Ajker Patrika

‘ছবি তোলার জন্য খুব মিনতি করেছিল’, ট্রাম্পের দাবির কড়া জবাব দিলেন মেলোনি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৯ জুন ২০২৬, ১৮: ৪৯
‘ছবি তোলার জন্য খুব মিনতি করেছিল’, ট্রাম্পের দাবির কড়া জবাব দিলেন মেলোনি
জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ছবি: এপি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর চটেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। সম্প্রতি ইতালির একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে জর্জিয়া মেলোনি তাঁর সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য ‘কাকুতি-মিনতি’ করেছিলেন। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করে মেলোনি আজ শুক্রবার বলেছেন, গল্পটি ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ এবং এর কোনো ভিত্তি নেই।

একই সঙ্গে ট্রাম্পকে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেছেন, ট্রাম্প পশ্চিমাদের পুরোনো ও পরীক্ষিত মিত্রদের চেয়ে শত্রুদের প্রতি অনেক বেশি উদার ও নমনীয় আচরণ দেখান।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যে ইতালির সরকার কতটা ক্ষুব্ধ হয়েছে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানিও। তিনি আগামী সপ্তাহে তাঁর পূর্বনির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল ঘোষণা করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তাজানি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন গুরুতর ও আপত্তিকর শব্দচয়ন পুরো ইতালিকে অপমান করেছে।’

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে ইরান যুদ্ধ নিয়ে দুই নেতার মধ্যকার আগের উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। সম্মেলনের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মেলোনি ও ট্রাম্প একটি ছোট সোফায় পাশাপাশি বসে গভীর আলোচনায় মগ্ন। কিন্তু ইতালির ‘লা-সেভেন’ টিভি চ্যানেলকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, তিনি কেবল মেলোনিকে অনুকম্পা দেখাতেই তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন।

ট্রাম্পের ভাষায়, ‘সে আমার সঙ্গে একটা ছবি তোলার জন্য রীতিমতো ভিক্ষা চেয়েছিল। সে আমার সঙ্গে একটা ছবি তুলতে এতই মরিয়া ছিল যে আমি তুলতে না চাইলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর জন্য করুণা বোধ করে ছবিটা তুললাম।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের জবাবে এক বিবৃতিতে মেলোনি বলেছেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বক্তব্য পুরোপুরি মিথ্যা। আমি সত্যিই স্তব্ধ। আমি জানি না মার্কিন প্রেসিডেন্ট কেন তাঁর মিত্রদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন, যদিও এটি প্রথমবার নয়।’

মেলোনি আরও বলেন, ‘আমি শুধু এটাই বলতে পারি, এটি অত্যন্ত হতাশাজনক যে পশ্চিমাদের এবং যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের বিরুদ্ধে তিনি এ ধরনের কঠোরতা দেখাতে পারেন না। উল্টো সেসব দেশের নেতাদের তিনি অনেক বেশি তোয়াজ করে চলেন। ট্রাম্পের একটি জিনিস মনে রাখা উচিত—আমি কিংবা ইতালি কখনো কারও কাছে হাত পাতে না বা ভিক্ষা চায় না।’

মেলোনির অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও সাধারণত গণমাধ্যমের আড়ালে থাকা ইতালির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি জিওভানবাত্তিস্তা ফাজোলারিও ট্রাম্পের এমন আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এটি স্পষ্ট নয় যে ট্রাম্প তাঁর অযোগ্যতা নাকি ইচ্ছাকৃত খামখেয়ালিপনা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্ককে ধ্বংস করছেন। নিজের এই ধরনের অনুপযুক্ত ও আপত্তিকর মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি পুরো ইউরোপ মহাদেশে আমেরিকাকে একঘরে ও অপ্রিয় করে তুলছেন, যা ইউরোপের চেয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই বেশি ক্ষতিকর।’

উল্লেখ্য, মেলোনি একসময় ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক ছিলেন এবং ২০২৫ সালে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অভিষেক অনুষ্ঠানে একমাত্র ইউরোপীয় শীর্ষ নেতা হিসেবে তিনি উপস্থিত ছিলেন। তবে চলতি বছরে ইরান যুদ্ধ নিয়ে পোপ লিওর শান্তিকামী অবস্থানের পক্ষে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পের সমালোচনা করায় দুই নেতার সম্পর্কে ফাটল ধরে। সে সময় ট্রাম্প মেলোনিকে ‘ভীতু’ বলেও কটাক্ষ করেছিলেন। আজকের এই ঘটনা সেই তিক্ততাকে আরও তলানিতে নিয়ে ঠেকাল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত