Ajker Patrika

গাঁজা বৈধ করতে রাস্তাফারিয়ানদের আবেদন খারিজ কেনিয়ার আদালতে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৬, ১৭: ২৯
গাঁজা বৈধ করতে রাস্তাফারিয়ানদের আবেদন খারিজ কেনিয়ার আদালতে
ছবি: এএফপি

ধর্মীয় উদ্দেশ্যে গাঁজার (ক্যানাবিস) ব্যবহার বৈধ করার দাবিতে কেনিয়ার রাস্তাফারিয়ান সম্প্রদায়ের করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির হাইকোর্ট। আদালত রায়ে বলেছেন, বিদ্যমান মাদকবিরোধী আইন তাদের সাংবিধানিক ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করছে—এমন দাবি প্রমাণে আবেদনকারীরা যথেষ্ট ভিত্তি উপস্থাপন করতে পারেননি।

ছয় বছর ধরে চলা এই আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে বিচারপতি বাহাতি মওয়ামুয়ে বলেন, ক্যানাবিস চাষ, সংরক্ষণ ও ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। তবে তিনি একই সঙ্গে মন্তব্য করেন, ক্যানাবিস নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে খোলামেলা আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।

রাস্তাফারি সোসাইটি অব কেনিয়া আদালতে দাবি করেছিল, তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসে ক্যানাবিস একটি পবিত্র ধর্মীয় উপাদান বা ‘স্যাক্রামেন্ট’। তাই অনুসারীদের ব্যক্তিগত বাসা কিংবা নির্ধারিত উপাসনালয়ে ধর্মীয় আচার পালনের সময় গাঁজা চাষ, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া উচিত। তারা স্পষ্ট করে জানায়, সারা দেশে ক্যানাবিস বৈধ করার দাবি নয়, বরং শুধু ধর্মীয় উদ্দেশ্যে সীমিত ছাড় চেয়েছিল।

কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি দেয়, এই ধরনের ধর্মীয় ব্যতিক্রম অনুমোদন করলে মাদকবিরোধী আইন কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়বে এবং অবৈধ ক্যানাবিস পাচারের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

রায়ে বিচারপতি মওয়ামুয়ে আরও বলেন, রাস্তাফারি ধর্মে ক্যানাবিস কতটা অপরিহার্য—এই বিষয়ে আদালতে উপস্থাপিত তথ্য ছিল অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও অপর্যাপ্ত। ফলে এটিকে ধর্ম পালনের অপরিহার্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার মতো যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়া যায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, ধর্মীয় কারণে কোনো ধরনের ছাড় দিতে হলে তার জন্য শক্তিশালী সাংবিধানিক ও আইনি ভিত্তি থাকতে হবে।

কেনিয়ার প্রচলিত নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস (কন্ট্রোল) আইন অনুযায়ী, ক্যানাবিস রাখা এখনো ফৌজদারি অপরাধ। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য গাঁজা রাখলেও সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা ৮০০ ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। আর গাঁজা চাষের শাস্তি সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কেনিয়ায় ক্যানাবিস বৈধ করার দাবিও জোরালো হয়েছে। সমর্থকদের মতে, নিয়ন্ত্রিতভাবে গাঁজার চাষ ও বাণিজ্য বৈধ করা হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কর আদায় বৃদ্ধি এবং শিল্প ও চিকিৎসা খাতে এর ব্যবহার সম্প্রসারণ সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে কেনিয়ার হাইকোর্ট এক রায়ে রাস্তাফারিয়ান ধর্মকে সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত ধর্মীয় পরিচয় হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। সে সময় এক শিক্ষার্থীকে তার জটা চুলের কারণে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন বলে আদালত রায় দিয়েছিলেন। বর্তমানে কেনিয়ায় রাস্তাফারিয়ানদের সঠিক সংখ্যা জানা না গেলেও বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এই আন্দোলনের জনপ্রিয়তা বাড়ছে বলে ধারণা করা হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত