Ajker Patrika

এখন আর কাজ করতে পারছেন না— ভোক্তার আব্দুল জব্বারের নামে ছড়ানো ফটোকার্ডটি ভুয়া

ফ্যাক্টচেক ডেস্ক  
এখন আর কাজ করতে পারছেন না— ভোক্তার আব্দুল জব্বারের নামে ছড়ানো ফটোকার্ডটি ভুয়া
আলোচিত দাবিতে ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারের নামে ছড়িয়ে পড়া ফেসবুকে পোস্ট। ছবি: স্ক্রিনশট

‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে স্বাধীনভাবে অবৈধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পেরেছি। এখন আর পারছি না’—জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মন্ডলের উদ্ধৃতি দাবিতে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে।

এই দাবিতে ফেসবুকে ভাইরাল কয়েকটি পোস্ট আছে—এখানে , এখানে , এখানে এবং এখানে

গত ২০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ২টার দিকে ‘বাংলা কারেন্ট’ নামের ফেসবুক পেজ থেকে ছড়িয়ে পড়া আলোচিত ফটোকার্ড প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে, মন্তব্যটি সাম্প্রতিক সময়ের। দীর্ঘদিন ধরে ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করে আসা আব্দুল জব্বারকে বাধা দেওয়ার এমন খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

Justajournal’ নামের একটি ফেসবুক পেজে ২১ ফেব্রুয়ারি আনুমানিক রাত ৮টায় শেয়ার করা পোস্টটি রোববার বেলা ১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত এতে ৪২ হাজার ২০০টি রিয়েকশন পড়েছে। পোস্টটি ৫ হাজার ৪০০ বার শেয়ার হয়েছে এবং এতে ১ হাজার কমেন্ট পড়েছে।

ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারের দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ফেসবুক পোস্টের কমেন্ট। ছবি: স্ক্রিনশট
ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারের দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ফেসবুক পোস্টের কমেন্ট। ছবি: স্ক্রিনশট

দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ের শুরুতেই প্রচারিত ভাইরাল ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে আজকের পত্রিকার ফ্যাক্টচেক টিম। যাচাই করে দেখা গেছে, বেশিরভাগ পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডের উৎস হিসেবে ‘বাংলা কারেন্ট’ নামে একটি ফেসবুক পেজের নাম রয়েছে। কিন্তু বাংলা কারেন্ট নামের ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডটিতেও কোনো তথ্য উৎসের উল্লেখ নেই।

আলোচিত দাবির বিষয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে খোঁজ করলে জাতীয় গণমাধ্যমে কোনো প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে অনুসন্ধানে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভির ওয়েবসাইটে ‘রমজানের বাজার মনিটরিংয়ে গিয়ে “মবের” শিকার ভোক্তা অধিকারের ম্যাজিস্ট্রেট’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) চকবাজার থানাধীন মৌলভীবাজার এলাকায় রমজান উপলক্ষে বাজার মনিটরিং অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানের দায়িত্বে ছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল জব্বার মণ্ডল। অভিযানে একটি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ধরা পড়লে মেসার্স দেওয়ান ট্রেডার্স-কে জরিমানা করা হয়। এ সময় মোহাম্মদ আলী ভূট্টো নিজেকে ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি পরিচয় দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি দেন এবং মব সৃষ্টির চেষ্টা করেন। ঘটনার ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

‘রমজানের বাজার মনিটরিংয়ে গিয়ে “মবের” শিকার ভোক্তা অধিকারের ম্যাজিস্ট্রেট’ শিরোনামে আরটিভির প্রতিবেদন। ছবি: স্ক্রিনশট
‘রমজানের বাজার মনিটরিংয়ে গিয়ে “মবের” শিকার ভোক্তা অধিকারের ম্যাজিস্ট্রেট’ শিরোনামে আরটিভির প্রতিবেদন। ছবি: স্ক্রিনশট

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল জব্বার জানান, মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি জরিমানা পরিশোধ করবেন না বলে জানান, ব্যবসায়ীদের জড়ো করতে থাকেন ও দোকানপাট বন্ধ করার ঘোষণা দেন। তিনি হইচই শুরু করেন এবং বিভিন্নভাবে ব্যবসায়ীদের উত্তেজিত করে সরকারি কাজে বাধা প্রদান করেন। এ পরিস্থিতিতে ওই ব্যক্তিকে (মোহাম্মদ আলী ভূট্টো) ইস্যুটি সমাধানে তাঁদের সমিতির অফিসে গিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং দাঁড়িয়ে থেকেই অন্য ব্যবসায়ীদের জড়ো করতে থাকেন। ফলে বাধ্য হয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করা হয়।

বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডলের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া একটি পোস্ট পাওয়া যায়। পোস্টে তিনি দাবিটিকে ভুয়া বলে জানিয়েছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে জব্বার মণ্ডল তাঁর নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানান।

ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারের ফেসবুক পোস্ট। ছবি: স্ক্রিনশট
ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারের ফেসবুক পোস্ট। ছবি: স্ক্রিনশট

এই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমার ছবির সাথে আমার বক্তব্য বলে বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকা/সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসকল বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে তা আমার নয়। এ সকল বক্তব্য আমি কোথাও কাউকে বলি নাই। এসকল বক্তব্য বানোয়াট, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এই বক্তব্যগুলোর সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। এ সকল অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানাচ্ছি।’ (বানান ও লেখা অপরিবর্তিত)

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম বা যেকোনো মাধ্যমে প্রচারিত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য বিভ্রান্তিকর মনে হলে তার স্ক্রিনশট বা লিংক কিংবা সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য আমাদের ই-মেইল করুন। আমাদের ই-মেইল ঠিকানা [email protected]
Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত