Ajker Patrika

সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসায় নতুন আশা—তৈরি হলো অ্যান্টিভেনম ককটেল

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ২৮
সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসায় নতুন আশা—তৈরি হলো অ্যান্টিভেনম ককটেল
ছবি: সংগৃহীত

সাপের কামড়ে মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে নতুন ধরনের অ্যান্টিভেনম বা বিষনাশক ওষুধ তৈরি করেছেন ভারত ও ডেনমার্কের বিজ্ঞানীরা। বিভিন্ন প্রজাতির গোখরা সাপের বিষের বিরুদ্ধে বিস্তৃত সুরক্ষা দিতে সক্ষম এই অ্যান্টিভেনম ককটেল সাপের কামড়ের চিকিৎসায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা। বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর হাজারো মানুষের প্রাণ বাঁচাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষকদের মতে, বিভিন্ন প্রজাতির গোখরার বিষে থাকা এনজাইম ও বিষাক্ত উপাদানের ধরন এক নয়। এসব উপাদান স্নায়ু, রক্ত ও শরীরের বিভিন্ন টিস্যুতে আক্রমণ করে। ফলে সব ধরনের গোখরার বিষের বিরুদ্ধে কার্যকর একটি অভিন্ন অ্যান্টিভেনম তৈরি করা এত দিন কঠিন ছিল।

ভারতে প্রতিবছর সাপের কামড়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় বলে বিভিন্ন হিসাবের উল্লেখ করে গবেষকেরা জানিয়েছেন। বর্তমানে ব্যবহৃত অ্যান্টিভেনমেরও বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এক ব্যাচের সঙ্গে আরেক ব্যাচের কার্যকারিতায় পার্থক্য, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রজাতির সাপের বিষের বিরুদ্ধে সীমিত কার্যকারিতা—এসব সমস্যা রয়েছে।

প্রচলিত পদ্ধতিতে ঘোড়ার মতো প্রাণীকে বারবার সাপের বিষ দিয়ে রোগপ্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি করা হয়। পরে প্রাণীর রক্ত থেকে অ্যান্টিবডি সংগ্রহ করে অ্যান্টিভেনম তৈরি করা হয়। এই পদ্ধতি ব্যয়বহুল এবং এতে সক্রিয় প্রতিষেধক উপাদানের উৎপাদনও তুলনামূলক কম।

নতুন পদ্ধতিতে বিজ্ঞানীরা পাঁচটি ক্ষুদ্র অ্যান্টিবডি খণ্ড বা ‘ন্যানোবডি’ নিয়ে একটি ককটেল তৈরি করেছেন। এগুলো বিভিন্ন গোখরা প্রজাতির বিষের গুরুত্বপূর্ণ টক্সিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিষকে শরীরের লক্ষ্যস্থলে পৌঁছাতে বাধা দেয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, এই ককটেল স্পেকট্যাকলড কোবরা, মনোকলড কোবরা ও ভারতের দুই প্রজাতির কিং কোবরার বিষের বিরুদ্ধে ইঁদুরকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিষ প্রয়োগের ৩০ মিনিট পরও এই চিকিৎসা ইঁদুরকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছে। এমনকি বিষের কারণে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়া কিছু ইঁদুরও পরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

গবেষক কার্তিক সুনাগার বলেন, এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে অ্যান্টিভেনম চিকিৎসায় বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। নতুন এই পদ্ধতি ভারতের সাপের কামড়জনিত সমস্যা মোকাবিলায় ‘পরবর্তী প্রজন্মের’ চিকিৎসার পথ খুলে দিতে পারে।

গবেষকদের মতে, ন্যানোবডিগুলো প্রাণীর পরিবর্তে পরীক্ষাগারে অণুজীব ব্যবহার করে ব্যাপক পরিমাণে উৎপাদন করা সম্ভব। ভবিষ্যতে বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় বিষধর সাপের বিষ অনুযায়ী এমন অ্যান্টিভেনম তৈরি করা যেতে পারে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে Science Translational Medicine সাময়িকীতে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত