
দেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি ও সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের আত্মজীবনীর বরাতে একটি উদ্ধৃতি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রচারিত এসব ( ১, ২ ) পোস্টে দাবি করা হয়, বিচারপতি সায়েম তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন— ‘জিয়াউর রহমান আমার বিছানায় তাঁর বুটসহ পা তুলে দিয়ে বলেন, “সাইন ইট”। তাঁর এক হাতে ছিল স্টিক, অন্য হাতে রিভলভার। আমি কাগজটা পড়লাম। আমার পদত্যাগপত্র। যাতে লেখা—“অসুস্থতার কারণে আমি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করলাম।” আমি জিয়াউর রহমানের দিকে তাকালাম। ততক্ষণে আট-দশজন অস্ত্রধারী আমার বিছানার চারপাশে অস্ত্র উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। জিয়া আবার আমার বিছানায় পা তুলে আমার বুকের সামনে অস্ত্র উঁচিয়ে বললেন, “সাইন ইট”। আমি কোনোমতে সই করে প্রাণে বাঁচলাম।’ ‘অ্যাট বঙ্গভবন: লাস্ট ফেইজ’ শীর্ষক আত্মজীবনীকে এই পোস্টের সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পোস্টগুলোর কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পোস্টটি সত্য মনে করে অনেকে শেয়ার ও মন্তব্য করছেন।
প্রচারিত উদ্ধৃতিটির সত্যতা যাচাইয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের লেখা আত্মজীবনী গ্রন্থ ‘At Bangabhaban: Last Phase’ পর্যালোচনা করা হয়। ১৯৮৮ সালে ইংরেজিতে প্রথম প্রকাশিত এই বইটি ১৯৯৮ সালে খ্যাতনামা সাংবাদিক ও লেখক মশিউল আলম বাংলায় অনুবাদ করেন।
বইটিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সম্পর্কিত আলোচনা এবং ওই সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের উল্লেখ থাকলেও বিছানায় বুট তুলে রিভলভার উঁচিয়ে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে সই করিয়ে নেওয়ার মতো কোনো ঘটনার উল্লেখ বা দাবি পাওয়া যায়নি।
বরং বইটির ৩৯ নম্বর পৃষ্ঠায় বিচারপতি সায়েম রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর পদত্যাগের ঘটনা বর্ণনায় লেখেন: ‘১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ বেসামরিক সদস্য বিশেষ সহকারীর নেতৃত্বে আমার কাছে এসে রাষ্ট্রপতির পদ ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। তারা বলেন, তারা তৎকালীন সেনাপ্রধান ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক (CMLA) মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের অধীনে কাজ করতে চান। এতে কি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় না যে, এমনকি ক্ষমতাসীন থেকেও বেসামরিক ব্যক্তিগণ সেনাবাহিনীর অধীনে কাজ করতে চান? আমি তখনই সেখানে, যদিও দ্বিধান্বিত অবস্থায়, পদত্যাগে সম্মত হই।’

এর আগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ২০২২ সালের ২৫ মে একই বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে হুবহু দাবিতে একটি পোস্ট করেন। জয়ের ফেসবুক পোস্টের বরাতে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস এবং নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন-সহ দেশের একাধিক গণমাধ্যমে ( ১, ২ ) প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

তবে ২০২২ সালের ৬ জুন আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি প্রকাশিত ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের আত্মজীবনী গ্রন্থের বরাতে যে তথ্যটি ছড়ানো হচ্ছে সেটি সঠিক নয়। বরং তাঁর নামে একটি কাল্পনিক ও বিভ্রান্তিকর উদ্ধৃতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে।

একটি সুউচ্চ ভবনের ওপর ঝুলন্ত ফুটবল স্টেডিয়ামের দৃশ্য সংবলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। দাবি করা হচ্ছে, এটি ২০৩৪ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য সৌদি আরবের পরিকল্পনাকৃত ‘স্কাই স্টেডিয়াম’।
৪ ঘণ্টা আগে
‘আমার ছেলে প্রায়ই আমাকে বলে, বাবা, আর কয়েকটা বছর অপেক্ষা করো, আমি তোমার সাথে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলতে চাই’—আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির উদ্ধৃতি দাবিতে একাধিক ফটোকার্ড ও পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
৮ ঘণ্টা আগে
গোপালগঞ্জে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে ৭ বছরের এক শিশুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে।
৩ দিন আগে
মধ্যরাতে ঢাকার মহাখালীতে এক পথচারীকে পিটিয়ে হত্যার দৃশ্য—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
৩ দিন আগে