Ajker Patrika

এসআইআর স্থগিতসহ ১০ দফা দাবি রাহুল গান্ধীর

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৩: ৫৩
এসআইআর স্থগিতসহ ১০ দফা দাবি রাহুল গান্ধীর
বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) স্থগিতসহ ১০ দফা দাবি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর সঙ্গে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আরজেডির তেজস্বী যাদবসহ বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার নেতারা সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে মিছিল করেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাহুল গান্ধী আজ সোমবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছালেও নির্ধারিত সময়ে (বিকেল সাড়ে ৪টা) আদালতে পৌঁছাতে পারেননি। ফলে তাঁর পক্ষে আইনজীবী এস প্রসন্ন আবেদনটি দাখিল করেন। এর আগে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে অস্বীকৃতি জানান এবং বিষয়টি বিচারাধীন (সাব জুডিস) বলে উল্লেখ করেন।

এনডিটিভির হাতে আসা আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে মামলাটি ‘রাহুল গান্ধী বনাম ইলেকশন কমিশন অব ইন্ডিয়া’ নামে তালিকাভুক্ত হয়েছে। আবেদনে ভারতের নির্বাচন কমিশনের নেওয়া এসআইআরসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে ১০ ধরনের প্রতিকার চাওয়া হয়েছে। আদালতে দাখিল করা রাহুলের ১০ দফা দাবি হলো—

এসআইআর-সংক্রান্ত সব নথি আদালতে জমা

বিতর্কিত এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সব পূর্ণাঙ্গ নথি, চুক্তি, সভার কার্যবিবরণী, বৈঠকের রেকর্ড ও আপত্তিসংক্রান্ত নথি আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইসিনেট ও ইরোনেটের (ভারতের নির্বাচন কমিশনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও মোবাইল অ্যাপ) প্রবেশাধিকারসংক্রান্ত লগ এবং ২০২৫ সালের ২৪ জুনে এসআইআর শুরুর সিদ্ধান্তের পূর্ণ ফাইলও অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

এসআইআর সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক বৈধতা পরীক্ষা

এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ, ২০২৩ সালের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার (নিয়োগ, চাকরির শর্ত ও মেয়াদ) আইন এবং সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট রায়ের নীতিমালা অনুসরণ করে নেওয়া হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করার আবেদন করা হয়েছে।

কোনো সিদ্ধান্ত যথাযথ আইনি ক্ষমতা ছাড়া নেওয়া হয়ে থাকলে তা বাতিল করার দাবিও জানানো হয়েছে।

দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও সংশোধনের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক বা আইনি বিধান লঙ্ঘনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এর ৩২ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

আবেদনকারীর অভিযোগের নিষ্পত্তি

এসআইআর ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আবেদনকারীর অভিযোগের ওপর নির্বাচন কমিশনকে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার দাবি করা হয়েছে। এসআইআর-সংক্রান্ত প্রতিটি সিদ্ধান্ত ২০২৩ সালের আইনের ১৮ ধারা অনুযায়ী নেওয়া ও তা যথাযথভাবে নথিভুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে।

অনলাইন ফরম-৬ নির্ধারিত নিয়মে আনা

অনলাইনে ব্যবহৃত ফরম-৬ যেন ১৯৬০ সালের ভোটার নিবন্ধন বিধিমালায় নির্ধারিত ফরমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। নির্ধারিত ফরমে পরিবর্তন আনতে হলে সংশ্লিষ্ট বিধি যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংশোধনের কথাও বলা হয়েছে।

স্বাধীন কমিটি দিয়ে অডিট

সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতির নেতৃত্বে একটি স্বাধীন কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। এতে কারিগরি বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্ট নাগরিকদেরও রাখার কথা বলা হয়েছে।

এই কমিটি এসআইআর চলাকালে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া ও সংশোধনের বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত ও অডিট করবে। একই সঙ্গে ভোটার তালিকার ডেটাবেইসে প্রবেশাধিকার এবং সেখানে করা পরিবর্তন, ইসিনেট ও ইরোনেট ব্যবস্থাও পরীক্ষা করার দাবি জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া সিদ্ধান্ত, নীতি, পদ্ধতি, প্রটোকল এবং ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহার ও প্রযুক্তিগত কাঠামো পর্যালোচনা এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।

এসআইআরে বাদ পড়া ভোটারদের নাম ও কারণ প্রকাশ

এসআইআরের সময় ভোটার তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের নাম বুথভিত্তিক প্রকাশের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যেকের নাম বাদ দেওয়ার কারণ, লিঙ্গ ও বয়স অনুযায়ী শ্রেণিবিন্যাস এবং যোগ্য ভোটারদের পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কার্যকর ব্যবস্থা রাখার দাবি জানানো হয়েছে।

নোটিশ ও শুনানি ছাড়া নাম বাদ না দেওয়া

আইন অনুযায়ী নোটিশ না দেওয়া ও শুনানির যুক্তিসংগত সুযোগ না দিয়ে কোনো ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ না দেওয়ার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া পাঞ্জাবসহ যেসব রাজ্যে সামনে নির্বাচন, সেখানে যোগ্য ব্যক্তিদের আইন নির্ধারিত শেষ তারিখ পর্যন্ত ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

চলমান এসআইআর স্থগিত

সব রাজ্যে চলমান এসআইআর-প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার জন্য অন্তর্বর্তী নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, মামলায় উত্থাপিত বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ যোগ্য ভোটারদের অধিকার এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ন্যায্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় প্রয়োজন।

আদালতের বিবেচনায় প্রয়োজনীয় অন্যান্য নির্দেশ

নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অখণ্ডতা ও প্রত্যেক যোগ্য নাগরিকের ভোটাধিকার সুরক্ষায় মামলার পরিস্থিতি বিবেচনা করে আদালত প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত অন্য কোনো আদেশ বা অতিরিক্ত নির্দেশ জারি করতে পারবেন—এমন প্রার্থনাও করা হয়েছে।

আবেদনে বিরোধীদের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দাবির মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের বিষয়টিও রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত