Ajker Patrika

মার্কিন বোমায় ক্ষয়ক্ষতি বুলডোজার আর ট্রাকেই সারিয়ে ফেলল ইরান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
মার্কিন বোমায় ক্ষয়ক্ষতি বুলডোজার আর ট্রাকেই সারিয়ে ফেলল ইরান
ইরানের দেজফুলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির ভূগর্ভস্থ স্থাপনার পাঁচটি প্রবেশপথের চারটিই খুলে দেওয়া হয়। ছবি: সিএনএন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো দ্রুত পুনরুদ্ধার করছে ইরান। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, টানেলের মুখ পরিষ্কার এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতের মাধ্যমে দেশটি আবারও তার দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ফিরিয়ে আনছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি ইরানের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের সীমাবদ্ধতাও সামনে এনেছে।

যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির প্রবেশপথে হামলা চালিয়ে টানেলগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা দেয় এবং ক্ষেপণাস্ত্রবাহী যান চলাচলের রাস্তা অচল করে দেয়। তবে সিএনএনের পর্যালোচনা করা সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, ইরান বুলডোজার, লোডার ও ডাম্প ট্রাকের মতো সাধারণ নির্মাণযন্ত্র ব্যবহার করে দ্রুত এসব টানেল পুনরায় খুলে ফেলছে।

জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রলিফারেশন স্টাডিজের গবেষক স্যাম লেয়ারের মতে, ইরানের হাতে এখনো বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে। উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও পর্যাপ্ত লাঞ্চার ও প্রশিক্ষিত কর্মী থাকলে দেশটি দীর্ঘ সময় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ চালিয়ে যেতে সক্ষম হবে।

সিএনএনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৮টি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনার মোট ৬৯টি টানেল প্রবেশপথের মধ্যে অন্তত ৫০টি ইতিমধ্যে পুনরায় চালু করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর গর্ত ভরাট করা হয়েছে এবং কিছু এলাকায় নতুন করে পিচও ঢালা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার কথা বলেছিলেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নির্মিত ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্ক এতটাই গভীরে অবস্থিত যে শুধু প্রবেশপথে হামলা চালিয়ে তা স্থায়ীভাবে অকার্যকর করা কঠিন।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইরানের এসব ঘাঁটিতে এখনো প্রায় এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে। ভূগর্ভের গভীরে সংরক্ষিত থাকায় এগুলোর বেশির ভাগই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক তিমুর কাদিশেভ বলেন, ‘এই ধরনের যুদ্ধের জন্য ইরান ২০ বছর ধরে প্রস্তুতি নিয়েছে। তারা অত্যন্ত সুসংগঠিত।’

ইসফাহান ও খোমেইন এলাকার কয়েকটি ঘাঁটির স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, যুদ্ধের সময় ধ্বংস হওয়া প্রবেশপথগুলো পুনরায় খুলে ফেলা হয়েছে। কোথাও কোথাও একসঙ্গে ১০ টিরও বেশি নির্মাণযান মেরামতকাজে অংশ নিতে দেখা গেছে।

এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরান শুধু ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি পুনরুদ্ধারই করছে না, ড্রোন উৎপাদনও পুনরায় শুরু করেছে এবং নতুন লাঞ্চার ও উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তুলছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে ইরান গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পূর্বাভাসের চেয়েও দ্রুত অগ্রগতি অর্জন করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি আধুনিক যুদ্ধের একটি বাস্তবতা তুলে ধরেছে। যেখানে অত্যাধুনিক ও ব্যয়বহুল অস্ত্র দিয়ে যে ক্ষতি করা হয়, তা অনেক সময় সাধারণ নির্মাণযন্ত্র ব্যবহার করেই তুলনামূলক দ্রুত মেরামত করা সম্ভব হয়। ফলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি বলে তারা সতর্ক করেছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত