
দিল্লির কাছে ভারত-ইসরায়েল যৌথ ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্রে হামলার দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে বলা হচ্ছে, ‘নক্সালি’ বিদ্রোহীরা দিল্লির কাছে ভারত ও ইসরায়েলের যৌথ ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্রে শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে এবং ঘটনাটি সাম্প্রতিক সময়ের।
এই দাবিতে ফেসবুকে ভিডিওটি শেয়ার করা হয়েছে এখানে , এখানে , এখানে , এখানে এবং এখানে ।
War and History Insights-WHIS নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে ১২ মার্চ বিকেল ৫টা ২৭ মিনিটে ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। ১ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি আজ শনিবার বেলা ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ২৭ হাজার বার দেখা হয়েছে। ভিডিওটিতে প্রায় ১ হাজার ১০০টি রিয়েকশন এবং ৯২টি কমেন্ট রয়েছে।
কামরুল হাসান নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকেও একই দাবিতে ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। পোস্টটির ক্যাপশনে বলা হয়, দিল্লির কাছে ভারত-ইসরায়েলের যৌথ ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্রে ‘নক্সালি’ বিদ্রোহীরা শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে। এতে কারখানার ভেতরে বড় বিস্ফোরণ ঘটে এবং ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। পোস্টে আরও দাবি করা হয়, এই ঘটনায় অন্তত ৫২ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ভারতীয় ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারাও রয়েছেন। তবে ঘটনার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি ঘোষণা দেওয়া হয়নি বলেও উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া আরও কয়েকটি ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্ট থেকেও একই দাবিতে ভিডিওটি শেয়ার করতে দেখা গেছে। এসব পোস্টের কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবহারকারী ভিডিওটিকে সত্য ঘটনা মনে করেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান
ভিডিওতে আগুনের শিখা ও ঘন ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে আকাশের দিকে উঠতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলের চারপাশে মানুষের চিৎকার ও কান্নার আওয়াজ শোনা যায়। আশপাশে অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ ও দমকল বাহিনীর একাধিক গাড়ি এবং সাইরেনের শব্দও শোনা যায়। এ ছাড়া ভিডিওটির ওপরের ডান কোণে লাল রঙের ‘PTI’ লেখা রয়েছে।
ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা Press Trust of India (PTI)–এর ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে গত ১২ মার্চ প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়, যার সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে ভারতীয় গণমাধ্যম The Indian Express , The Print -সহ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও ভিডিও পাওয়া যায়। এসব প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবি ও ভিডিওর সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওটির মিল রয়েছে।
The Print গত ১২ মার্চ সকাল ৯টা ৪৭ মিনিটে ‘Fire at Uttam Nagar fish market spreads to slums, 300–400 homes destroyed ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, দিল্লির উত্তম নগরের মাটিয়ালা গ্রামে গত বুধবার (১১ মার্চ) গভীর রাতে একটি মাছ বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। রাত প্রায় ১১টা ৫০ মিনিট নাগাদ যখন বিক্রেতারা দোকান গোছাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই আগুনের সূত্রপাত। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের শিখা পাশের বেশ কিছু বস্তিতে ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে অনেক পরিবারের ঘরবাড়ি ক্ষতির মুখে পড়ে।
আশপাশের বাসিন্দারা ধোঁয়া দেখতে পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। দমকলকর্মীরা সারা রাত ধরে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। কয়েক ঘণ্টার টানা লড়াইয়ের পর বৃহস্পতিবার ভোর পৌনে ৪টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে এই সময়ের মধ্যে অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসা হারিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। দিল্লি ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুনে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০টি ঝুপড়ি ঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। আগুনের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

সিদ্ধান্ত
ভাইরাল ভিডিওটি দিল্লির কাছে ভারত-ইসরায়েলের যৌথ ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্রে হামলার নয়। এটি দিল্লির উত্তম নগর এলাকার একটি মাছের বাজারের অগ্নিকাণ্ডের ভিডিও।

গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, ইরানের হামলার ভয়ে ইসরায়েলের জেরুজালেমে ‘গডকে লেখা চিঠি’ বা প্রার্থনার নোট সরিয়ে ফেলা হচ্ছে।
৪ দিন আগে
গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, ইরানের হামলায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছোট ভাই নিহত হয়েছেন। এমনকি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী বেন গভির নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
৪ দিন আগে
ইরানের হামলা থেকে বাঁচতে মার্কিন পুলিশ ভয়ে আজান দিতে শুরু করেছে—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার প্রেক্ষাপটে এমন দাবি নেটিজেনদের নজর কেড়েছে।
৫ দিন আগে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি কিছু ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, ইরানে পাহাড়ের গুহায় ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির গোপন কারখানা রয়েছে। সেখানে পুরোদমে অস্ত্র তৈরির কাজ চলছে।
৫ দিন আগে