কামরুল হাসান

সে সময় কিষণগঞ্জ ছিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর সীমানা পার হয়ে বিহারের পূর্ণিয়া জেলার একটি মহকুমা শহর। পটুয়া কামরুল হাসানদের বহু আত্মীয়-স্বজন কিষণগঞ্জেই স্থিত হয়েছিলেন। কামরুল হাসানের বাবার বড় ভাইও ছিলেন সেখানে। মজার ব্যাপার, সেই পরিবারের পুরুষেরা বলত উর্দু আর মেয়েরা বলত বাংলা। ১৯৩৫ সালে পূজার ছুটিতে বড় বুবুর বিয়ে উপলক্ষে কামরুল হাসান গিয়েছিলেন কিষণগঞ্জে। এরপর গেছেন বহুবার।
কলকাতা থেকে কিষণগঞ্জ গেলে চাচাতো ভাই-বোনেরা যেন হাতে চাঁদ পেতেন; বিশেষ করে মেয়েরা। কারণ, কিছু দিন স্কুলে পড়াশোনা করে তাঁদের পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মুসলিম মেয়েদের বেশি দূর পড়ানো হতো না, তাই তাঁরা তখন অবরোধবাসিনী। সে সময় তাঁদের হিন্দু বান্ধবীদের মাধ্যমে ছায়াছবির খবর পেতেন তাঁরা। অশোক কুমার, দেবিকা রানীসহ সবার নাম শুনতেন আর ভাবতেন সিনেমা দেখতে যাবেন।
কামরুল কিষণগঞ্জে থাকতেই ‘ঝুলা’ সিনেমাটি এল সেখানে। দুই চাচাতো বোন আর এক খালাতো বোন কামরুলকে ধরে বসলেন সিনেমা দেখাতে হবে। ঠিক হলো লুকিয়ে নাইট শোতে যাওয়া হবে। বাড়িতে ছিল একটা ঘোড়ার গাড়ি, একটা গরুর গাড়ি। গরুর গাড়োয়ানকে এক টাকা দিয়ে বলা হলো, রাতে নির্দিষ্ট এক জায়গায় যেন সে গরু নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। কুয়োতলার কাছে কামরুলরা নিয়ে এলেন গরুবিহীন গাড়ি। রাতে যখন চারদিক সুনসান, তখন রাত আটটার পর টুপ করে সে গাড়িতে বসে পড়লেন এক বোন। তারপর আরেক বোন। এবার কামরুল আর এক ভাই জোয়াল তুলে নিলেন কাঁধে। আরও এক বোনকে ওঠালেন। তারপর এগিয়ে চললেন এমনভাবে যেন গরু জোতা হয়েছে গাড়িতে।
কিছুটা দূরেই চতুষ্পদী দুই বলদ নিয়ে অপেক্ষা করছিল গাড়োয়ান। কামরুলরা বলদের ভূমিকা থেকে উদ্ধার পেলেন। এবার সিনেমা হলের দিকে এগিয়ে চলল গরুর গাড়ি। ফেরার পথে আবারও একই রকমভাবে দ্বিপদী বলদের ভূমিকা নিতে হলো কামরুলকে।
সূত্র: কামরুল হাসান, বাংলাদেশের শিল্প আন্দোলন ও আমার কথা, পৃষ্ঠা ১৮৫-১৮৭

সে সময় কিষণগঞ্জ ছিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর সীমানা পার হয়ে বিহারের পূর্ণিয়া জেলার একটি মহকুমা শহর। পটুয়া কামরুল হাসানদের বহু আত্মীয়-স্বজন কিষণগঞ্জেই স্থিত হয়েছিলেন। কামরুল হাসানের বাবার বড় ভাইও ছিলেন সেখানে। মজার ব্যাপার, সেই পরিবারের পুরুষেরা বলত উর্দু আর মেয়েরা বলত বাংলা। ১৯৩৫ সালে পূজার ছুটিতে বড় বুবুর বিয়ে উপলক্ষে কামরুল হাসান গিয়েছিলেন কিষণগঞ্জে। এরপর গেছেন বহুবার।
কলকাতা থেকে কিষণগঞ্জ গেলে চাচাতো ভাই-বোনেরা যেন হাতে চাঁদ পেতেন; বিশেষ করে মেয়েরা। কারণ, কিছু দিন স্কুলে পড়াশোনা করে তাঁদের পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মুসলিম মেয়েদের বেশি দূর পড়ানো হতো না, তাই তাঁরা তখন অবরোধবাসিনী। সে সময় তাঁদের হিন্দু বান্ধবীদের মাধ্যমে ছায়াছবির খবর পেতেন তাঁরা। অশোক কুমার, দেবিকা রানীসহ সবার নাম শুনতেন আর ভাবতেন সিনেমা দেখতে যাবেন।
কামরুল কিষণগঞ্জে থাকতেই ‘ঝুলা’ সিনেমাটি এল সেখানে। দুই চাচাতো বোন আর এক খালাতো বোন কামরুলকে ধরে বসলেন সিনেমা দেখাতে হবে। ঠিক হলো লুকিয়ে নাইট শোতে যাওয়া হবে। বাড়িতে ছিল একটা ঘোড়ার গাড়ি, একটা গরুর গাড়ি। গরুর গাড়োয়ানকে এক টাকা দিয়ে বলা হলো, রাতে নির্দিষ্ট এক জায়গায় যেন সে গরু নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। কুয়োতলার কাছে কামরুলরা নিয়ে এলেন গরুবিহীন গাড়ি। রাতে যখন চারদিক সুনসান, তখন রাত আটটার পর টুপ করে সে গাড়িতে বসে পড়লেন এক বোন। তারপর আরেক বোন। এবার কামরুল আর এক ভাই জোয়াল তুলে নিলেন কাঁধে। আরও এক বোনকে ওঠালেন। তারপর এগিয়ে চললেন এমনভাবে যেন গরু জোতা হয়েছে গাড়িতে।
কিছুটা দূরেই চতুষ্পদী দুই বলদ নিয়ে অপেক্ষা করছিল গাড়োয়ান। কামরুলরা বলদের ভূমিকা থেকে উদ্ধার পেলেন। এবার সিনেমা হলের দিকে এগিয়ে চলল গরুর গাড়ি। ফেরার পথে আবারও একই রকমভাবে দ্বিপদী বলদের ভূমিকা নিতে হলো কামরুলকে।
সূত্র: কামরুল হাসান, বাংলাদেশের শিল্প আন্দোলন ও আমার কথা, পৃষ্ঠা ১৮৫-১৮৭

গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে সর্বশেষ (৫৪ তম) সাক্ষীর জেরা শুরু হয়েছে। এই মামলাটির বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ।
০৬ অক্টোবর ২০২৫
‘দুই দিন আগেই বাড়ি থেকে পাথরঘাটায় চলে এসেছি। এখন পুরোনো জাল সেলাই করছি। এক সপ্তাহের বাজারও করে এনেছি। আজ বিকেলে সাগর মোহনায় যাব, গভীর রাত থেকে জাল ফেলব।’ কথাগুলো বলছিলেন বরগুনা সদরের বাইনচটকী এলাকার জেলে হোসেন আলী। গতকাল বুধবার সকালে বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কথা হয় তাঁর...
১২ জুন ২০২৫
ভারতের স্থলবন্দর নিষেধাজ্ঞার পর সীমান্তে আটকে থাকা তৈরি পোশাক, খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ট্রাকগুলো ফেরত আনছেন রপ্তানিকারকেরা। তবে যেসব ট্রাক বন্দরে ঢুকে গিয়েছিল, সেগুলো ভারতে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব ট্রাক ঢুকতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।
১৯ মে ২০২৫
আধুনিক যুগের সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারগুলোর একটি হচ্ছে গৌতম বুদ্ধের দেহাবশেষের সঙ্গে সম্পর্কিত ঐতিহাসিক রত্নসম্ভার। গতকাল বুধবার হংকংয়ে বিখ্যাত আর্ট নিলাম কোম্পানি সাদাবি’স-এর এক নিলামে এগুলো তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
০৮ মে ২০২৫