
হাম রোগ মহামারি আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, টিকা সংগ্রহে জরুরি ভিত্তিতে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত টিকা আনার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি বিভাগীয় শহরগুলোতে আইসিইউ সুবিধা চালু এবং সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আজ শনিবার রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ‘সিএমই অন মেডিকেল এথিকস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
দেশের স্বাস্থ্য খাতে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার, জবাবদিহি ও সেবার মানোন্নয়নে চিকিৎসকদের ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা চেয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চিকিৎসকেরা সমাজের অত্যন্ত সম্মানিত শ্রেণি। তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া স্বাস্থ্য খাতকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করলে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে, অন্যথায় এত বড় খাত পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে।’
চিকিৎসকদের পেশাগত আচরণ ও নৈতিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘রোগীরা চিকিৎসকদের ওপর ঈশ্বরের মতো ভরসা করে। তাই আচরণ, দায়িত্ববোধ ও সেবার মান আরও উন্নত করতে হবে।’
সম্প্রতি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, ‘১১ দিনে ৩৩ জন শিশু মারা গেছে, অথচ ভেন্টিলেটরের সংকটের বিষয়টি আগে জানানো হয়নি। আমি ফোন করার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অস্বীকার করেছে। পরে প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গণমাধ্যমের তথ্যই সঠিক ছিল।’
তিনি আরও বলেন, “সরকারের লক্ষ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ‘কলমের সন্ত্রাস’ থেকে মুক্ত করা।” সেই সঙ্গে চিকিৎসকদের সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করা গেলে দেশের কোটি মানুষের উপকার হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে দ্রুত ভেন্টিলেটর সরবরাহে জটিলতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, ব্যক্তিগত উদ্যোগে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় জরুরি ভিত্তিতে তিনটি ভেন্টিলেটর কেনা হচ্ছে এবং আরও সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, অনেক সময় ‘অতিরিক্ত কর্মচাপ’ বা ‘ক্লান্তির কারণে’ চিকিৎসায় ভুল হয়, যা এড়াতে সতর্ক থাকা জরুরি। অস্ত্রোপচারের পর রোগীর শরীরে চিকিৎসা উপকরণ থেকে যাওয়ার মতো ঘটনাও এ ধরনের অসতর্কতার ফল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
চিকিৎসকদের নিয়মিত জ্ঞানচর্চা ও প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে মেডিকেল জার্নাল পড়া এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে শেখা জরুরি।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, হাসপাতালগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির বাড়তি মজুত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে বাড়তি জ্বালানি চাওয়া হয়েছে। আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, সিসিইউ, লেবার রুমসহ গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিকল্প ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ডিজেলের মজুত বাড়িয়ে জেনারেটর ব্যবহারের প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু চক্র জ্বালানি মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে, যা জনগণের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৯৪২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে চলতি মাসে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪২ জনে।
১০ ঘণ্টা আগে
হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে—৪৫১ জনের। এরপর রয়েছে সিলেট বিভাগ, যেখানে মারা গেছে ১৭৭ জন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ৮৪, রাজশাহীতে ৯৩, বরিশালে ৬০, ময়মনসিংহে ৭৯, খুলনায় ৪৪ ও রংপুর বিভাগে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
১১ ঘণ্টা আগে
হার্ট অ্যাটাকের পর স্টেন্ট (রিং নামে বহুল পরিচিত) বসানো কিংবা বাইপাস সার্জারি করে বাড়ি ফিরলেই হৃদ্যন্ত্রের চিকিৎসার শেষ হয় না। এসব চিকিৎসাপদ্ধতির পরও আবার হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকসহ গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি থাকে। এই ঝুঁকি কমাতে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ ওষুধগুলোর একটি হলো স্ট্যাটিন ধরনের ওষুধ।
১ দিন আগে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশে মোট ২৩৩ জনের মৃত্যু হলো। মাসভিত্তিক হিসাবে জানুয়ারিতে ২, ফেব্রুয়ারিতে ২, মে মাসে ১, জুনে ১৩, জুলাইয়ে ৩৬, আগস্টে ৪৩ জন মারা গেছে।
১ দিন আগে