Ajker Patrika

নেপালে ফের বন্যায় পাহাড়ে আটকা ৯ বাংলাদেশিসহ শতাধিক পর্যটক

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৬: ৪৫
নেপালে ফের বন্যায় পাহাড়ে আটকা ৯ বাংলাদেশিসহ শতাধিক পর্যটক
নেপালের জনপ্রিয় মানাসলু ট্রেকিং রুটের বিভিন্ন পয়েন্টে আটকা পড়েছেন পর্যটকেরা। ছবি: এএফপি

নেপালের মধ্যাঞ্চলের গোর্খা জেলায় ফের আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। এর মধ্যে ৯ জন বাংলাদেশি পর্যটক রয়েছেন বলেও জানা গেছে আল জাজিরার প্রতিবেদনে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশি ট্রেকার বা পর্বতপথে হাঁটতে যাওয়া পর্যটকেরা দেশটির জনপ্রিয় মানাসলু ট্রেকিং রুটের বিভিন্ন পয়েন্টে আটকা পড়েছেন। গতকাল সোমবারের বন্যায় সেতু, সড়কপথ ও কয়েক শ বাড়িঘর ভেসে যায়।

মানাসলু সংরক্ষণ এলাকা প্রকল্পের কর্মকর্তা ভুবন রাজ ওঝা জানান, বন্যার কারণে পদব্রজে ভ্রমণের পথের কিছু অংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে।

ভুবন রাজ আরও জানান, যাঁরা ফিরে যেতে চান, তাঁদের দ্রুত উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে আর যাঁরা ট্রেকিং চালিয়ে যেতে চান, তাঁদের নিরাপদ স্থানগুলোতে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। আটকে পড়া পর্যটকদের আশ্রয়ের জন্য পথের ধারের রেস্তোরাঁ ও চায়ের দোকানগুলো বর্তমানে নিরাপদ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জাতীয় দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত রোববার ভোরে কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত গোর্খা জেলায় এক বড় ভূমিধসে বুড়ি গণ্ডকী নদীর প্রবাহ আটকে গেলে এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। এরপরই কালো কাদামাটি ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতে নদীপারের দুই শতাধিক বাড়িঘর ভেসে যায় এবং তিনটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রসহ ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো নিহতের খবর পাওয়া না গেলেও অন্তত পাঁচজন গ্রামবাসী নিখোঁজ রয়েছেন।

বর্তমানে নদীর পানির উচ্চতা কিছুটা কমায় উদ্ধার অভিযান জোরদার করেছে নেপাল সেনাবাহিনী। ইতিমধ্যে ১২ জন বিদেশিসহ ৩২১ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে গোর্খা জেলার জগৎ গ্রামে এখনো ৯ জন বাংলাদেশি ট্রেকার আটকা পড়ে আছেন বলে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়।

গোর্খা জেলার জগৎ গ্রামে আটকা পড়া বাংলাদেশি ট্রেকার মো. শাহাদাত হোসেন বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে জানান, হেলিকপ্টারের মাধ্যমে তাঁদের সরিয়ে নেওয়া হতে পারে বলে আশা করছেন তাঁরা।

শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘গতকাল থেকে আমরা জগতে আটকা পড়ে আছি। গ্রামের ওপরের দিক থেকে আকস্মিক বন্যার পানি নেমে এসে গ্রামের নিচের অংশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।’

শাহাদাত আরও বলেন, ‘আমরা নিরাপদে আছি। তবে গতকাল থেকে বিদ্যুৎ নেই। বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। খাবারের সরবরাহও ধীরে ধীরে কমে আসছে।’

গোর্খা জেলার কর্তৃপক্ষ নদীর ভাটিতে দুই তীরের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

জাতীয় দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ গোর্খা, তানাহুন, চিতওয়ান, পূর্ব নাওয়ালপারাসি ও পশ্চিম নাওয়ালপারাসি জেলার নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদেরও বন্যার বিষয়ে সতর্ক করেছে।

বুড়ি গণ্ডকী নদী ত্রিশূলী নদীর একটি উপনদী। এর ভাটিতে থাকা আরও একটি উপনদীতে হিমবাহ ধসে গত আগস্টে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল। ওই বন্যায় ১ হাজার ৪৫৭ জনের মৃত্যু হয়। এখনো হাজারো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত