণ থাকতে পারে। এখন বড় প্রশ্ন হলো, এটি কি কেবল নির্দিষ্ট একটি অংশের সমস্যা, নাকি পুরো কোটিং প্রক্রিয়াতেই বড় কোনো পদ্ধতিগত ত্রুটি রয়েছে।’

গত এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ঐতিহাসিক পুলটি সংস্কারের নির্দেশ দেন, যা মূলত তাঁর ওয়াশিংটন ডিসি সৌন্দর্যবর্ধন পরিকল্পনার অংশ। ট্রাম্প এই পুলের তলদেশকে ‘আমেরিকান পতাকার নীল’ রঙে রাঙানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

প্রাথমিকভাবে এই প্রকল্পের ব্যয় ১ দশমিক ৮ মিলিয়ন (১৮ লাখ) ডলার ধরা হলেও শেষ পর্যন্ত তা প্রায় ৮ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ১৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন (১ কোটি ৪৭ লাখ) ডলারে ঠেকেছে। এই বিপুল ব্যয় করদাতাদের অর্থ অপচয়ের নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

অবশ্য প্রায় এক শতাব্দী আগে চালুর পর থেকেই এই জলাশয়ে শৈবালের বংশবৃদ্ধি এবং পানি চুইয়ে পড়ার সমস্যা বিভিন্ন মার্কিন প্রশাসনকে ভোগাচ্ছে।

২০১২ সালে বারাক ওবামা প্রশাসন শৈবালের প্রকোপ দূর করতে ৩৪ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ১৮ মাসব্যাপী একটি বড় সংস্কার প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। তবে কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিন পরই পুলটি আবার শৈবাল, পাখির বর্জ্য ও মরা হাঁসে পূর্ণ হয়ে এক দুর্গন্ধময় জলাশয়ে পরিণত হয়।

ওবামা প্রশাসনের সেই ব্যর্থতাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে ট্রাম্প নিজের এই সংস্কার প্রকল্প শুরু করেছিলেন। কিন্তু এবারও পূর্ণ করার পরপরই পানি আবার সবুজ হতে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে চলতি সপ্তাহের শুরুতে কর্মীদের হাইড্রোজেন পারক্সাইড এবং ‘উন্নত ন্যানোবাবলার প্রযুক্তি’ ব্যবহার করতে দেখা গেছে। তবে গতকাল বৃহস্পতিবারও পুলের বড় অংশজুড়ে সবুজ শৈবাল দৃশ্যমান ছিল।

রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কার ছাড়াও ওয়াশিংটনকে সুন্দর করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের আরও কয়েকটি বিতর্কিত প্রকল্প চালু রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইংয়ে একটি নতুন বলরুম তৈরি, আর্লিংটন জাতীয় সমাধিক্ষেত্রের কাছে একটি বিশাল তোরণ নির্মাণ এবং ২৫০টি বাস্তবসম্মত ভাস্কর্য নিয়ে ‘ন্যাশনাল গার্ডেন অব আমেরিকান হিরোস’ গড়ে তোলার প্রস্তাব।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত