
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত পার্ক স্ট্রিট লাগোয়া মির্জা গালিব স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এবং মারকুইস স্ট্রিট—দশক ধরে এই এলাকাটি বাংলাদেশি পর্যটক ও চিকিৎসা প্রার্থীদের কাছে ‘মিনি বাংলাদেশ’ হিসেবে পরিচিত। স্বল্প খরচের আবাসন, বাংলাদেশি খাবারের রেস্তোরাঁ, কাছাকাছি ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং কেনাকাটার সুবিধা থাকার কারণে এটি বাংলাদেশি পর্যটকদের অন্যতম প্রিয় ঠিকানা।
তবে গত ১৯ আগস্ট গভীর রাতের এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এবং তার পরপরই প্রশাসনের নজিরবিহীন কঠোর অভিযানে রাতারাতি পাল্টে গেছে এই এলাকার চিত্র। কলকাতার পৌরসংস্থা (কেএমসি) অগ্নিনির্বাপণ বিধি লঙ্ঘনের দায়ে প্রায় ৫০টি হোটেল, গেস্ট হাউস ও রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে দূর-দুরান্ত থেকে আসা শত শত বাংলাদেশি পর্যটক চরম আবাসন সংকটে পড়েছেন, অন্যদিকে মুখ থুবড়ে পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য।
গত ১৯ আগস্ট রাত আনুমানিক ২টার দিকে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘হোটেল শিখা ইন’-এ হঠাৎ আগুন লাগে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নয়জনের মৃত্যু হয়, যাদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। তাৎক্ষণিক তৎপরতায় ভবনটি থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকসহ প্রায় ৮০ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো ওই ভবনটিতে ‘হোটেল শিখা ইন’ ছাড়াও আরও চারটি ছোট-বড় হোটেল এবং বাণিজ্যিক কার্যালয় ছিল। ভবনটির জরুরি নির্গমন পথটি (ফায়ার এক্সিট) একটি বাণিজ্যিক অফিস তৈরি করে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। অগ্নিনির্বাপণ লাইসেন্স থাকলেও বছরের পর বছর নিয়ম না মেনে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল প্রতিষ্ঠানগুলো।
ঘটনার পর পরই শিখা ইন-এর মালিককে গ্রেপ্তার করা হয় এবং রাস্তার বিপরীত পাশে থাকা তাঁর একটি খাবার হোটেলও সিলগালা করে দেওয়া হয়।
কলকাতায় এই অগ্নিকাণ্ডের মাত্র দুই দিন আগে বীরভূম জেলার রামপুরহাটের একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে আটজনের মৃত্যু হয়। পরপর দুটি ভয়াবহ ঘটনার পর নড়েচড়ে বসে রাজ্য প্রশাসন ও কলকাতা পৌরসংস্থা।
কেএমসি দ্রুত ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ও মারকুইস স্ট্রিট এলাকায় ব্যাপক ফায়ার সেফটি অডিট শুরু করে। পরিদর্শন শেষে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় ৫০টি হোটেল, গেস্ট হাউস ও রেস্তোরাঁকে নোটিশ ঝুলিয়ে রাতারাতি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
উদাহরণস্বরূপ, মারকুইস স্ট্রিটের ‘ম্যাগনোলিয়াস ম্যাগি গেস্ট হাউস’-কে নোটিশ দেওয়া হয় কারণ তারা নন-এসি ঘরের লাইসেন্স নিয়ে এসি রুম পরিচালনা করছিল। হোটেলটির ব্যবস্থাপক দ্য উইককে বলেন, এক হোটেলে আগুনের ঘটনার জন্য সব হোটেল বন্ধ করে দেওয়া কতটা যৌক্তিক? আমরা গ্রাহকদের ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছি, ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের পৌর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘ব্যবসা বন্ধ করা বা রেস্তোরাঁ সিলগালা করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। এতে আমরা কোনো আনন্দ পাই না। কিন্তু রামপুরহাট বা ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের মতো মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতেই আমাদের এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো অজুহাত বা আপস সহ্য করা হবে না।’
আকস্মিক হোটেল বন্ধের খবর না জেনে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি কলকাতায় পৌঁছানো যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। ন্যূনতম ১ হাজার ২০০ রুপি থেকে শুরু হওয়া সাশ্রয়ী ভাড়ার কারণে এই এলাকার গেস্ট হাউসগুলোতেই বেশির ভাগ বাংলাদেশি অবস্থান করেন।
বাংলাদেশ থেকে বাসযোগে মারকুইস স্ট্রিটে পৌঁছানো আইরিন নামের এক পর্যটক তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, ‘দীর্ঘ যাত্রার পর শরীর ক্লান্ত ছিল। ভেবেছিলাম হোটেলে উঠে একটু বিশ্রাম নিয়ে খাবার খেয়ে ডাক্তারের কাছে যাব। কিন্তু এসে দেখছি কোনো হোটেল খোলা নেই। ব্যাগপত্র নিয়ে এখন এক হোটেল থেকে অন্য হোটেলে ঘুরতে হচ্ছে।’
প্রথমবার কলকাতায় আসা জামাল ও তাঁর স্ত্রী জানান, অগ্রিম কোনো তথ্য না থাকায় রাস্তায় রাস্তায় আবাসন খুঁজে বেড়াতে হচ্ছে তাঁদের।
অন্যদিকে, হৃদ্রোগের চিকিৎসার পর শারীরিক পরীক্ষার জন্য আসা মুকুল তালুকদার জানান, এটি তাঁর ১৭ তম কলকাতা ভ্রমণ। সাধারণত তিনি কলকাতায় এসে বেলুর মঠ দর্শন করেন এবং সেখান থেকে চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরু যান। তিনি বলেন, ‘এতবার এসেছি, কখনো এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি। বহু হোটেল বন্ধ, কোথায় উঠব বুঝে উঠতে পারছি না।’
উদ্ভূত আবাসন সংকট মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন। অগ্নিকাণ্ডের পরপরই পর্যটকদের সহায়তায় একটি ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু করা হয় এবং বাংলাদেশে একটি ভ্রমণ নির্দেশিকা পাঠানো হয়।
উপ-হাইকমিশন থেকে আটকে পড়া ও বিপদে পড়া পর্যটকদের বিকল্প ও বৈধ নিরাপদ আবাসনে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনার মোহাম্মদ খালেদ দ্য উইককে বলেন, ‘আমরা কলকাতা পৌরসভা ও পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দপ্তরের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেছি। কেএমসি হোটেলগুলোকে ফায়ার সেফটি নবায়ন ও সংশোধন করার জন্য ৩০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। আমরা হোটেল মালিকদের অনুরোধ করেছি নিয়ম মেনে দ্রুত প্রক্রিয়া শেষ করতে এবং বিকল্প হিসেবে পর্যটকদের সাময়িক থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে।’
‘মিনি বাংলাদেশ’ এলাকার পুরো অর্থনীতি বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল। তবে গত কয়েক মাস ধরেই এই ব্যবসায়ী অঞ্চলটি নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে ভিসা প্রাপ্তিতে কড়াকড়ি এবং ভ্রমণের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পূর্বে যেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ হাজার চিকিৎসা ভিসা ইস্যু করা হতো, তা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়।
এর সঙ্গে যুক্ত হয় সীমান্ত এলাকায় কড়াকড়ি, বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) প্রক্রিয়া এবং বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সীমান্ত সিল করার সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থান।
এসব প্রতিকূলতা পেরিয়ে গত দুই মাসে যখন ভিসা প্রদান কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল এবং ব্যবসায়ীরা আশার মুখ দেখছিলেন, ঠিক তখনই হোটেল বন্ধের এই সিদ্ধান্তে নতুন করে বিপর্যয় নেমে এসেছে।
কেএমসি-র দেওয়া ৩০ দিনের নোটিশের সময়সীমার মধ্যে কতগুলো হোটেল ফায়ার লাইসেন্স সংগ্রহ করে আবার চালু হতে পারবে—তা নিয়ে এখনো গভীর অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। আর এই অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হলে কলকাতার এই ঐতিহাসিক বাণিজ্যিক অঞ্চলের অর্থনীতি আরও বড় সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর পর্যটন এলাকা থামেল থেকে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড ও ভিসা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম। গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থামেল এলাকার একাধিক হোটেল থেকে তাঁদের আটক করা হয়।
২ ঘণ্টা আগে
উত্তর কোরিয়া তার পূর্ব উপকূলের সাগরের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। স্থানীয় সময় শনিবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে (শুক্রবার ২০:২০ জিএমটি) উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলীয় এলাকা ওনসান থেকে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার...
২ ঘণ্টা আগে
আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রপ্তানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীভাবে তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের মাছ আমদানিকারকরা। এ বিষয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে লিখিত চিঠি পাঠিয়েছে কলকাতাভিত্তিক ‘ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন’।
৪ ঘণ্টা আগে
লোহিত সাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও এর মধ্যবর্তী পেরিম দ্বীপের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। এরপরই সৌদি আরবের নিজস্ব গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনব্যবস্থায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা। এ অবস্থায় ‘ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন’ নামে ওই তেল পর
৫ ঘণ্টা আগে