Ajker Patrika

চশমার বিকল্প আইসিএল সার্জারি, যা জানা জরুরি

ডা. মো. আরমান হোসেন রনি
চশমার বিকল্প আইসিএল সার্জারি, যা জানা জরুরি
ছবি: সংগৃহীত

সবার চোখ আইসিএল সার্জারি অস্ত্রোপচারের উপযুক্ত নয়। এর সুবিধা, সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকি সম্পর্কে জেনে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। আইসিএলের পূর্ণ রূপ ইমপ্ল্যান্টেবল কলামার লেন্স। এটি বিশেষ উপাদানে তৈরি পাতলা, নমনীয় কৃত্রিম লেন্স। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চোখের রঙিন অংশ বা আইরিসের পেছনে এবং প্রাকৃতিক লেন্সের সামনে বসানো হয়। এতে চোখের নিজস্ব লেন্স অক্ষত থাকে। আইসিএল আলোকরশ্মিকে রেটিনায় সঠিকভাবে কেন্দ্রীভূত করে স্পষ্ট দেখতে সাহায্য করে।

যে সমস্যায় কাজে আসে

মূলত মায়োপিয়া বা দূরের জিনিস ঝাপসা দেখার সমস্যা সংশোধনে আইসিএল ব্যবহার করা হয়। যাঁদের মাইনাস পাওয়ার বেশি, তাঁদের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে বিবেচিত হতে পারে। পাশাপাশি টরিক আইসিএলের সাহায্যে মায়োপিয়ার সঙ্গে থাকা অ্যাস্টিগম্যাটিজম বা সিলিন্ডার পাওয়ারও সংশোধন করা যায়।

যাঁরা করাতে পারেন

চোখের পাওয়ার স্থিতিশীল এবং চোখের গঠন উপযুক্ত হলে আইসিএল বিবেচনা করা যায়। কর্নিয়া পাতলা হওয়ায় যাঁদের ল্যাসিক করা সম্ভব নয়, তাঁদের কারও কারও জন্যও এটি বিকল্প হতে পারে। তবে শুধু পাতলা কর্নিয়া বা বেশি পাওয়ার থাকাই যথেষ্ট নয়। চোখের ভেতরে লেন্স বসানোর পর্যাপ্ত জায়গা এবং কর্নিয়ার সুস্থতা নিশ্চিত করতে হয়। বয়স ও পাওয়ারের গ্রহণযোগ্য সীমা নির্ভর করে ব্যবহৃত লেন্সের অনুমোদনের ওপর।

অস্ত্রোপচার-পূর্ববর্তী পরীক্ষা

অস্ত্রোপচারের আগে চোখের পাওয়ার, দৃষ্টিশক্তি, কর্নিয়ার গঠন, কর্নিয়ার পেছনের এন্ডোথেলিয়াল কোষের সংখ্যা, চোখের সামনের প্রকোষ্ঠের গভীরতা, চোখের চাপ ও রেটিনা পরীক্ষা করা হয়। এসব পরিমাপের ভিত্তিতে লেন্সের আকার ও পাওয়ার নির্বাচন করা হয়। গ্লুকোমা, চোখের প্রদাহ বা রেটিনার রোগ থাকলে উপযোগিতা বিশেষভাবে মূল্যায়ন করতে হয়।

যেভাবে অস্ত্রোপচার হয়

সাধারণত ড্রপ দিয়ে চোখ অবশ করা হয়। কর্নিয়ার প্রান্তে ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে ভাঁজ করা লেন্স চোখের ভেতরে ঢুকিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে বসানো হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয় না। অনেকের দৃষ্টি কয়েক দিনের মধ্যেই উন্নত হয়। তবে স্থিতিশীল হতে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে।

ল্যাসিকের সঙ্গে পার্থক্য

ল্যাসিকে কর্নিয়ার টিস্যু অপসারণ করে তার আকৃতি বদলানো হয়। আইসিএলে কর্নিয়ার টিস্যু অপসারণ ছাড়াই চোখের ভেতরে অতিরিক্ত লেন্স বসিয়ে পাওয়ার সংশোধন করা হয়। কোন পদ্ধতি উপযুক্ত, তা নির্ধারিত হয় রোগীর চোখের অবস্থা, পরীক্ষার ফল ও প্রত্যাশার ভিত্তিতে।

সুবিধার পাশাপাশি সীমাবদ্ধতাও রয়েছে

বেশি মাইনাস পাওয়ার সংশোধন, কর্নিয়ার টিস্যু সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক লেন্স অক্ষত রাখা আইসিএলের উল্লেখযোগ্য সুবিধা। প্রয়োজন হলে লেন্সটি সরানো বা পরিবর্তন করা যায়। তবে লেন্স সরালেই চোখ সম্পূর্ণ আগের অবস্থায় ফিরে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। অস্ত্রোপচারের পরও কিছু পাওয়ার অবশিষ্ট থাকতে পারে এবং বয়স বাড়লে পড়ার চশমার প্রয়োজন হতে পারে।

সম্ভাব্য ঝুঁকি

চোখের চাপ বৃদ্ধি, ছানি, কর্নিয়ার এন্ডোথেলিয়াল কোষ কমে যাওয়া, প্রদাহ, সংক্রমণ এবং লেন্সের অবস্থান পরিবর্তন হতে পারে। রাতে আলোর চারপাশে বলয় বা ঝলকানিও দেখা দিতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে গুরুতর দৃষ্টিহানি ঘটতে পারে। তাই একে শতভাগ ঝুঁকিমুক্ত অস্ত্রোপচার বলা যায় না।

অস্ত্রোপচারের পর যত্ন

চিকিৎসকের নির্দেশমতো ড্রপ ব্যবহার, চোখ না ঘষা এবং নিয়মিত ফলোআপ জরুরি। সাঁতার, ভারী ব্যায়াম ও স্বাভাবিক কাজে ফেরার সময় চিকিৎসকের পরামর্শ মানতে হবে। তীব্র ব্যথা, অতিরিক্ত লাল ভাব বা হঠাৎ দৃষ্টি কমে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ভালো দেখলেও দীর্ঘ মেয়াদে চোখের পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

পরামর্শ দিয়েছেন: ডা. মো. আরমান হোসেন রনি কনসালটেন্ট (চক্ষু), দীন মোহাম্মদ আই হসপিটাল, সোবহানবাগ, ঢাকা

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত