Ajker Patrika

সীমা লঙ্ঘনের ফল বিপর্যয়

মুনীরুল ইসলাম
আপডেট : ২২ মার্চ ২০২২, ১৭: ০০
সীমা লঙ্ঘনের  ফল বিপর্যয়

মহান আল্লাহ ভারসাম্যপূর্ণ উপাদানে বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন। তা না হলে পৃথিবীতে মহাবিপর্যয় ঘটত। তাই আল্লাহর অভিপ্রায় হলো, শ্রেষ্ঠ জীব মানুষও পৃথিবীর শান্তিশৃঙ্খলা-পরিবেশ বজায় রাখবে। মাঝেমধ্যে পৃথিবীতে যে বিপদ-বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা যায়, তা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সীমা লঙ্ঘনকারীদের গুনাহের শাস্তি। আল্লাহ বলেন, ‘মানুষের কৃতকর্মের জন্য জলে-স্থলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে তাদের কোনো কোনো কর্মের শাস্তি আস্বাদন করানো হয়, যেন তারা সৎ পথে ফিরে আসে।’ (সুরা রুম: ৪১) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ছোট-বড় যত দুর্ভোগ বা হয়রানি বান্দার ওপর আপতিত হয়, সবই নিজ কর্মদোষে। আর অধিকাংশই আল্লাহ ক্ষমা করে দেন।’ (বুখারি)

আল্লাহ তাআলার অবাধ্য হয়ে আমাদের পূর্ববর্তী অনেক জাতি ও জনপদ ধ্বংস হয়েছে। যেমন হজরত নুহ (আ.)-এর গোত্র আল্লাহর হুকুম অমান্য করে অবাধ্যতার চরম পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় মহাপ্লাবনে ডুবিয়ে তাদের ধ্বংস করেন। হুদ (আ.)-এর সম্প্রদায়ও একই রকম অপরাধী ছিল। তাদের প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড়ে ধ্বংস করেন। শুয়াইব (আ.)-এর গোত্র ওজনে কম দিত। এ ব্যাপারে তারা সীমা লঙ্ঘন করলে আল্লাহ তাদের ধ্বংস করেন। তবে মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতকে আসমানি আজাব না দেওয়ার জন্য তিনি দোয়া করে যান। তাই তাদের সমূলে বিনাশ করবেন না আল্লাহ তাআলা। তবে মাঝেমধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপদ-আপদ দিয়ে সাবধান করা হবে।

তাই সব ধরনের গুনাহ, সীমা লঙ্ঘন এবং প্রকৃতি ধ্বংস করার মতো আত্মঘাতী কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। অতীতের কৃতকর্মের জন্য তওবা করে সংশোধন হতে হবে। না হলে দুনিয়ার শাস্তির পাশাপাশি আখেরাতে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

মুনীরুল ইসলাম, সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরাম

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত