
পৃথিবীর কক্ষপথে প্রথমবারের মতো পৌঁছানোর লক্ষ্যে মহাকাশে উড়েছে মার্কিন বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের বিশালাকৃতির ‘স্টারশিপ’। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ‘স্টারবেস’ উৎক্ষেপণকেন্দ্র থেকে স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪৯ মিনিটে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এটি ‘স্টারশিপ’ কর্মসূচির ১৪তম পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন।
লাইভ প্রতিবেদনে বিবিসি জানায়, উৎক্ষেপণের পর স্টারশিপের ওপরের ধাপটি ‘সুপার হেভি’ বুস্টার থেকে সফলভাবে বিচ্ছিন্ন হয়। এরপর সুপার হেভি বুস্টারটি নির্ধারিত গতিপথে ফিরে গিয়ে মেক্সিকো উপসাগরে নিয়ন্ত্রিতভাবে পানিতে অবতরণ করে। স্পেসএক্সের নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে এ সময় করতালির শব্দ শোনা যায়। এবার বুস্টারটিকে উৎক্ষেপণ টাওয়ারের যান্ত্রিক বাহু দিয়ে ধরে ফেলার চেষ্টা করেনি প্রতিষ্ঠানটি; সমুদ্রে অবতরণের পদ্ধতিই বেছে নেওয়া হয়েছে।
উৎক্ষেপণের পর লাইভ সম্প্রচারে রকেটটির গতি ঘণ্টায় ২৬ হাজার কিলোমিটারের বেশি হয়ে যায়। উড্ডয়নের সময় ৩৩টি ইঞ্জিনের একটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিতও পাওয়া যায়। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে এই ঘটনায় স্টারশিপের উড্ডয়ন পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হয়নি এবং ওপরের ধাপটি তার যাত্রা অব্যাহত রাখে।

এই মিশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হলো স্টারশিপের প্রথম পূর্ণাঙ্গ কক্ষপথে প্রবেশ। উৎক্ষেপণের প্রায় ২৫ মিনিট পর বন্ধ ইঞ্জিনটি চালু করে স্টারশিপের গতিপথকে কক্ষপথের উপযোগী করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর মহাকাশযানটির পৃথিবীকে প্রায় ছয়বার প্রদক্ষিণ করার কথা। পুরো মিশনটি প্রায় ১০ ঘণ্টা স্থায়ী হবে—এমন পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এবারের মিশনে প্রথমবারের মতো স্টারশিপ দিয়ে বাণিজ্যিক উপগ্রহও কক্ষপথে পাঠানো হচ্ছে। মহাকাশযানটির ভেতরে রয়েছে ২৬টি নতুন প্রজন্মের ‘স্টারলিংক ভি-৩’ উপগ্রহ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কক্ষপথে পৌঁছানোর পর এগুলো একে একে মহাকাশে স্থাপন করা হবে।
স্টারশিপের ওপরের ধাপটি পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ শেষে দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে নিয়ন্ত্রিতভাবে অবতরণ করবে। একই সঙ্গে এই মিশনে মহাকাশযানটির তাপরোধী টাইল, কক্ষপথ পরিবর্তন ও ভবিষ্যতে পুনর্ব্যবহারের উপযোগিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এর আগে স্টারশিপের ১৩টি পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন হলেও সেগুলো পূর্ণাঙ্গ কক্ষপথে প্রবেশের জন্য পরিকল্পিত ছিল না। ফলে ফ্লাইট-১৪-এর মাধ্যমে কক্ষপথে প্রবেশ করতে পারলে স্পেসএক্সের পুনর্ব্যবহারযোগ্য মহাকাশযান তৈরির প্রকল্পে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ধাপ হবে।
স্পেসএক্সের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় স্টারশিপ ব্যবহারের মাধ্যমে পৃথিবীর কক্ষপথে বিপুল পরিমাণ মালামাল ও উপগ্রহ পাঠানো, চাঁদে মানুষ পাঠানোর জন্য নাসার ‘আর্টেমিস’ কর্মসূচিতে সহায়তা করা এবং ভবিষ্যতে মঙ্গলগ্রহে মানব অভিযানের অবকাঠামো তৈরি করা রয়েছে।
তবে মিশনটি এখনো চলমান। উৎক্ষেপণ, ধাপ বিচ্ছিন্নতা ও সুপার হেভির সমুদ্রে অবতরণ সফল হলেও স্টারশিপের কক্ষপথে প্রবেশ, ২৬টি স্টারলিংক উপগ্রহ স্থাপন এবং শেষ পর্যন্ত নিরাপদে পৃথিবীতে ফেরার বিষয়গুলোই হবে এই পরীক্ষার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের মেগারকেট ‘স্টারশিপ’ ১৪তম বারের মতো পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের পর অবশেষে সফলভাবে পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) টেক্সাসের স্টারবেস কেন্দ্র থেকে উৎক্ষেপণের পর মহাকাশে ২৬টি স্টারলিংক ভি-৩ স্যাটেলাইট স্থাপন করে রকেটটি।
২ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনার অংশ হিসেবে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ইরানি বার্তা সংস্থা আইএসএনএ-এর এক প্রতিবেদনের বরাতে আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে...
৪ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক ‘ধাক্কা’ খাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চল ছেড়ে যেতে বাধ্য হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। আজ দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
৪ ঘণ্টা আগে
ইকুয়েডরের বন্দরনগরী মান্তা বিশ্বজুড়ে ‘টুনা মাছের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত। প্রজন্মের পর প্রজন্ম এখানকার মানুষ প্রশান্ত মহাসাগরের সমৃদ্ধ জলরাশিতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কিন্তু দারিদ্র্য, সীমিত কর্মসংস্থান এবং বিপুল অর্থের হাতছানিতে মান্তার কিছু জেলে এখন জড়িয়ে পড়ছেন কোকেন পাচারের সঙ্গে।
৪ ঘণ্টা আগে