Ajker Patrika

২২ উপজেলায় ‘শিশু স্বর্গ’ প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসা পাবেন বিশেষ চাহিদাসম্পন্নরা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
২২ উপজেলায় ‘শিশু স্বর্গ’ প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসা পাবেন বিশেষ চাহিদাসম্পন্নরা
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৃহস্পতিবার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন অধিকার ও সেবা সুরক্ষা বিষয়ক আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয় ও বাস্তবায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: সংগৃহীত

দেশের ২২টি জেলার ২২টি উপজেলায় ‘শিশু স্বর্গ’ প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন) ব্যক্তি ও শিশুদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অধিকার ও সেবাকে সরকার চ্যারিটি (দাতব্য কার্যক্রম) হিসেবে নয়, সাংবিধানিক ও নাগরিক অধিকার হিসেবে দেখছে। সাধারণ নাগরিকদের মতো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরাও যেন সমান অধিকার ভোগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন অধিকার ও সেবা সুরক্ষা বিষয়ক আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয় ও বাস্তবায়ন কমিটির সভায় তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের ২২টি জেলার ২২টি উপজেলায় ‘শিশু স্বর্গ’ প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের যাতায়াতের সুবিধা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও মেট্রোরেলে ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নতুন নির্মিতব্য সব রেলস্টেশনে বিশেষ চাহিদাসম্পন্নবান্ধব অবকাঠামো নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শুধু র‍্যাম্প নির্মাণ নয়, টিকিট কেনা, বাহনে ওঠা এবং টয়লেট ব্যবহারের মতো পুরো ভ্রমণপ্রক্রিয়াই যেন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য নির্বিঘ্ন ও সহজলভ্য হয়, সে বিষয়েও কাজ চলছে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষায়িত স্কুলের পাশাপাশি মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্ব দেন ড. মুহিত।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিশেষায়িত স্কুলগুলোকে আরও সুসংগঠিত করা হচ্ছে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুরাও শিক্ষার সুযোগ পায়। একই সঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে সাধারণ বিদ্যালয়গুলোকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্নবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ড. মুহিত বলেন, কোনো হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী শিশু যেন শুধু অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে সাধারণ বিদ্যালয়ে ভর্তি থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য পাঠ্যক্রমে প্রয়োজনীয় সংস্কার, ব্রেইল পদ্ধতি এবং সাইন ল্যাঙ্গুয়েজের ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়েও কাজ চলছে।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। তিনি বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্নবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে শুধু ভৌত অবকাঠামো নয়, ডিজিটাল প্রবেশগম্যতাও নিশ্চিত করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতেও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রতিটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের মধ্যে কোনো না কোনো বিশেষ মেধা বা দক্ষতা রয়েছে। সেই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে একটি মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই সরকারের লক্ষ্য।

এ বিষয়ে প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত