Ajker Patrika

২৬-এ থেমে গেলেন ক্যানসারের বিরুদ্ধে নিজের লড়াই তুলে ধরা টিকটক তারকা সিডনি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
২৬-এ থেমে গেলেন ক্যানসারের বিরুদ্ধে নিজের লড়াই তুলে ধরা টিকটক তারকা সিডনি
জনপ্রিয় টিকটক তারকা ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার সিডনি টাউল। ছবি: সংগৃহীত

বিরল ও আক্রমণাত্মক ক্যানসারের সঙ্গে প্রায় তিন বছর ধরে লড়াই করে মারা গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় টিকটক তারকা ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার সিডনি টাউল। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ২৬ বছর। পিত্তনালির (বাইল ডাক্ট) ক্যানসার শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার পর সৃষ্ট জটিলতায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন।

বিবিসি জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় সিডনির ভাই অস্টিন টাউল, তাঁদের মাকে পাশে নিয়ে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, প্রায় তিন বছর ধরে ‘কোলানজিওকারসিনোমা’ নামের বিরল ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পর আগের রাতে সিডনি শান্তিপূর্ণভাবে মারা গেছেন। মৃত্যুর কয়েক দিন আগে তাঁকে হসপিস কেয়ারে নেওয়া হয়েছিল।

মৃত্যুর সময় নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাসকারী সিডনির টিকটকে অনুসারীর সংখ্যা ছিল ১০ লাখের বেশি এবং ইনস্টাগ্রামে দুই লাখেরও বেশি। গত তিন বছর ধরে তিনি কেমোথেরাপি, হাসপাতালের দিনগুলো, শারীরিক কষ্ট, মানসিক সংগ্রাম, আশা-নিরাশা এবং জীবনের ছোট ছোট আনন্দের মুহূর্তগুলো নিয়মিত ভিডিওর মাধ্যমে অনুসারীদের সঙ্গে ভাগ করে নিতেন।

পরিবার এক বিবৃতিতে জানায়, সিডনি বিরল ধরনের ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং রোগীদের নিজেদের চিকিৎসা বিষয়ে সক্রিয়ভাবে কথা বলার গুরুত্ব তুলে ধরতে সবসময় উৎসাহী ছিলেন। তাঁর পরিবার জানিয়েছে, তাঁর এই উত্তরাধিকার তারা ভবিষ্যতেও ধরে রাখবে।

সিডনির মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর হাজারো অনুসারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেন। অভিনেত্রী অ্যালিসা মিলানো মন্তব্য করেন, ‘মিষ্টি এক দেবদূত, শান্তিতে থাকো। যারা তাঁকে ভালোবাসতেন, তাঁদের সবার জন্য প্রার্থনা করছি।’ অনেক অনুসারী লিখেছেন, তাঁর সাহস, ইতিবাচক মনোভাব ও জীবনপ্রেম তাঁদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।

চলতি বছরের মে মাসে হাসপাতাল থেকে প্রকাশিত কয়েকটি ভিডিওতে সিডনি জানান, তাঁর ক্যানসার পেরিটোনিয়াম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১৯ মে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি বলেন, তাঁর অনকোলজিস্ট আর চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারবেন না এবং জীবনাবসানের প্রস্তুতি নিতে পরামর্শ দিয়েছেন। তবে সিডনি সেই পরামর্শ মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে অন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

মরণব্যাধির সঙ্গে লড়াই করেও তিনি জীবনকে উদ্‌যাপন করতে ভোলেননি। নাচ, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, সাজগোজ এবং দৈনন্দিন জীবনের আনন্দময় মুহূর্ত তিনি নিয়মিত শেয়ার করতেন। সম্প্রতি তিনি নিজের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করে মিয়ামি সুইম উইকে দ্য কেমো ক্লাব এক্স পোস্ট সুইম আয়োজিত ফ্যাশন শোতে সাঁতারের পোশাক পরে র্যাম্পে হাঁটেন।

সামাজিক মাধ্যমে তাঁর একটি বার্তা বহু মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছিল—‘প্রিয় আইসক্রিম কিনুন, প্রিয় সিনেমাটি দেখুন। জীবন ভালোও, খারাপও। খারাপ ঘটনা ঘটলেই জীবন খারাপ হয়ে যায় না।’ নিজের অস্ত্রোপচারের দাগ দেখাতে কখনো সংকোচ বোধ করতেন না সিডনি। তাঁর ভাষায়, ‘এই শরীরের দৃঢ়তা ও সৌন্দর্য আমি এখন নতুন করে দেখতে শিখেছি। স্বপ্নের শেষ তখনই হয়, যখন আপনি নিজেই সেটিকে শেষ হতে দেন।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত