ফ্যাক্টচেক ডেস্ক

একটি অর্ধনির্মিত ব্রিজ। ব্রিজ না বলে সাঁকো বলাই ভালো। তবে সেই সাঁকোর পিলার হিসেবে রয়েছে লোহার চারটি খুঁটি। আর পাটাতন তিনটি সুপারি গাছ।
সেই ব্রিজের গোড়ায় বরিশাল জেলা পরিষদের একটি ভিত্তি প্রস্তর। বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার ৮নং উদয়কাঠী ইউনিয়নের মুনশী বাড়ির খালের ওপর ‘আয়রন ব্রিজ’ নির্মাণের এই ছবি ফেসবুকে পোস্ট করছেন অনেকেই। ভিত্তি প্রস্তরে সেতুর প্রাক্কলিত ব্যয় লেখা আছে এক লাখ টাকা। ফেসবুকে কেউ কেউ এটিকে ১ কোটি টাকার প্রকল্প বলে দাবি করছেন। আবার মন্তব্যের ঘরে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করে লিখছেন, ছবিটি সম্পাদনা হতে পারে।
সরকারি প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তরের পাশে এমন একটি ব্রিজ অনেকের মনেই সন্দেহের উদ্রেক করেছে। ফেসবুকের মন্তব্যের ঘরে চলছে পাল্টাপাল্টি কথার লড়াই। এরকম ব্রিজ সত্যিই বরিশাল জেলা পরিষদ নির্মাণ করেছে কি–না, তা যাচাই করার জন্য ফ্যাক্টচেক বিভাগের কাছে বেশ কয়েকজন পাঠকের অনুরোধ এসেছে।
ফ্যাক্টচেক
৩০ জুলাই আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বরিশাল জেলা পরিষদ থেকে একটি আয়রণ ব্রিজ নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ২০১৭-১৮ অর্থবছরে।
বরাদ্দ দেওয়ার দুই বছর পরও নির্মাণস্থলে দাঁড়িয়ে আছে একটি নড়বড়ে সাঁকো। অভিযোগ আছে, বরাদ্দের পুরো টাকা লোপাট করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার নির্মাণ করেছেন একটি সুপারি গাছের সাঁকো। বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা চলছে। ঘটনাটি বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার উদয়কাঠি ইউনিয়নের পূর্ব উদয়কাঠী গ্রামের।
আয়রণ ব্রিজ নির্মাণের জন্য এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় বরিশাল জেলা পরিষদ থেকে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে এখানে বাঁশ ও সুপারি গাছের সাঁকো ছিল। সেখানে চারটি লোহার বিমের ওপর তিনটি সুপারি গাছ ফেলে নতুন করে সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, একই ধরনের সাঁকো সেখানে আগে থেকেই ছিল।
সাঁকোর গোড়ায় যে নামফলক লাগানো হয়েছে, সেটিতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এক লাখ টাকা ব্যয়ে আয়রণ ব্রিজ নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন ও অর্থায়নে জেলা পরিষদ– এমনটি লেখা রয়েছে। এ সংক্রান্ত বরাদ্দের নামফলকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা থাকার কথা থাকলেও তা নেই।
এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাওলাদ হোসেন সানা বলেন, এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ব উদয়কাঠি গ্রামের মুন্সী বাড়ির সামনের খালে আয়রণ ব্রিজ নির্মাণের জন্য জেলা পরিষদ থেকে এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। জেলা পরিষদে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি দিয়ে ব্রিজ ও রাস্তা নির্মাণ করার বিধান না থাকায় দরপত্র প্রক্রিয়ায় লটারির মাধ্যমে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওই কাজটি পায়। ঠিকাদার লোহার ব্রিজ নির্মাণ না করার বিষয়টি জেলা পরিষদের তৎকালীন প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফাকে জানিয়ে সরেজমিন পরিদর্শনের কথা ছিল।
লকডাউন শেষে অফিস খোলার পর ঠিকাদারকে খুঁজে বের করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে আশ্বাস দেন প্যানেল চেয়ারম্যান।
অপরদিকে লাখ টাকা বরাদ্দের আয়রণ ব্রিজের স্থলে সুপারি গাছের সাঁকো নির্মাণের বিষয়ে বরিশাল জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বানারীপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী হুমায়ূন কবির জানান, নির্মাণকাজটি তদারকির দায়িত্ব পালন করেছেন জেলা পরিষদের একজন প্রকৌশলী। এখানে তাঁর কোনো দায়িত্ব ছিল না।
তবে তিনি মনে করেন, ৩০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪ ফুট প্রস্থের একটি আয়রন ব্রিজ রড–সিমেন্টের ঢালাই দিয়ে এক থেকে দেড় লাখ টাকা বরাদ্দে হয়তো নির্মাণ করা সম্ভব।
সিদ্ধান্ত
বরিশালের সেই ব্রিজের ছবিটি সম্পাদনা করা নয়। ব্রিজটি বরিশাল জেলা পরিষদের অর্থায়নে এক লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করার কথা থাকলেও ঠিকাদার কাজ সম্পন্ন করেননি। চারটি লোহার বিম ও তার ওপর তিনটি সুপারি গাছ ফেলে সাঁকো বানিয়ে দায় সেরেছেন ঠিকাদার। এটি নির্মাণের আগে মুনশী বাড়ির বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে বাঁশের সাঁকো দিয়েই খাল পারাপার করতেন।

একটি অর্ধনির্মিত ব্রিজ। ব্রিজ না বলে সাঁকো বলাই ভালো। তবে সেই সাঁকোর পিলার হিসেবে রয়েছে লোহার চারটি খুঁটি। আর পাটাতন তিনটি সুপারি গাছ।
সেই ব্রিজের গোড়ায় বরিশাল জেলা পরিষদের একটি ভিত্তি প্রস্তর। বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার ৮নং উদয়কাঠী ইউনিয়নের মুনশী বাড়ির খালের ওপর ‘আয়রন ব্রিজ’ নির্মাণের এই ছবি ফেসবুকে পোস্ট করছেন অনেকেই। ভিত্তি প্রস্তরে সেতুর প্রাক্কলিত ব্যয় লেখা আছে এক লাখ টাকা। ফেসবুকে কেউ কেউ এটিকে ১ কোটি টাকার প্রকল্প বলে দাবি করছেন। আবার মন্তব্যের ঘরে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করে লিখছেন, ছবিটি সম্পাদনা হতে পারে।
সরকারি প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তরের পাশে এমন একটি ব্রিজ অনেকের মনেই সন্দেহের উদ্রেক করেছে। ফেসবুকের মন্তব্যের ঘরে চলছে পাল্টাপাল্টি কথার লড়াই। এরকম ব্রিজ সত্যিই বরিশাল জেলা পরিষদ নির্মাণ করেছে কি–না, তা যাচাই করার জন্য ফ্যাক্টচেক বিভাগের কাছে বেশ কয়েকজন পাঠকের অনুরোধ এসেছে।
ফ্যাক্টচেক
৩০ জুলাই আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বরিশাল জেলা পরিষদ থেকে একটি আয়রণ ব্রিজ নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ২০১৭-১৮ অর্থবছরে।
বরাদ্দ দেওয়ার দুই বছর পরও নির্মাণস্থলে দাঁড়িয়ে আছে একটি নড়বড়ে সাঁকো। অভিযোগ আছে, বরাদ্দের পুরো টাকা লোপাট করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার নির্মাণ করেছেন একটি সুপারি গাছের সাঁকো। বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা চলছে। ঘটনাটি বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার উদয়কাঠি ইউনিয়নের পূর্ব উদয়কাঠী গ্রামের।
আয়রণ ব্রিজ নির্মাণের জন্য এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় বরিশাল জেলা পরিষদ থেকে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে এখানে বাঁশ ও সুপারি গাছের সাঁকো ছিল। সেখানে চারটি লোহার বিমের ওপর তিনটি সুপারি গাছ ফেলে নতুন করে সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, একই ধরনের সাঁকো সেখানে আগে থেকেই ছিল।
সাঁকোর গোড়ায় যে নামফলক লাগানো হয়েছে, সেটিতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এক লাখ টাকা ব্যয়ে আয়রণ ব্রিজ নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন ও অর্থায়নে জেলা পরিষদ– এমনটি লেখা রয়েছে। এ সংক্রান্ত বরাদ্দের নামফলকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা থাকার কথা থাকলেও তা নেই।
এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাওলাদ হোসেন সানা বলেন, এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ব উদয়কাঠি গ্রামের মুন্সী বাড়ির সামনের খালে আয়রণ ব্রিজ নির্মাণের জন্য জেলা পরিষদ থেকে এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। জেলা পরিষদে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি দিয়ে ব্রিজ ও রাস্তা নির্মাণ করার বিধান না থাকায় দরপত্র প্রক্রিয়ায় লটারির মাধ্যমে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওই কাজটি পায়। ঠিকাদার লোহার ব্রিজ নির্মাণ না করার বিষয়টি জেলা পরিষদের তৎকালীন প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফাকে জানিয়ে সরেজমিন পরিদর্শনের কথা ছিল।
লকডাউন শেষে অফিস খোলার পর ঠিকাদারকে খুঁজে বের করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে আশ্বাস দেন প্যানেল চেয়ারম্যান।
অপরদিকে লাখ টাকা বরাদ্দের আয়রণ ব্রিজের স্থলে সুপারি গাছের সাঁকো নির্মাণের বিষয়ে বরিশাল জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বানারীপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী হুমায়ূন কবির জানান, নির্মাণকাজটি তদারকির দায়িত্ব পালন করেছেন জেলা পরিষদের একজন প্রকৌশলী। এখানে তাঁর কোনো দায়িত্ব ছিল না।
তবে তিনি মনে করেন, ৩০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪ ফুট প্রস্থের একটি আয়রন ব্রিজ রড–সিমেন্টের ঢালাই দিয়ে এক থেকে দেড় লাখ টাকা বরাদ্দে হয়তো নির্মাণ করা সম্ভব।
সিদ্ধান্ত
বরিশালের সেই ব্রিজের ছবিটি সম্পাদনা করা নয়। ব্রিজটি বরিশাল জেলা পরিষদের অর্থায়নে এক লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করার কথা থাকলেও ঠিকাদার কাজ সম্পন্ন করেননি। চারটি লোহার বিম ও তার ওপর তিনটি সুপারি গাছ ফেলে সাঁকো বানিয়ে দায় সেরেছেন ঠিকাদার। এটি নির্মাণের আগে মুনশী বাড়ির বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে বাঁশের সাঁকো দিয়েই খাল পারাপার করতেন।

সম্প্রতি আজকের পত্রিকার নাম ও ফটোকার্ড ব্যবহার করে ‘হরেকৃষ্ণ হরিবোল, দাঁড়িপাল্লা টেনে তোলঃ পরওয়ার’ শিরোনামে একটি ভুয়া ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
০৩ নভেম্বর ২০২৫
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ভাইরাল একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রাতের রাস্তার মাঝখানে এক মধ্যবয়সী ব্যক্তি এক হাতে একটি স্বচ্ছ বোতল, অপর হাতে বাঘের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। এমনকি বাঘটির মুখে বোতল গুঁজে দিতেও দেখা যায় তাঁকে।
০২ নভেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস পাকিস্তানের যৌথবাহিনীর চেয়ারম্যানকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল যুক্ত বাংলাদেশের মানচিত্রসংবলিত পতাকা উপহার দিয়েছেন বলে ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের দাবি সম্পূর্ণ অসত্য ও কল্পনাপ্রসূত বলে জানিয়েছে সিএ (প্রধান উপদেষ্টা) ফ্যাক্ট চেক।
২৮ অক্টোবর ২০২৫
একটি মেরিন পার্কে এক নারী প্রশিক্ষককে চুবিয়ে হত্যা করেছে অরকা বা কিলার তিমি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।
১৩ আগস্ট ২০২৫