
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় শনিবার (১ মার্চ) ভোরে নিজ কার্যালয়ে নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এরপর ধ্বংসস্তূপ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধরনের ছবি সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্স-এ।
এই দাবিতে ফেসবুকে পোস্ট আছে এখানে, এখানে এবং এখানে। এক্সে আছে এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
ইনস্টাগ্রামে পোস্ট আছে এখানে।

Tajin Mahmud নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে গত ১ মার্চ সকাল ১১টায় একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়। খামেনির জীবিত অবস্থার একটি ছবি ও ধ্বংসস্তূপে পাওয়া তাঁর মরদেহের ছবি দাবিতে একটি ছবি একসঙ্গে শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘বিদায় হে প্রিয় রাহবার (১৯৩৯–২০২৬)। বর্তমান পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় জালিমের বিরুদ্ধে একা লড়ে যাওয়া বীর যোদ্ধা। হে আরশের মালিক, আপনি তাঁর শাহাদাত কবুল করুন। শহিদী মিছিলের সেনাপতি হযরত আমির হামজার সঙ্গে তাঁকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে জায়গা করে দিন। আমিন।’
সোমবার (২ মার্চ) দুপুর ১২টা ১০ মিনিট পর্যন্ত পোস্টটিতে ১ লাখ ১৮ হাজারের বেশি রিয়্যাকশন পড়েছে। পোস্টটি ৪ হাজার ৩০০ বার শেয়ার হয় এবং এতে ১৫ হাজার কমেন্ট রয়েছে।
পোস্টগুলোর মন্তব্য যাচাই করে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবহারকারী খামেনির এমন মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই ছবিগুলোকে সত্য বলে বিশ্বাস করলেও কেউ কেউ এগুলোকে গুজব বলেছেন।
Fan Account Richard Kettlebourogh নামের একটি ভ্যারিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকেও ১ মার্চ সকাল ১১টা ৪৭ মিনিটে একটি ছবি পোস্ট করা হয়। সেখানে ক্যাপশনে ইংরেজিতে লেখা হয়, ইসরায়েলের মোসাদ সম্প্রতি আলি খামেনির মরদেহের ছবি প্রকাশ করেছে। পোস্টে মৃত খামেনির দাবিতে দুটি ছবি শেয়ার করা হয়। আজ দুপুর ১টা ২১ মিনিট পর্যন্ত পোস্টটি ৮৪ হাজার দেখা হয়। এতে ১ হাজার ৭৭৪টি লাইক, ১৯৬টি রিপোস্ট ও ৪টি রয়েছে রয়েছে।
আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান
আলোচিত দাবির বিষয়ে অনুসন্ধানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। তথ্যমতে, শনিবার (১ মার্চ) ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিমান হামলা চালানো হয়। পরদিন রোববার ভোরে খামেনির মৃত্যুর কথা স্বীকার করে ইরান। ৮৬ বছর বয়সী খামেনি যে ভবনে ছিলেন, তাঁর একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়। তবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কোনো গণমাধ্যমেই তাঁর মৃত্যুর পর মরদেহের ছবি বা ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তবে ভাইরাল ছবিগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে আজকের পত্রিকার ফ্যাক্টচেক টিম ছবিগুলো পর্যবেক্ষণ করে একাধিক অসংগতি পায়। একটি ছবিতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপে পিলারের নিচে খামেনির মরদেহ চাপা পড়ে আছে। তাঁর মাথা একটি কাঠের ওপর এবং একটি হাত বাইরে বেরিয়ে আছে। মরদেহের পাশে পাগড়ি ও চশমা পড়ে থাকতে দেখা যায়। উদ্ধারকর্মীরা সেখানে মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।
তবে ছবিটি খেয়াল করলে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া অবস্থায়ও তাঁর শরীরে আঘাতের দৃশ্যমান চিহ্ন নেই, রক্তের দাগ নেই বা থেঁতলে যাওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। এমনকি তাঁর ব্যবহৃত চশমাটিও অক্ষত।
অন্য একটি ছড়িয়ে পড়া ছবিতে শুধু তাঁর মুখমণ্ডল দেখা যায়। সাদা দাড়িযুক্ত মুখের চারপাশে মাটি দেখা গেলেও কোথায় বা কীভাবে তিনি আটকে আছেন, তা স্পষ্ট নয়। নাকের ওপর ছোট একটি দাগ ও মুখের ভেতরে কিছু মাটির গুড়ার মতো দেখা যায়, তবে দৃশ্যটি অস্পষ্ট ও অস্বাভাবিক মনে হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত হতে ফ্যাক্টচেক টিম এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম হাইভ মডারেশন (Hive Moderation)–এর সহায়তায় পরীক্ষা করে দেখা যায়, ছবিগুলো এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯ শতাংশ ও ৯৫ শতাংশ।


সিদ্ধান্ত
ধ্বংসস্তূপ থেকে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ উদ্ধারের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলো সত্য নয়। এগুলো এআই দিয়ে তৈরি।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে বলিউড তারকা শাহরুখ খান,সালমান খান ও আমির খান ইরানের পাশে দাঁড়িয়ে শোক প্রকাশ করেছেন— এমন দাবিতে কিছু ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
‘শুধুমাত্র শিবিরকে ভালো লাগার কারণে যদি আমায় ছাত্রদল থেকে বহিষ্কারও করে, তাতেও আমার কোনো আফসোস নেই। আমি সর্বদা ইনসাফের পক্ষে’—শেখ তানভীর বারী হামিমের নামে এমন মন্তব্য সম্বলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
১ দিন আগে
ফেসবুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমের নামে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। দাবি করা হয়েছে, বর্তমান সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের পরিণতি সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ মুরাদ হাসান—এর মতো হবে। ফটোকার্ডটি বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা হয়ে
১ দিন আগে
‘বাংলাদেশে টিকটক প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করতে যাচ্ছে সরকার’—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমান সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী মাহবুব আনামের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রচারিত ফটোকার্ডটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
৩ দিন আগে