Ajker Patrika

ফ্যাক্টচেক /পদত্যাগ নিয়ে জিয়াউর রহমান সম্পর্কে এমন কথা বলেননি সাবেক রাষ্ট্রপতি সায়েম

ফ্যাক্টচেক ডেস্ক
পদত্যাগ নিয়ে জিয়াউর রহমান সম্পর্কে এমন কথা বলেননি সাবেক রাষ্ট্রপতি সায়েম
সাবেক রাষ্ট্রপতি সায়েমের আত্মজীবনীর বরাতে ভুয়া উদ্ধৃতি প্রচার। ছবি: স্ক্রিনশট

দেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি ও সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের আত্মজীবনীর বরাতে একটি উদ্ধৃতি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রচারিত এসব ( , ) পোস্টে দাবি করা হয়, বিচারপতি সায়েম তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন— ‘জিয়াউর রহমান আমার বিছানায় তাঁর বুটসহ পা তুলে দিয়ে বলেন, “সাইন ইট”। তাঁর এক হাতে ছিল স্টিক, অন্য হাতে রিভলভার। আমি কাগজটা পড়লাম। আমার পদত্যাগপত্র। যাতে লেখা—“অসুস্থতার কারণে আমি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করলাম।” আমি জিয়াউর রহমানের দিকে তাকালাম। ততক্ষণে আট-দশজন অস্ত্রধারী আমার বিছানার চারপাশে অস্ত্র উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। জিয়া আবার আমার বিছানায় পা তুলে আমার বুকের সামনে অস্ত্র উঁচিয়ে বললেন, “সাইন ইট”। আমি কোনোমতে সই করে প্রাণে বাঁচলাম।’ ‘অ্যাট বঙ্গভবন: লাস্ট ফেইজ’ শীর্ষক আত্মজীবনীকে এই পোস্টের সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পোস্টগুলোর কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পোস্টটি সত্য মনে করে অনেকে শেয়ার ও মন্তব্য করছেন।

আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান

প্রচারিত উদ্ধৃতিটির সত্যতা যাচাইয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের লেখা আত্মজীবনী গ্রন্থ ‘At Bangabhaban: Last Phase’ পর্যালোচনা করা হয়। ১৯৮৮ সালে ইংরেজিতে প্রথম প্রকাশিত এই বইটি ১৯৯৮ সালে খ্যাতনামা সাংবাদিক ও লেখক মশিউল আলম বাংলায় অনুবাদ করেন।

বইটিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সম্পর্কিত আলোচনা এবং ওই সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের উল্লেখ থাকলেও বিছানায় বুট তুলে রিভলভার উঁচিয়ে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে সই করিয়ে নেওয়ার মতো কোনো ঘটনার উল্লেখ বা দাবি পাওয়া যায়নি।

বরং বইটির ৩৯ নম্বর পৃষ্ঠায় বিচারপতি সায়েম রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর পদত্যাগের ঘটনা বর্ণনায় লেখেন: ‘১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ বেসামরিক সদস্য বিশেষ সহকারীর নেতৃত্বে আমার কাছে এসে রাষ্ট্রপতির পদ ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। তারা বলেন, তারা তৎকালীন সেনাপ্রধান ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক (CMLA) মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের অধীনে কাজ করতে চান। এতে কি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় না যে, এমনকি ক্ষমতাসীন থেকেও বেসামরিক ব্যক্তিগণ সেনাবাহিনীর অধীনে কাজ করতে চান? আমি তখনই সেখানে, যদিও দ্বিধান্বিত অবস্থায়, পদত্যাগে সম্মত হই।’

বিচারপতি আবু সায়েমের লেখা বইয়ের অংশ। ছবি: স্ক্রিনশট
বিচারপতি আবু সায়েমের লেখা বইয়ের অংশ। ছবি: স্ক্রিনশট

এর আগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ২০২২ সালের ২৫ মে একই বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে হুবহু দাবিতে একটি পোস্ট করেন। জয়ের ফেসবুক পোস্টের বরাতে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস এবং নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন-সহ দেশের একাধিক গণমাধ্যমে ( , ) প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন। ছবি: স্ক্রিনশট
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন। ছবি: স্ক্রিনশট

তবে ২০২২ সালের ৬ জুন আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি প্রকাশিত ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

কম্পেরিজন। ছবি: স্ক্রিনশট
কম্পেরিজন। ছবি: স্ক্রিনশট

সিদ্ধান্ত

সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের আত্মজীবনী গ্রন্থের বরাতে যে তথ্যটি ছড়ানো হচ্ছে সেটি সঠিক নয়। বরং তাঁর নামে একটি কাল্পনিক ও বিভ্রান্তিকর উদ্ধৃতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম বা যেকোনো মাধ্যমে প্রচারিত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য বিভ্রান্তিকর মনে হলে তার স্ক্রিনশট বা লিংক কিংবা সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য আমাদের ই-মেইল করুন। আমাদের ই-মেইল ঠিকানা [email protected]
Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত