
ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে যে যুদ্ধ ছড়িয়েছিল গোটা মধ্যপ্রাচ্যে, তা আপাতত থেমে যাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন বিশ্বনেতারা। ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা এই যুদ্ধবিরতিকে দীর্ঘ করা এবং সংকট সমাধানে চূড়ান্ত চুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন।
বিবিসি, সিএনএন, গার্ডিয়ান, আল জাজিরাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এই তথ্য উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে রাশিয়া বলেছে, এই যুদ্ধবিরতির ফলে যুক্তরাষ্ট্র এখন ইউক্রেন বিষয়ে ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা আবার শুরু করতে প্রয়োজনীয় সময় ও সুযোগ পাবে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, রাশিয়া আশা করে, শান্তি আলোচনা অব্যাহত রাখতে আগামী দিনগুলোয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করবে।
যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক বিবৃতিতে বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব সব পক্ষকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে’ এবং এই অঞ্চলে ‘স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ’ শান্তির পথ প্রশস্ত করতে যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং এক যৌথ বিবৃতিতে যুদ্ধবিরতির খবরকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন, এই যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের দিকে নিয়ে যাবে। যুদ্ধবিরতিতে ভূমিকা রাখার জন্য আলবানিজ ও পেনিং পাকিস্তান, মিসর, তুরস্ক ও সৌদি আরবকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এই যুদ্ধবিরতির মধ্যে লেবাননকে যুক্ত করতে হবে। সেখানে হামলা বন্ধ করতে হবে।
যুদ্ধবিরতিতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি এই যুদ্ধবিরতির ফাঁকে দুই পক্ষকে একটি চুক্তি করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করছিল স্পেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ গতকালও ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, একটি গোষ্ঠী পুরো বিশ্বে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে, তারা এখন একটি ফুলের তোড়া নিয়ে হাজির হলে তাদের তারা স্বাগত জানাবে না।
নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স বলেন, তাঁর সরকার যুদ্ধবিরতির খবরকে স্বাগত জানাচ্ছে, যদিও এখনো অনেক উদ্বেগ রয়ে গেছে। নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুদ্ধবিরতি আলোচনায় ভূমিকার জন্য পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিসরের মতো দেশের প্রশংসা করেছেন।
আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে বলেছে, ‘আশা করি এই যুদ্ধবিরতি পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি নিয়ে আসবে।’ পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ায় পর থেকেই ভারত বারবার ‘কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ’ খোঁজার ওপর জোর দিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরানো এবং হরমুজ প্রণালি খোলার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার।
জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি মিনোরু কিহারা সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির খবরকে টোকিও ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ হিসেবে স্বাগত জানাচ্ছে এবং তারা ‘চূড়ান্ত চুক্তির’ অপেক্ষা করছে।
ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুদ্ধবিরতির খবরকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, স্থায়ী সমাধান অর্জনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে হবে। মন্ত্রণালয় থেকে আরও বলা হয়, ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংকট মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানায় এবং সংলাপ ও কূটনীতির ভাষাকে অগ্রাধিকার দেয়। তারা এই যুদ্ধবিরতির প্রতি পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা ও কোনো ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি থেকে বিরত থাকার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছে।
মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ উপস্থাপন করছে, যা আলোচনা, কূটনীতি ও গঠনমূলক সংলাপের পথ তৈরি করতে অবশ্যই কাজে লাগাতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া বিবৃতিতে তারা আরও বলেছে, সামরিক অভিযান বন্ধ করা ও আন্তর্জাতিকভাবে চলাচলের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে এই যুদ্ধবিরতির ভিত্তি তৈরি করতে হবে। পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে যৌথভাবে মিসরও ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রচার করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।
ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, জাকার্তা এই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানায়। তারা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে একে অপরের ‘সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও কূটনীতির’ প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বানও জানিয়েছে।
মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই যুদ্ধবিরতি একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ নির্দেশ করছে এবং এটি ‘উত্তেজনা হ্রাস ও মধ্যপ্রাচ্যে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃস্থাপনের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে কাজ করবে।

সংঘাতের অবসান নিয়ে দুপক্ষই নিজেদের বিজয়ী দাবি করছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, সামরিকভাবে ইরান পরাজিত হয়েছে এবং তাদের প্রতিরক্ষাশিল্প, নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে চুক্তি করা ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।
১ ঘণ্টা আগে
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, হরমুজ বর্তমানে উন্মুক্ত। অন্যদিকে, ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটি এখনো পুরোপুরি খোলেনি এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার বা আগামী শুক্রবার নাগাদ ‘সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত’ আকারে খুলে দেওয়া হতে পারে।
১ ঘণ্টা আগে
যদিও ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা এখনো বহাল রয়েছে, তবু ট্রাম্প তাঁর পোস্টে দাবি করেছেন, সেখানে ‘শাসন পরিবর্তন’ হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।
২ ঘণ্টা আগে
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের কারাগার থেকে পাঠানো এক ইস্টার বার্তা ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এই বার্তায় তিনি নিজের পরিস্থিতির সঙ্গে যিশুখ্রিষ্টের কষ্টের তুলনা টেনেছেন, যা ধর্মীয়ভাবে সংবেদনশীল ও অযৌক্তিক।
২ ঘণ্টা আগে