
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আল্লাহ করিম জামে মসজিদ থেকে বেড়িবাঁধ তিনরাস্তা পর্যন্ত চওড়া সড়কটি বছিলা ও মোহাম্মদপুরকে সংযুক্ত করেছে। বছিলা সড়ক নামে পরিচিত এই রাস্তা এক যুগ আগে তৈরি করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। মোহাম্মদপুরকে যানজটমুক্ত করতে এই সড়ক ভূমিকা রাখার কথা থাকলেও তা হয়নি। উল্টো সড়ক চওড়া হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে দখলদারি। এমনকি সড়কের ওপরই বসানো হয়েছে বাজার। তাতে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে যানজট লেগেই থাকে।
সম্প্রতি রাজধানীজুড়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ অবৈধ স্থাপনা ও দোকান উচ্ছেদে কয়েক দিন ধরে অভিযান চালিয়েছে। এই সড়কেও তিন দিন অভিযান চালায় পুলিশ। তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি; সড়কটিতে এখনো সেই পুরোনো চিত্র।
গতকাল রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বছিলা সড়কটি সরেজমিনে দেখা গেছে, আল্লাহ করিম জামে মসজিদ থেকে তিনরাস্তা মোড় পর্যন্ত উভয় পাশেই সারি সারি ভ্যানে করে বিভিন্ন ধরনের সবজি, পণ্য ও মাছ বিক্রি করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও সড়কের ওপরে রেখেই বিক্রি করছেন কেউ কেউ।
পুলিশের উচ্ছেদ অভিযানের পরও কেন বসেছেন জানতে চাইলে ভ্রাম্যমাণ ওই ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান। সড়কটির ফুটওভারব্রিজের নিচে খলিল নামে এক ব্যক্তি ভ্যানে করে তরমুজ বিক্রি করছিলেন। কিছু তরমুজ তিনি ফুটপাতেও রেখেছেন। জানতে চাইলে খলিল বলেন, ‘পুলিশ এলে মহল্লায় যাই, চলে গেলে আবার আসি। সারা পৃথিবীতেই এই ফুটপাতে ব্যবসা হয়, আমরা করলে দোষ কী?’
খলিল আরও বলেন, ‘এখানে কেউ মাগনা (ফ্রি) বসে না। ময়লার বিল, বিদ্যুৎ বিল এবং জায়গার বিল দিই। কেউ তো নিজে নিজে এসে বসে না, কেউ না কেউ বসায়, তারাই সব বুঝবে। আমাদের কোনো চিন্তা নেই। প্রতিটি ভ্যান থেকে দেড় শ থেকে দু শ টাকা তোলা হয়। সেই টাকা যারা নেয়, তারাই বুঝবে। তারাই সব দেখবে।’
অভিযানের পর কীভাবে এটি করছেন, জানতে চাইলে খলিল বলেন, ‘এত ঝামেলার পরও টাকা নেওয়া বন্ধ হয়নি। উল্টো এখন বেশি ঝামেলার কথা বলে বেশি টাকা নেওয়ার কথা বলছে। খরচ বাড়ছে নাকি, সে জন্য টাকাও বাড়াতে চায়।’
একই সুরে কথা বলেন ফুটপাতে চাবিক্রেতা মোতালেব। তিনি বলেন, ‘যারা বসায়, তারাই ওঠায়। তারাই পুলিশে খবর দেয়। যখন পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট আসে, তখন এলাকার ভেতরের সড়কে ঢুকে যাই। পুলিশ চলে গেলে আবার আসি।’
ভ্রাম্যমাণ ওই ব্যবাসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফুটপাতের প্রত্যেক হকার ও ভ্যানচালক দেড় শ টাকা করে দেয়। বড় দোকান দু শ করে দেয়। আল্লাহ করিম মসজিদ থেকে বেড়িবাঁধ তিনরাস্তা পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে দিনভর ফুটপাত ও মূল সড়কে দোকান বসানো হয়। বেশির ভাগ দোকান ভ্যানে।
চা-দোকানি মোতালেব বলেন, সকালে দোকান কম থাকে। বিকেলে সড়কে পাঁচ সারি পর্যন্ত দোকান বসে। মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে বেড়িবাঁধ তিনরাস্তা পর্যন্ত দুপাশে ৪০০-৫০০ দোকান বসে। যারা আসে তারা টাকা দিলেই বসতে পারে। কাউকে না করা হয় না।
সড়কটির হকাররা জানিয়েছেন, এই সড়কের ফুটপাতের দোকানগুলো থেকে রাব্বি নামের এক তরুণ দৈনিক টাকা তোলেন। রাব্বি প্রকাশ্যে এই টাকা তোলেন। সড়কের ময়ূর ভিলাসংলগ্ন পাশের ফুটপাত সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের একটি কক্ষ আছে, সেই কক্ষের পাশেই আরও একটি কক্ষ রয়েছে, ওই কক্ষ হকারদের কাছে ক্লাবঘর নামে পরিচিত। সেখান থেকে এই ফুটপাতের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ক্লাবটি বাদল নামের এক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে, যাকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সেনাবাহিনী একবার গ্রেপ্তার করেছিল। তিনি এই পুরো এলাকার ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ করেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে ক্লাবটিতে গিয়ে গতকাল দুপুরে কাউকে পাওয়া যায়নি। লোহার গ্রিলের ফটকে তালা দেখা গেছে। অভিযানের কারণে তারা গা ঢাকা দিয়েছে বলে হকাররা জানিয়েছেন।
এই সড়ক ছাড়াও মোহাম্মদপুর, আদাবরের শ্যামলীর রিং রোড এলাকাতেও দেখা গেছে, অভিযানের পর আবার হকার বসেছে। একদিকে অভিযান চলে, অন্যদিকে তারা বসে। মুহূর্তেই পুরোনো চেহারায় ফেরে সড়ক ও ফুটপাত।
বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হজরত আলী বলেন, হকারদের নিয়ে বাণিজ্য করতে চায় সবাই। তাই তাদের বিভিন্ন সময় উচ্ছেদ করা হয়, আবার বসানো হয়। এই বাণিজ্য বন্ধ করতে পারলেই সব ঠিক হবে।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, গত পাঁচ দিনে মোট ১১ লাখ ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা এবং ৯৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ডিএমপির মোবাইল কোর্ট। এ ছাড়া অভিযানে অবৈধভাবে পার্ক করার অভিযোগে দেড় শতাধিক ভিডিও মামলা এবং অর্ধশতাধিক তাৎক্ষণিক মামলা করা হয়েছে। একই সময় অবৈধভাবে স্থাপিত দোকান, পার্ক করা যানবাহনসহ অন্যান্য মালামাল জব্দ করা হয়েছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা ৩০টি স্পটে অভিযান পরিচালনা করেছি। এটা আগামী এক সপ্তাহ পর্যবেক্ষণ করব। এগুলো ধরে রাখতে পারলে, এক সপ্তাহ পর আরও চার দিন আরও ১৮টি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করব।’
মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘যতবার বসবে ততবার তুলে দেওয়া হবে। আমরা স্থানীয়দের সহযোগিতা চাই। যাতে তাঁরা এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করতে জনসচেতনতা সৃষ্টি করেন।’

হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় গতকাল রোববার থেকে জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। প্রাথমিকভাবে যে ৩০টি উপজেলায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে, সেখানে শিশুদের টিকা দিতে আসা অভিভাবকদের বেশ ভিড় দেখা গেছে।
২ ঘণ্টা আগে
সারা দেশের সব জেলা ও উপজেলায় একযোগে আগামী ৩ মে থেকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ (রোববার) ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা জানান।
১৪ ঘণ্টা আগে
দেশজুড়ে অতি সংক্রামক হামে আক্রান্ত সন্দেহে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ৯৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ পরিস্থিতিতে হাম প্রতিরোধে আজ রোববার থেকে শুরু হচ্ছে জরুরি হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি।
১৯ ঘণ্টা আগে
দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় (গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে রোগটির উপসর্গ নিয়ে চারজন মারা গেছে। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
১ দিন আগে