বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উপলক্ষে ‘স্পট ইট, স্টপ ইট’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে র্যালি ও সচেতনতামূলক সেশনের আয়োজন করেছে এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা। আজ বৃহস্পতিবার আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্ট্রোকের লক্ষণ শনাক্ত করার উপায়, প্রাথমিক করণীয় এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এভারকেয়ার হসপিটালস, বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও ডা. রত্নদীপ চাস্কার; এভারকেয়ার হসপিটালস, বাংলাদেশ-এর গ্রুপ মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. আরিফ মাহমুদ। এ ছাড়া আলোচনা পর্বে ছিলেন এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকার নিউরোলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ও কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর ডা. আব্দুল কাদের শেখ; সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. খন্দকার মাহবুবর রহমান, ডা. এস.এম. হাসান শাহরিয়ার, এবং প্রফেসর ডা. আনোয়ার ইসরাইল।
স্ট্রোকের চিকিৎসায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সময়। মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বেঁধে স্ট্রোক হলে প্রথম সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে ক্লট বাস্টার ইনজেকশন শুরু করতে হয়। কিন্তু সাধারণ মানুষ স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ চিনতে না পারায় চিকিৎসা শুরুতে দেরি হয়, ফলে অনেক ক্ষেত্রে রোগীর জীবন বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে।
সচেতনতামূলক সেশনে স্ট্রোকের লক্ষণ ও প্রাথমিকভাবে করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। হঠাৎ শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে যাওয়া, হাত-পা নিস্তেজ অনুভব হওয়া, কথা অস্পষ্ট হওয়া কিংবা মুখ বেঁকে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা চোখে পড়লে দেরি না করে রোগীকে জরুরি বিভাগে আসা উচিত।
এ প্রসঙ্গে এভারকেয়ার হসপিটালস, বাংলাদেশ—এর গ্রুপ মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. আরিফ মাহমুদ বলেন, ‘স্ট্রোক চিকিৎসায় সময়ই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকায় উন্নত নিউরোলজি ও নিউরোসার্জারি সেবা এক ছাদের নিচেই পাওয়া যায়। জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে ক্রিটিক্যাল কেয়ার পর্যন্ত আমাদের স্ট্রোক ইউনিট সব সময় রোগীদের সেবা দিতে প্রস্তুত থাকে। তবে এই সবকিছু তখনই কাজে আসবে যখন মানুষ সচেতন হবে এবং রোগীকে সময়মতো হাসপাতালে নিয়ে আসবে।’
এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকার নিউরোলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ও কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর ডা. আব্দুল কাদের শেখ বলেন, ‘স্ট্রোকের চিকিৎসায় হাসপাতালের প্রস্তুতি যেমন জরুরি, তেমনি জরুরি মানুষের সচেতনতা। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই এভারকেয়ার হসপিটাল -এর লক্ষ্য। বিশ্ব স্ট্রোক দিবসের এই আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্য সাধারণ মানুষকে সচেতন করা, যাতে তাঁরা স্ট্রোকের লক্ষণ চিনতে এবং দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।’
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকার নিউরোলজি বিভাগে মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড, পেরিফেরাল নার্ভ ও মাংসপেশির বিভিন্ন রোগের পরামর্শ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের সহযোগিতায় স্ট্রোক-পরবর্তী নিউরো রিহ্যাবিলিটেশন সেবাও প্রদান করা হয়।
তাই সাধারণ মানুষ সচেতন হলে, স্ট্রোকের লক্ষণ চিনে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে আনলে অনেকের জীবন বাঁচানো সম্ভব— বলছে এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা কর্তৃপক্ষ।










