হৃদ্রোগীদের সুস্থতায় পুনর্বাসন মডেল গড়বে সরকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক মানসম্মত, সাশ্রয়ী এবং দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশন (হৃদরোগ পুনর্বাসন) মডেল গড়ে তুলবে সরকার। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ নীতিগত ও কাঠামোগত সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) স্পেশালাইজড হাসপাতালের কনফারেন্স হলে ‘সাশ্রয়ী হৃদরোগ পুনর্বাসন: সমন্বিত কৌশলগত প্রচার ও গবেষণা’ শীর্ষক পাঁচ বছর মেয়াদি গবেষণা প্রকল্পের স্টেকহোল্ডার সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৬৭ শতাংশই অসংক্রামক রোগের কারণে হচ্ছে। এসব রোগের মধ্যে হৃদরোগ অন্যতম প্রধান মৃত্যুর কারণ। ২০২২ সালের জাতীয় জরিপ অনুযায়ী, দেশে মোট মৃত্যুর ২১ শতাংশ হৃদরোগজনিত জটিলতায় ঘটে। স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নতির ফলে মানুষের গড় আয়ু বাড়লেও একই সঙ্গে অসংক্রামক রোগের প্রকোপ বাড়ছে।
মুহিত বলেন, উন্নত বিশ্বে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যায়ামভিত্তিক কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশন হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর পুনরায় হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়। পাশাপাশি হাসপাতালে পুনঃভর্তি কমানো এবং রোগীদের জীবনমান উন্নয়নে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাই হৃদরোগের চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করাও জরুরি।
ড. এম এ মুহিত বলেন, হৃদরোগের চিকিৎসা শুধু ক্লিনিক্যাল সেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর অনেক রোগী উদ্বেগ, বিষণ্ণতা ও নানা ধরনের মানসিক সংকটে ভোগেন। বিশেষ করে কর্মক্ষম বয়সের মানুষের ক্ষেত্রে শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। এ গবেষণায় শারীরিক পুনর্বাসনের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা সময়োপযোগী উদ্যোগ।
গবেষণা ও স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গবেষণার ফলাফল শুধু গবেষণাগার কিংবা বৈজ্ঞানিক জার্নালে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। এসব ফলাফলকে বাস্তবসম্মত জনস্বাস্থ্য নীতি এবং তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবায় প্রয়োগ করতে হবে। বর্তমান সরকার জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী এবং হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সফিউদ্দিন।
উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, এ ধরনের আয়োজন দেশের হৃদরোগ চিকিৎসাসেবাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
সভায় গবেষণা প্রকল্পের প্রধান ও যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রড এস টেলর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক জে এম এ হান্নান। সভায় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনেরা অংশ নেন।









