
সংগীত মানুষের মনকে শান্ত করে—এ কথা বহুদিন ধরে প্রচলিত। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রে সংগীত শুধু মনে নয়, শরীরেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, প্রিয় গান শুনতে গিয়ে গায়ে হঠাৎ কাঁটা দেওয়া, অদৃশ্য উচ্ছ্বাসে মন ভরে ওঠা কিংবা সামান্য সময়ের জন্য সব দুশ্চিন্তা মিলিয়ে যাওয়া—এসবের বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে। ফিনল্যান্ডের ট্যুরকু পিইটি সেন্টার ও ট্যুরকু বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন একটি গবেষণা বলছে, আক্ষরিক অর্থেই শরীরে ওষুধের মতো প্রভাব সৃষ্টি করে সংগীত।
বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে ভাবছিলেন—বেঁচে থাকার জন্য সংগীতের সরাসরি কোনো সুবিধা নেই। এটি শিকার থেকে রক্ষা করে না, খাদ্য সঞ্চয়েও সাহায্য করে না। তারপরও কেন এটি পৃথিবীর সব সংস্কৃতির অপরিহার্য উপাদান?
তবে গবেষকদের করা ব্রেন ইমেজিং দেখাচ্ছে, সংগীত মস্তিষ্কের সেই একই ‘ন্যাচারাল ওপিওয়েড সিস্টেম’ সক্রিয় করে, যা সুস্বাদু খাবারের স্বাদ পাওয়া বা কারও সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সময় সক্রিয় হয়। অর্থাৎ, সংগীতও শরীরে ‘ভালো অনুভূতির’ রাসায়নিক উৎপন্ন করতে সক্ষম।
মার্কিন ‘গুড’ ম্যাগাজিনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত একটি গবেষণায় ১৫ জন নারী অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের দেহে একটি বিশেষ ট্রেসার ইনজেক্ট করা হয়েছিল। পরে তাঁরা প্রত্যেকে নিজের পছন্দের ও নানা ঘরানার গান নিয়ে একটি প্লেলিস্ট তৈরি করেন। প্রথম ধাপে তাঁদের মস্তিষ্কে এলোমেলো শব্দ শোনার সময় স্ক্যান করা হয় আর দ্বিতীয় ধাপে শোনানো হয় প্রিয় গান। তুলনায় দেখা যায়, প্রিয় গান শোনার পর আবেগ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মূল্যায়নের সঙ্গে যুক্ত মস্তিষ্কের অংশগুলো অনেক বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
আরও বিস্ময়কর তথ্য পাওয়া যায় অংশগ্রহণকারীরা যখন ‘গুজবাম্প’ বা গায়ে কাঁটা দেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানান। প্রতিবারই দেখা যায়, ওই মুহূর্তে তাঁদের মস্তিষ্কে এন্ডোজেনাস ওপিওয়েড নিঃসরণ বাড়ছে—যা শরীরে স্বাভাবিকভাবে উৎপন্ন একধরনের ‘আনন্দদায়ক’ রাসায়নিক। একই সঙ্গে আবেগ, দেহ-অনুভূতি ও উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণকারী নেটওয়ার্কগুলোকেও সক্রিয় হতে দেখা গেছে এফএমআরআই স্ক্যানে। অংশগ্রহণকারীদের হার্টবিট ও চোখের মণির আকার বদলাতেও দেখা যায়—যা শারীরিক উত্তেজনারই লক্ষণ।
এ বিষয়ে আরও পরীক্ষার প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন গবেষকেরা। তাঁরা মনে করছেন, এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে ব্যথানাশক ওষুধ ও ওপিওয়েডের ব্যবহার কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ, আগের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সংগীত ব্যথা কমাতে সক্ষম। একই সঙ্গে মুড ডিসঅর্ডার, বিষণ্নতা বা আনন্দ অনুভব করতে অক্ষমতার মতো সমস্যার থেরাপিতেও সংগীত নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
মানুষের পূর্বপুরুষেরা কীভাবে সংগীতকে শরীর ও মস্তিষ্কের সঙ্গে যুক্ত করেছিল—তা জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তবে এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যায়, আপনি যখন প্রিয় গানটি আবার শুনে ভালো লাগায় ভেসে যান, এর পেছনে রয়েছে মস্তিষ্কের সত্যিকারের একটি রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া বা একটি প্রাকৃতিক ও নিরাপদ ওষুধ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঈদের ছুটিতে রোগীদের সেবা অটুট রাখতে দেশের সব সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, লেবার রুম, জরুরি অস্ত্রোপচার এবং পরীক্ষাগার চালু রাখাসহ ১৬টি নির্দেশনা দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান পাঠানো চিঠিতে বেসরকারি হাসপাতালেও জরুরি সেবা..
২ দিন আগে
দীর্ঘায়ু লাভের আশায় বর্তমানে একদল মানুষ এমন কিছু ওষুধের দিকে ঝুঁকছেন, যা মূলত টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং স্থূলতা নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরি। গ্লুকাগন-লাইক পেপটাইড-১ রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট (জিএলপি-১) নামের এই ওষুধগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত হলো ‘সেমাগ্লুটাইড’ (যা ওজেম্পিক বা ওয়েগোভী নামে বাজারে পাওয়া যায়)।
৩ দিন আগে
ওষুধের যেমন নিরাময় করার ক্ষমতা আছে, তেমনি ক্ষতি করার ক্ষমতাও রয়েছে। আইবুপ্রোফেনের মতো ওষুধগুলো কার্যকর এবং নিরাপদ হলেও রোগীদের এর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকা উচিত—বিশেষ করে যাদের কিডনি রোগের ঝুঁকি আছে।’ তিনি রোগীদের প্রয়োজনে বিকল্প ওষুধ ব্যবহারের কথা বিবেচনা করতে এবং কোনো সংশয় থাকলে ফার্মাসিস্টের
৩ দিন আগে
ঈদুল ফিতর মানেই শিকড়ের টানে ঘরে ফেরা। যান্ত্রিক শহরের ব্যস্ততা ফেলে প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে প্রতিবছর লাখো মানুষ নাড়ির টানে গ্রামের বাড়ি ছোটেন। কিন্তু এই আনন্দের যাত্রায় আমাদের অজান্তে সঙ্গী হতে পারে কোটি কোটি অদৃশ্য জীবাণু।
৩ দিন আগে