Ajker Patrika

ভূমধ্যসাগরে ফের নৌকাডুবি: বাংলাদেশিসহ উদ্ধার ৩২, নিখোঁজ অন্তত ৭০, ২ মরদেহ উদ্ধার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১: ৪৯
ভূমধ্যসাগরে ফের নৌকাডুবি: বাংলাদেশিসহ উদ্ধার ৩২, নিখোঁজ অন্তত ৭০, ২ মরদেহ উদ্ধার
উল্টে যাওয়া নৌকায় ভাসছিল বেশ কয়েকজন অভিবাসনপ্রত্যাশী। ছবি: সি-ওয়াচ

ইউরোপের উন্নত জীবনের আশায় পাড়ি জমানোর পথে লিবিয়া উপকূলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের একটি কাষ্ঠখণ্ডে পরিণত হওয়া নৌকা ডুবে অন্তত ৭০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। গত শনিবারের এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও দুইজনের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং মিসরের নাগরিক রয়েছেন বলে ইতালীয় কোস্টগার্ডের প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর প্রতিনিধিরা গতকাল রোববার জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত ৩২ জন জীবিত ব্যক্তির ভাষ্যমতে ওই জরাজীর্ণ নৌকাটিতে ১০০ থেকে ১২০ জন আরোহী ছিলেন। গত শুক্রবার গভীর রাতে লিবিয়ার তাজৌরা বন্দর থেকে হালকা ওজনের কাঠের নৌকাটি অজানার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল।

জীবিতরা জানিয়েছেন, সমুদ্রের আবহাওয়া ছিল অত্যন্ত বৈরী। কয়েক ফুট উঁচু ঢেউয়ের আঘাতে যাত্রার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নৌকায় পানি ঢুকতে শুরু করে। লিবীয় জলসীমার ভেতরেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় নৌকাটি। জীবন বাঁচাতে অনেকেই সাগরের হিমশীতল পানিতে ঝাঁপ দেন।

জার্মান উদ্ধারকারী সংস্থা ‘সি-ওয়াচ’ জানিয়েছে, তাদের একটি পর্যবেক্ষণকারী বিমান শনিবার সাগরে একটি উল্টানো কাঠের নৌকার ওপর অন্তত ১৫ জনকে মরিয়া হয়ে কঙ্কালের মতো আটকে থাকতে দেখে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে বেঁচে থাকার লড়াই চালানো ওই মানুষগুলো যখন সাহায্যের আশায় হাত বাড়াচ্ছিলেন, তখন আশপাশে বেশ কয়েকটি নিথর দেহ ভাসছিল।

ইতালীয় কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র রবার্তো ডি’অ্যারিগো জানান, লিবীয় কর্তৃপক্ষের তদারকিতে একটি ইতালীয় মালবাহী জাহাজ এবং একটি লাইবেরীয় বাণিজ্যিক জাহাজ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। উদ্ধারকৃত ৩২ জনই পুরুষ, যার মধ্যে একজন কিশোর রয়েছে। তাদের ইতালির দক্ষিণ প্রান্তের দ্বীপ ল্যাম্পেদুসায় নিয়ে আসা হয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে এই দ্বীপটি উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা হাজার হাজার শরণার্থী ও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য ইউরোপের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত।

ইউএনএইচসিআর-এর মুখপাত্র ফিলিপ্পো উঙ্গারো এই যাত্রাকে ‘আত্মঘাতী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘অভিবাসনপ্রত্যাশীরা এমন একটি হালকা ও জরাজীর্ণ নৌকায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকি নিয়েছিল, যা এই উত্তাল সমুদ্রের জন্য মোটেও উপযুক্ত ছিল না।’ নিখোঁজ ৭০ জনের সন্ধানে এখনো অভিযান চললেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের বেঁচে থাকার আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে।

যদি নিখোঁজের সংখ্যা নিশ্চিত হয়, তবে এটি হবে সাম্প্রতিক সময়ের ভূমধ্যসাগরের অন্যতম বড় ট্র্যাজেডি। সাবেক পোপ ফ্রান্সিস একবার ভূমধ্যসাগরকে ‘ইউরোপের বৃহত্তম কবরস্থান’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তাঁর সেই উক্তির ভয়াবহতা আজকের এই ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হলো। প্রসঙ্গত, পোপ ফ্রান্সিস গত এপ্রিলে প্রয়াত হয়েছেন এবং তাঁর উত্তরসূরি পোপ লিও চতুর্দশ আগামী ৪ জুলাই ল্যাম্পেদুসা সফরের পরিকল্পনা করছেন।

আইওএম-এর ‘মিসিং মাইগ্রেন্টস প্রজেক্ট’-এর তথ্যমতে, ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩৩ হাজার ৪৫০ জনেরও বেশি মানুষ ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে অধিকাংশ মৃত্যুই ঘটেছে লিবিয়া থেকে ইতালি বা মাল্টা যাওয়ার পথে।

এই ঘটনার পর মানবাধিকার ও উদ্ধারকারী সংস্থা ‘মেডিটেরানিয়া সেভিং হিউম্যানস’ ইউরোপীয় দেশগুলোর কঠোর সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, ‘এই নৌকাডুবি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি ইউরোপীয় দেশগুলোর নীতির সরাসরি ফলাফল। তারা নিরাপদ এবং আইনি প্রবেশের পথ বন্ধ করে রাখায় মানুষ নিরুপায় হয়ে এই মৃত্যুফাঁদ বেছে নিচ্ছে।’

উল্লেখ্য, চলতি বছরই কেবল কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগরে অন্তত ৭২৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন। গত সপ্তাহেও ল্যাম্পেদুসা থেকে ৮০ নটিক্যাল মাইল দূরে একটি ডিঙি নৌকা থেকে ১৯টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছিল ইতালীয় কোস্ট গার্ড। তাদের মধ্যে অন্তত ১০ জন ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলার।

তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

চৈত্রসংক্রান্তিতে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে সাধারণ ছুটি

ইরানের বিক্ষোভকারীদের অস্ত্র পাঠিয়েছিলাম, কুর্দিরা মেরে দিয়েছে: ট্রাম্প

সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলন ঠেকাতে আইন পাস, ‘অসদাচরণে’ কঠোর শাস্তির বিধান

পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন আর্টেমিস নভোচারীদের ৪০ মিনিট, কী ঘটবে তখন

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী আ.লীগের মন্ত্রীদের মতো উত্তর দিয়েছেন: বিএনপির এমপি মনিরুল

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত