
এখন ২০২৬ সাল। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইথিওপিয়া নিয়ে এমন একটি তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে বলা হচ্ছে—সারা দুনিয়ায় এখন ২০২৬ সাল চললেও ইথিওপিয়ায় কেবল ২০১৯ সাল শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে দাবি করা হচ্ছে, দেশটি গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের চেয়ে ৭ থেকে ৮ বছর পিছিয়ে এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ বছরের পুরোনো নিজস্ব ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে।
দাবিতে আরও বলা হচ্ছে, ইথিওপিয়ায় ১৩ মাসে বছর গণনা করা হয় এবং দিনের সময় গণনার পদ্ধতিও অন্য দেশগুলোর তুলনায় আলাদা।
প্রচলিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ক্যালেন্ডারে এখন ২০২৬ সাল। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আফ্রিকা মহাদেশের দেশ ইথিওপিয়া নিয়ে একটি তথ্য বেশ ছড়িয়ে পড়েছে। দাবি করা হচ্ছে—বিশ্বজুড়ে ২০২৬ সাল চললেও ইথিওপিয়ায় কেবল ২০১৯ সাল শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে দাবি করা হচ্ছে, দেশটি সাধারণ গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের চেয়ে ৭ থেকে ৮ বছর পিছিয়ে এবং তারা ১৩ মাসের ক্যালেন্ডারসহ নিজস্ব বিশেষ সময়সূচি অনুসরণ করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই তথ্যটি ঘিরে নেটিজেনদের মধ্যে বেশ কৌতূহল তৈরি হয়েছে। পোস্টের কমেন্টে একজন বলেন, ‘19 ar December এ করনা ভাইরাস হবে।’ অপর একজন বলেন, ‘বাংলাদেশেও তো এখন ১৪৩৩ সাল। কিন্তু আমরা হিসাব করি না। আমরা হিসাব রাখি শুধু কুফফরদের ডেট। না জানি ইসলামি সংস্কৃতি, না জানি বাঙালি সংস্কৃতি।’

ইথিওপিয়ার ক্যালেন্ডার বিষয়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়, আফ্রিকার দেশ নিজস্ব বা গিজ ক্যালেন্ডার ব্যবহার করে। এই ক্যালেন্ডার প্রাচীন কপটিক ক্যালেন্ডারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। ইথিওপিয়ায় যিশু খ্রিষ্টের জন্মসনকে গ্রেগরিয়ান বা ‘পশ্চিমা’ ক্যালেন্ডারের তুলনায় সাত বা আট বছর পরের হিসাবে ধরা হয়। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ১৫৮২ সালে পোপ গ্রেগরি ত্রয়োদশ চালু করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, রোমান চার্চ ৫০০ খ্রিষ্টাব্দে তাদের হিসাবের পরিবর্তন করলেও ইথিওপিয়ান অর্থোডক্স চার্চ প্রাচীন হিসাবই অনুসরণ করে আসছে।
বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ পরে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার গ্রহণ করলেও ইথিওপিয়া নিজস্ব ক্যালেন্ডার ধরে রেখেছে। ‘রোটেট ইথিওপিয়া ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেল’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এশেতু গেতাচেউ বলেন, ‘আমরা অনন্য। আমাদের কখনো কারও উপনিবেশ হইনি। আমাদের নিজস্ব ক্যালেন্ডার আছে। নিজস্ব বর্ণমালা আছে। নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আছে।’
ধারণা করা হয়, ইথিওপিয়ান ক্যালেন্ডারের বয়স প্রায় ১ হাজার ৫০০ বছর। মিসরভিত্তিক ওরিয়েন্টাল অর্থোডক্স খ্রিষ্টান গির্জা কপটিক অর্থোডক্স চার্চের কপটিক ক্যালেন্ডারের সঙ্গে এর অনেক মিল রয়েছে। ইথিওপীয় ক্যালেন্ডারে রয়েছে মোট ১৩টি মাস। প্রথম ১২টি মাসের প্রতিটিতে ৩০ দিন করে থাকে। আর ১৩তম মাস ‘পাগুমে’-তে থাকে পাঁচ দিন; অধিবর্ষে এই মাস হয় ছয় দিনে।
ইথিওপিয়া ভ্রমণকারী অনেকেই দেশটির ক্যালেন্ডার সম্পর্কে জেনে বিস্মিত হন। কেউ কেউ মজা করে ‘সময়ের পেছনে ফিরে যাওয়ার’ অভিজ্ঞতার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন। তবে দেশটিতে কার্যক্রম পরিচালনা করা আন্তর্জাতিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও স্কুলগুলো সাধারণত গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে। ফলে অনেক ইথিওপীয়কে একই সঙ্গে প্রচলিত ইথিওপিয়ান ক্যালেন্ডার এবং পশ্চিমা ক্যালেন্ডার ব্যবহার করতে হয়।
জার্মানিতে বসবাসরত ইথিওপিয়ান প্রত্নতত্ত্ববিদ গোইতোম ডব্লিউ. টেকলে বলেন, ‘এটি খুব কঠিন। আমি এখনো একটির সঙ্গে আরেকটি পুরোপুরি মিলিয়ে নিতে পারি না। এটি বেশ চ্যালেঞ্জিং। আমাকে সময়, দিন—কখনো কখনো মাস, এমনকি বছর নিয়েও ভাবতে হয়।’
টেকলে জানান, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারী ইথিওপীয় এবং দেশের বাইরে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের সময় কিছু প্রতিষ্ঠানকে দুটি ক্যালেন্ডারের মধ্যে বারবার হিসাব পরিবর্তন করতে হয়। এমনকি জন্মসনদ তৈরির মতো সাধারণ কাজেও ইথিওপিয়ান ও পশ্চিমা ক্যালেন্ডারের মধ্যে সমন্বয় করতে গিয়ে সমস্যা হয়।
মধ্যযুগীয় ইউরোপ ও আফ্রিকার ইতিহাস নিয়ে কাজ করা জার্মান ইতিহাসবিদ ভেরেনা ক্রেবস বলেন, ‘ধরা যাক, একটি শিশুর বয়স তিন বছর এবং আপনি তার জন্মসনদের জন্য স্থানীয় সরকারের কাছে আবেদন করলেন। সেখানে আপনি ইথিওপিয়ান পদ্ধতিতে তার বয়স বা তারিখ উল্লেখ করলেন। এরপর আপনাকে বিশ্বাস করতে হবে যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সঠিকভাবে সেটি রূপান্তর করতে পারবেন।’ তিনি বলেন, ‘ফলে কিছু ক্ষেত্রে জন্মদিন বছরে দুই বা তিনবার হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।’
তবে যারা এই ব্যবস্থায় অভ্যস্ত নন, তাদের কাছে বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হলেও ক্রেবস বলেন, তিনি এখন আর এটি নিয়ে খুব বেশি ভাবেন না। তিনি বলেন, ‘আপনি শুধু মানিয়ে নিন। একটির সঙ্গে আরেকটিতে পরিবর্তন করুন। তখন এটি এতটা স্বাভাবিক হয়ে যায় যে অন্যদের কাছে বিষয়টি বিস্ময়কর হতে পারে—এমন কথাও আপনার মাথায়ও আসবে না।’
ক্রেবস আরও বলেন, ইথিওপিয়ান ক্যালেন্ডারই একমাত্র আলাদা ক্যালেন্ডার নয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি প্রাচীন মিসরীয় ক্যালেন্ডারের কথা বলেন, যেখানে ২০২৪ সালকে ৬২৬৬ সাল হিসেবে ধরা হয়। তিনি বলেন, ‘এটি সময় গণনার সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি পদ্ধতি।’
সৌদি আরব ঐতিহ্যগতভাবে ১২ মাস ও ৩৫৪ দিনের হিজরি ক্যালেন্ডারকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। তবে দেশটি সম্প্রতি সরকারি কার্যক্রমে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের সরকারি ক্যালেন্ডার হিব্রু ক্যালেন্ডার।
ক্রেবস মনে করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইথিওপিয়ান ক্যালেন্ডার নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে। এর একটি কারণ হতে পারে, এটি গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের খুব কাছাকাছি হলেও এর থেকে আলাদা।

ইথিওপিয়ার নববর্ষ এনকুতাতাশ প্রতিবছর ১১ সেপ্টেম্বর (অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ারে ১২ সেপ্টেম্বর) উদ্যাপিত হয়। বর্ষার শেষ দিকে যখন রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া থাকে, ঠিক তখনই এই উৎসব উদ্যাপিত হয়। এ সময় ইথিওপিয়ার পাহাড়ি অঞ্চলে ‘আদেই আবেবা’ নামের এক প্রকার হলুদ ফুল ফোটে। নববর্ষের আগের রাতে ‘চিবো’ নামে পরিচিত কাঠের তৈরি মশাল জ্বালিয়ে বর্ষাকে বিদায় জানানো ও নতুন ঋতুকে বরণ করে নেওয়ার প্রতীকী আয়োজন করা হয়। সেই হিসাবে ২০২৬ সালে ১১ সেপ্টেম্বর ইথিওপিয়াতে শুরু হয়েছে নতুন বছর।
আলোকচিত্রী আবেল গাশাও এমন অনেক ইথিওপীয়র একজন, যারা দুটি ক্যালেন্ডারের মধ্যে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে অভ্যস্ত হয়েছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, ইথিওপিয়ান ক্যালেন্ডারই তাঁর বেশি পছন্দ। বিশেষ করে বছর শুরুর সময়কে তিনি ‘আরও যৌক্তিক’ বলে মনে করেন।
নববর্ষ বা এনকুতাতাশ, আমহারিক ভাষায় (ইথিওপিয়ার দাপ্তরিক ভাষা) যার অর্থ ‘রত্নের উপহার’, বর্ষাকালের শেষ দিকে ফোটে, যা ইথিওপিয়ান নববর্ষের প্রতীক। গাশাও বলেন, ‘এটি নতুন করে শুরু করার মতো। আমাদের জন্য এটি নতুন একটি শুরু। এরপর বৃষ্টির পরিমাণ কমে আসে এবং আপনি যেদিকেই যান, সবুজ দেখতে পাবেন।’
তিনি বলেন, ১ জানুয়ারি নতুন বছর শুরু হওয়া ইথিওপিয়ার জন্য খুব একটা যুক্তিসংগত নয়, কারণ তখন দেশটিতে শুষ্ক মৌসুম থাকে। এর বিপরীতে ১১ সেপ্টেম্বর—অথবা অধিবর্ষে ১২ সেপ্টেম্বর—নতুন বছর শুরু হওয়া দেশটির বাস্তবতার সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এদিকে ক্রেবস বলেন, ডিসেম্বর ও জানুয়ারির মধ্যবর্তী সময়েই নতুন বছর শুরু হওয়া উচিত—এমন কোনো কারণ নেই। তাঁর মতে, এর পেছনে মূলত রোমান সাম্রাজ্যের পৌত্তলিক উৎসবগুলোকে খ্রিষ্টীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করার ইতিহাস রয়েছে। তিনি বলেন, ‘তাই আমার মনে হয়, ইথিওপিয়ার ক্ষেত্রে এটি অনেক বেশি যুক্তিসংগত। কারণ এটি প্রায়ই বর্ষাকালের শেষের সঙ্গে মিলে যায়। বর্ষা তখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি, তবে শেষের পথে।’
ইথিওপিয়ায় শুধু মাস, দিন ও বছরই আলাদা নয়। দেশটি নিজস্ব সময় গণনা পদ্ধতিও অনুসরণ করে। বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে দিন শুরু হয় মধ্যরাতে। কিন্তু ইথিওপীয়রা ১২ ঘণ্টার একটি ঘড়ি ব্যবহার করেন, যা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়কে ভিত্তি করে। সকাল শুরু হয়, অর্থাৎ দিন গণনা শুরু হয় সূর্যোদয় থেকে এবং ঘড়িতে সেটি দেখানো হয় ১টা। সে হিসাবে বিশ্বের অধিকাংশ মানুষের হিসাবে সকাল ৭টা ইথিওপিয়ান সময় অনুযায়ী সকাল ১টা।
গাশাও বলেন, এটি ইথিওপিয়ার জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিষুবরেখার কাছাকাছি হওয়ায় দেশটিতে দিনের আলো পাওয়ার সময় তুলনামূলকভাবে প্রায় একই রকম থাকে। তাঁর কাছে এই পদ্ধতিটিই বেশি যৌক্তিক মনে হয়। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, ইউরোপীয় সময় কেন মধ্যরাতে পরিবর্তিত হয়, আমি জানি না। কারণ সবাই তো তখন ঘুমায়।’
স্বাভাবিকভাবেই, বিশেষ করে ইথিওপিয়া ভ্রমণকারী বিদেশিদের জন্য এটি বিভ্রান্তির কারণ হতে পারে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় গাশাও সবসময় নিশ্চিত করে নেন, তারা ইথিওপিয়ান সময় নাকি পশ্চিমা সময় বোঝাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘কেউ যদি বলে, বিকেল ২টায় দেখা করি, আমি আবার নিশ্চিত হয়ে নিই—সে সকাল না বিকেলের সময় বোঝাচ্ছে। এমনকি বিমানের টিকিট কেনার সময়ও এয়ারলাইনগুলো ইউরোপীয় ক্যালেন্ডার ব্যবহার করে। তাই আমার সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে আমি তিন-চারবার যাচাই করি।’
তবে নিজেও ভুল করেছেন বলে জানান গাশাও। একবার তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার সময় পশ্চিমা সময় অনুযায়ী নির্ধারিত ছিল। কিন্তু তিনি সেটিকে ইথিওপিয়ান সময় ধরে নেওয়ায় পরীক্ষা মিস করেন। তিনি বলেন, ‘তারা যখন বলেছিল বিকেল ২টা, আমি ভেবেছিলাম সেটি ইথিওপিয়ান সময়। অর্থাৎ সকাল। আমি পরীক্ষা দিতে গিয়ে কাউকে পেলাম না। ভাবলাম, ঠিক আছে, পরীক্ষা বাতিল হয়েছে।’
টেকলের মতে, দেশের গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে শহরের মানুষের সময় ও ক্যালেন্ডার ব্যবহারে কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে। কারণ শহরের মানুষ নিয়মিত পশ্চিমা সময় ব্যবস্থার সংস্পর্শে আসেন, কিন্তু গ্রামীণ এলাকার অনেক মানুষকে ভিন্ন সময় পদ্ধতি নিয়ে ভাবতে হয় না।
টেকলে বলেন, ‘ইথিওপিয়া একটি অত্যন্ত রক্ষণশীল খ্রিষ্টান দেশ, যেখানে অধিকাংশ মানুষ বাইরের বিশ্বের বিষয় নিয়ে খুব একটা চিন্তা করেন না।’ তাঁর মতে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারী অনেক মানুষের কাছে পশ্চিমা বিশ্বের পদ্ধতি অনুসরণ করা খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। তারা আপনাকে একটি সময় বলে দেবে। কখনো কখনো তারা জানেই না যে সময় গণনার আরেকটি পদ্ধতি আছে।
তবে দেশটির মানুষ যদি ভবিষ্যতে বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে এই পদ্ধতির কী হবে?
জার্মান ইতিহাসবিদ ভেরেনা ক্রেবস বলেন, ‘আমি জানি, বর্তমানে অনেক কৃষকেরও স্মার্টফোন আছে। বিষয়টি সময়ের সঙ্গে কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তা দেখার বিষয়।’ তিনি মনে করেন, আগামী কয়েক দশকে আরও বেশি মানুষের সঙ্গে বিশ্বের যোগাযোগ তৈরি হলে এর প্রভাব পড়তে পারে।
তবে গাশাও মনে করেন না যে এটি খুব জরুরি কোনো বিষয় বা ইথিওপীয়দের জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। টেকলে বলেন, ইথিওপিয়ান অর্থোডক্স চার্চের শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ঐতিহ্যবাহী ইথিওপিয়ান ক্যালেন্ডারই দেশটিতে ব্যবহৃত একমাত্র ক্যালেন্ডার নয়। তিনি বলেন, ‘আমার জানামতে, দক্ষিণ ইথিওপিয়ায় আরও অন্তত দুটি ক্যালেন্ডার আছে, যেগুলো সেখানকার মানুষ ব্যবহার করেন। তাই আপনি আরও অনেক ধরনের ক্যালেন্ডার ব্যবহার করতে পারেন।’
ক্রেবসের মতে, প্রায় ১৩ কোটি মানুষের একটি দেশকে শুধু ‘ব্যবহারিক সুবিধার’ জন্য দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য পরিবর্তন করতে বলা সহজ নয়। তিনি বলেন, ‘বিশ্বায়িত পৃথিবীতে পশ্চিমা পদ্ধতিতে সময় গণনার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বাস্তব সুবিধা ছাড়া অন্য কোনো কারণ নেই।’
বাইরের একজন হিসেবেও আমার মনে হয় না, অন্য কোনো দেশের নিজস্ব স্থানীয় পদ্ধতি হারিয়ে ফেলা উচিত—বিশেষ করে যখন সেই পদ্ধতির সঙ্গে তাদের অনেক বেশি সাংস্কৃতিক গুরুত্ব ও অর্থ জড়িয়ে আছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর করমর্দনের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে।
৪ দিন আগে
সম্প্রতি একটি ছবি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে—ছবিটি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের।
৪ দিন আগে
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের একাধিক পলাতক নেতা-কর্মীকে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া
৫ দিন আগে
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে গতকাল মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিক মিথ্যা দাবি করেছেন। যদিও তিনি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আগে থেকে প্রস্তুত করা বক্তব্য অনুসরণ করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন তাঁর বক্তব্যের বেশ কিছু ভুয়া বা মিথ্যা দাবি শনাক্ত করেছে। এখানে তাঁর কয়েকটি দাবির তথ্য যাচাই
৬ দিন আগে