Ajker Patrika

নাইজেরিয়ায় ৪১টি মোটরসাইকেলে করে তিন গ্রামে হামলা, ৪৬ জন নিহত

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪: ২৮
নাইজেরিয়ায় ৪১টি মোটরসাইকেলে করে তিন গ্রামে হামলা, ৪৬ জন নিহত
এ হামলার ঘটনায় নিহতের পাশাপাশি বহু মানুষকে অপহরণ করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নাইজার রাজ্যের তিনটি গ্রামে মোটরসাইকেলে করে এসে অন্তত ৪৬ জনকে হত্যা করেছে বন্দুকধারীরা। গতকাল শনিবার ভোরে এই ঘটনা ঘটে বলে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানা যায়। এই হামলার ঘটনায় নিহতের পাশাপাশি বহু মানুষকে অপহরণ করা হয়েছে এবং গ্রামগুলোর অধিকাংশ ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোকে উদ্ধৃত করে এএফপি জানায়, মোটরসাইকেলে করে আসা বন্দুকধারীরা অনেককে গুলি করে বা গলা কেটে হত্যা করে, বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ‘অনির্ধারিত’সংখ্যক মানুষকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, কোংকোসো গ্রামে ৩৮ জনকে গুলি করে অথবা গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া তুঙ্গা-মাকেরি গ্রামে সাতজন এবং পিসা গ্রামে একজন নিহত হয়েছেন।

কোংকোসো গ্রামের এক বাসিন্দা জানান, হামলাকারীরা তাঁর ভাগ্নেসহ ২৬ জনকে হত্যা করেছে এবং গ্রামটির প্রায় ৮০ শতাংশ ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে।

নাইজেরিয়ায় বহু বছর ধরেই ‘ব্যান্ডিট’ নামে পরিচিত সশস্ত্র অপরাধী চক্রগুলো হামলা ও অপহরণ চালিয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে এই ধরনের ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নাইজার অঙ্গরাজ্যের পুলিশ মুখপাত্র ওয়াসিউ আবিওদুন এএফপিকে জানান, তুঙ্গা-মাকেরিতে সাতজন নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর অনেককে অপহরণ করা হয়েছে।’

কোংকোসোর বাসিন্দারা জানায়, ওই এলাকা থেকে চার নারীকে অপহরণ করা হয়েছে। এরপর ‘ব্যান্ডিট’রা পিসা গ্রামে গিয়ে একটি পুলিশ স্টেশনে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং একজনকে হত্যা করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানিয়েছে এএফপি।

এএফপির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘৪১টি মোটরসাইকেলে করে হামলাকারীরা আসে, প্রতিটি মোটরসাইকেলে দুই বা তিনজন করে আরোহী ছিল।’

দেশটিতে চলমান সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনতে নাইজেরিয়ার নেতাদের ওপর চাপ বাড়ছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নাইজার ও কাওয়ারা রাজ্যের সীমান্তবর্তী কাইঞ্জি বনভূমি এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র ডাকাত (ব্যান্ডিট) এবং আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জিহাদি গোষ্ঠী জেএনআইএমের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত।

এই মাসের শুরুতে পার্শ্ববর্তী কাওয়ারা রাজ্যে জিহাদিদের হামলায় ১৬০ জনের বেশি নিহত হয়েছিল। গত নভেম্বরে একটি ক্যাথলিক বোর্ডিং স্কুল থেকে ২৫০ জনের বেশি শিশুকে অপহরণ করা হয়েছিল, যাদের পরে মুক্তি দেওয়া হয়।

নাইজেরিয়ার এই ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র বড়দিনের দিনে নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় সোকোতো অঙ্গরাজ্যে ইসলামপন্থী জঙ্গিদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। খ্রিষ্টানদের ওপর পরিচালিত সহিংসতাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ‘তারা যদি খ্রিষ্টানদের হত্যা অব্যাহত রাখে, তবে আরও হামলা চালানো হবে।’

যদিও নাইজেরিয়া সরকার এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সহিংসতায় খ্রিষ্টান ও মুসলিম, উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত