Ajker Patrika

পিরিয়ডের সময় যেসব খাবার খেলে মন ভালো থাকবে

ফিচার ডেস্ক
পিরিয়ডের সময় যেসব খাবার খেলে মন ভালো থাকবে
ছবি: ফ্রিপিক

পিরিয়ডের দিনগুলোতে শরীরের সঙ্গে মনটাও কেমন অবসন্ন লাগে। শরীর ও মনের ক্লান্তি দূর করতে সঠিক খাবার দারুণ ভূমিকা রাখে। মাসের এই কয়েকটি দিন হরমোনের ওঠানামার কারণে মুড সুইং, বিষণ্নতা বা হুটহাট মন খারাপ হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তবে খাদ্যতালিকায় কিছু পুষ্টিকর খাবার রাখলে এগুলো শরীরে হ্যাপি হরমোন তৈরিতে সাহায্য করবে এবং মন চনমনে রাখতে সহায়তা করবে।

পিরিয়ডের সময় মন ভালো রাখবে, এমন কিছু খাবার সম্পর্কে জেনে নিন।

ডার্ক চকলেট

পিরিয়ডের সময় অনেকের চকলেট খাওয়ার ইচ্ছে প্রবল হয়। চিনিযুক্ত মিল্ক চকলেট খাওয়ার পরিবর্তে ডার্ক চকলেট বেছে নিতে পারেন। ডার্ক চকলেটে থাকা প্রচুর ম্যাগনেশিয়াম পেশি শিথিল করে এবং পিরিয়ডের ব্যথা কমায়। পাশাপাশি এটি শরীরে এন্ডোরফিন এবং সেরোটোনিন নামক হ্যাপি হরমোন নিঃসরণ বাড়িয়ে নিমেষে মন ভালো করে দেয়।

কলা

কলা এ সময়ের মুড সুইং নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। কলায় রয়েছে প্রচুর পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং ভিটামিন বি৬। এটি শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়, পেট ফাঁপা কমায় এবং বিষণ্নতা দূর করে ভালো ঘুমে সাহায্য করে।

আদা-চা

এক কাপ গরম আদা-চা পিরিয়ডের তীব্র পেটব্যথা দূর করতে সহায়ক। আদার অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান স্নায়ুকে শান্ত করে মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়।

ওটস ও পূর্ণ শস্য

এগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ওটস বা লাল চালের ভাতে থাকা আঁশ রক্তের শর্করা হুট করে বাড়তে বা কমতে দেয় না। এর ফলে হুটহাট মেজাজ খিটখিটে হওয়া এবং শরীরের শক্তি কমে যাওয়ার সমস্যা দূর হয়।

বাদাম ও বীজ

কাঠবাদাম, আখরোট, মিষ্টিকুমড়ার বিচি বা চিয়া সিড খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। এগুলোতে থাকা ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড ও জিংক মস্তিষ্ক সচল রাখে এবং মানসিক চাপ কমায়।

মন ভালো রাখতে যেসব খাবার এড়িয়ে চলতে হবে

পিরিয়ডের সময় হরমোনের ওঠানামার কারণে শরীর এমনিতেই সংবেদনশীল থাকে। এই দিনগুলোতে ভুল খাবার খেলে পেটে গ্যাস, তীব্র পেটব্যথা, ক্লান্তি এবং মুড সুইং বা মেজাজ খিটখিটে হওয়ার সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।

অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ বাদ দিতে হবে

পিরিয়ডের সময় পেটব্যথায় গরম পানীয় পানে আরাম লাগে। তাই বলে অতিরিক্ত চা বা কফি পান করা উচিত নয়। অতিরিক্ত ক্যাফেইন পানে জরায়ুর পেশি শক্ত হয়ে পিরিয়ডের ব্যথা বা ক্র্যাম্প আরও বেড়ে যেতে পারে। এটি বুক ধড়ফড়ানি, গ্যাস ও অনিদ্রার সমস্যাও বাড়ায়।

অতিরিক্ত মিষ্টি ও চিনিযুক্ত খাবার

চকলেট, পেস্ট্রি, আইসক্রিম বা কোমল পানীয় খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা হুট করে অনেক বেড়ে যায় এবং পরক্ষণে আবার নেমে যায়। শর্করার এই ওঠানামার কারণে ক্লান্তি বাড়ে এবং মেজাজ দ্রুত খিটখিটে হয়ে ওঠে।

নোনতা খাবার

চিপস, ফাস্ট ফুড, ক্যানজাত খাবার এবং অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। লবণে থাকা সোডিয়াম শরীরে পানি জমিয়ে রাখে। এর ফলে পেট ফাঁপা, শরীর ভারী লাগা এবং স্তনে ব্যথার মতো অস্বস্তি দেখা দেয়।

অতিরিক্ত ঝাল ও মসলাদার খাবার

অতিরিক্ত তেল-মসলা ও মরিচ দেওয়া তরকারি বা চাটনি এড়াতে হবে। পিরিয়ডের সময় অনেকের হজমপ্রক্রিয়া দুর্বল থাকে। অতিরিক্ত ঝাল খাবার খেলে পেটে অস্বস্তি, গ্যাস, ডায়রিয়া এবং বুক জ্বালাপোড়া হতে পারে।

দুগ্ধজাত খাবার

অনেকের দুধ এবং দুধ দিয়ে তৈরি খাবারে শরীরে সমস্যা হয়। দুধ, পনির বা ভারী ক্রিম রয়েছে এমন খাবারে অ্যারাকিডোনিক অ্যাসিড থাকে, যা পিরিয়ডের ক্র্যাম্প বাড়াতে পারে। যদি দুধ খেলে আপনার পেট ফাঁপা বা গ্যাসের সমস্যা হয়, তবে এই দিনগুলোতে তা এড়িয়ে চলাই ভালো। তবে টক দই খাওয়া যেতে পারে, এটি হজমে সাহায্য করে।

সূত্র: হেলথ লাইন ও অন্যান্য

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত