জাহিদ হাসান, যশোর

প্রচণ্ড দাবদাহে পুড়ছে যশোর। এপ্রিলের শুরু থেকেই এই অবস্থা। গতকাল মঙ্গলবার এ জেলায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আলোচনায় এসেছে উন্নয়নকাজের জন্য যশোর জেলা পরিষদের গাছ নিধনের বিষয়টি। গত ৬ বছরে জেলা পরিষদ চার হাজারের বেশি গাছ কেটেছে। এখনো কাটা হচ্ছে ৯৬১টি। কিন্তু এই ছয় বছরে রোপণ করা হয়নি একটি গাছও।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, যশোরে ছয় বছরে সড়ক-মহাসড়ক উন্নয়নের জন্য জেলা পরিষদের মালিকানাধীন ৪ হাজার ২০০ গাছ কাটা হয়েছে; যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০১৮ সালে যশোর-খুলনা মহাসড়কে ১ হাজার ৮৯৫টি গাছ কাটা হয়েছে; যার মূল্য ছিল ৪ কোটি ২১ লাখ টাকা। ২০২১ সালে যশোর-ঝিনাইদহ সড়কের হৈবতপুর ব্রিজ এলাকা থেকে ১২টি গাছ কাটা হয়; যার মূল্য ৬ লাখ ৬২ হাজার টাকা। যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কে ৮৩৫টি গাছ কাটা হয়; যার মূল্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। ২০২২ সালে যশোরের রাজারহাট থেকে চুকনগর মহাসড়কে ৫০৭টি গাছ কাটা হয়; যার মূল্য ছিল ১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। বর্তমানে যশোর-নড়াইল সড়কে ৯৬১টি গাছ কাটা চলমান রয়েছে; যার মূল্য ৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এ ছাড়া যশোর-বেনাপোল (ঐতিহাসিক যশোর রোড) সড়কে শতবর্ষী গাছ বিক্রির
উদ্দেশ্যে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে ৬৯৭টি। তবে আন্দোলন ও হাইকোর্টে নিষেধাজ্ঞায় তা বন্ধ রয়েছে।
যশোর-ঝিনাইদহ সড়কের চুড়ামনকাটি বাজারের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, সাত মাস আগেও এই সড়কের যশোর অংশে বড় বড় গাছ ছিল। এখন আর নেই। এভাবে গাছ নিধনের কারণেই পরিবেশের বিরূপ অবস্থা। উন্নয়নের জন্য গাছ কাটা হলেও এই সড়কের পাশে যদি আবার নতুন করে গাছ লাগাত, তাহলেও কিছুটা রক্ষা হতো।
বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের পরিবেশ নিয়ে কাজ করেছেন চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক মো. ছোলজার রহমান। তিনি বলেন, ‘পরিবেশের প্রতি অতীত ও বর্তমানের দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক আচরণের পাশাপাশি আরও কয়েকটি কারণ এই অঞ্চলের উষ্ণায়নের জন্য দায়ী। গত এক দশকে এই অঞ্চলের অনেক সড়ক ও মহাসড়কের দুই পাশের বৃক্ষ উজাড় করা হয়েছে। এর মধ্যে যশোর-খুলনা, যশোর-ঝিনাইদহ, যশোর-বেনাপোল, যশোর-চৌগাছা-মহেশপুর, যশোর-চুকনগর সড়ক অন্যতম। জমির হিসাবে সড়কের পাশ থেকে প্রায় ৮০০ হেক্টর জমির গাছ উজাড় করা হয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আমাদের অতি জরুরি ভিত্তিতে বেশি বেশি বৃক্ষরোপণের ওপর জোর দিতে হবে।’
ক্ষোভ প্রকাশ করে যশোর রোড উন্নয়ন ও শতবর্ষী গাছ রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব জিল্লুর রহমান ভিটু আজকের পত্রিকাকে বলেন, সড়ক উন্নয়ন হবে, সেটা তো ভালো কথা। গাছ রেখেও পার্শ্ববর্তী দেশে উন্নয়ন চলছে। কিন্তু এখানে তা হচ্ছে না। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল দায়িত্ব নেওয়ার পর অপরিকল্পিতভাবে গাছ সাবাড় করেছেন। কখনো একটি গাছও লাগাননি।
এ বিষয়ে যশোর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আছাদুজ্জামান বলেন, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ মহাসড়ক সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জেলা পরিষদকে গাছ অপসারণের চিঠি দেয়। সেই চিঠির আলোকে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির অনুমোদন ও বিভাগীয় কমিশনারের অনুমোদন সাপেক্ষে গাছ কাটার দরপত্র আহ্বান করা হয়। গাছ বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে।
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল বলেন, ‘গাছ লাগানোর জন্য আমাদের কোনো নির্দেশনা ছিল না। সড়কগুলো কত লেন হবে, সেটা এখনো চূড়ান্ত হয়নি; ইচ্ছেমতো জায়গায় গাছ লাগালে তো আর হবে না। আমরা এবার সওজে রাস্তার শেষ সীমানা বের করে দেওয়ার চিঠি দেব। বিগত সময়ের গাছ বিক্রির টাকার ফান্ড আছে ব্যাংকে। নির্দেশনা পেলে আমরা গাছ লাগাব।’

প্রচণ্ড দাবদাহে পুড়ছে যশোর। এপ্রিলের শুরু থেকেই এই অবস্থা। গতকাল মঙ্গলবার এ জেলায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আলোচনায় এসেছে উন্নয়নকাজের জন্য যশোর জেলা পরিষদের গাছ নিধনের বিষয়টি। গত ৬ বছরে জেলা পরিষদ চার হাজারের বেশি গাছ কেটেছে। এখনো কাটা হচ্ছে ৯৬১টি। কিন্তু এই ছয় বছরে রোপণ করা হয়নি একটি গাছও।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, যশোরে ছয় বছরে সড়ক-মহাসড়ক উন্নয়নের জন্য জেলা পরিষদের মালিকানাধীন ৪ হাজার ২০০ গাছ কাটা হয়েছে; যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০১৮ সালে যশোর-খুলনা মহাসড়কে ১ হাজার ৮৯৫টি গাছ কাটা হয়েছে; যার মূল্য ছিল ৪ কোটি ২১ লাখ টাকা। ২০২১ সালে যশোর-ঝিনাইদহ সড়কের হৈবতপুর ব্রিজ এলাকা থেকে ১২টি গাছ কাটা হয়; যার মূল্য ৬ লাখ ৬২ হাজার টাকা। যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কে ৮৩৫টি গাছ কাটা হয়; যার মূল্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। ২০২২ সালে যশোরের রাজারহাট থেকে চুকনগর মহাসড়কে ৫০৭টি গাছ কাটা হয়; যার মূল্য ছিল ১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। বর্তমানে যশোর-নড়াইল সড়কে ৯৬১টি গাছ কাটা চলমান রয়েছে; যার মূল্য ৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এ ছাড়া যশোর-বেনাপোল (ঐতিহাসিক যশোর রোড) সড়কে শতবর্ষী গাছ বিক্রির
উদ্দেশ্যে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে ৬৯৭টি। তবে আন্দোলন ও হাইকোর্টে নিষেধাজ্ঞায় তা বন্ধ রয়েছে।
যশোর-ঝিনাইদহ সড়কের চুড়ামনকাটি বাজারের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, সাত মাস আগেও এই সড়কের যশোর অংশে বড় বড় গাছ ছিল। এখন আর নেই। এভাবে গাছ নিধনের কারণেই পরিবেশের বিরূপ অবস্থা। উন্নয়নের জন্য গাছ কাটা হলেও এই সড়কের পাশে যদি আবার নতুন করে গাছ লাগাত, তাহলেও কিছুটা রক্ষা হতো।
বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের পরিবেশ নিয়ে কাজ করেছেন চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক মো. ছোলজার রহমান। তিনি বলেন, ‘পরিবেশের প্রতি অতীত ও বর্তমানের দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক আচরণের পাশাপাশি আরও কয়েকটি কারণ এই অঞ্চলের উষ্ণায়নের জন্য দায়ী। গত এক দশকে এই অঞ্চলের অনেক সড়ক ও মহাসড়কের দুই পাশের বৃক্ষ উজাড় করা হয়েছে। এর মধ্যে যশোর-খুলনা, যশোর-ঝিনাইদহ, যশোর-বেনাপোল, যশোর-চৌগাছা-মহেশপুর, যশোর-চুকনগর সড়ক অন্যতম। জমির হিসাবে সড়কের পাশ থেকে প্রায় ৮০০ হেক্টর জমির গাছ উজাড় করা হয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আমাদের অতি জরুরি ভিত্তিতে বেশি বেশি বৃক্ষরোপণের ওপর জোর দিতে হবে।’
ক্ষোভ প্রকাশ করে যশোর রোড উন্নয়ন ও শতবর্ষী গাছ রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব জিল্লুর রহমান ভিটু আজকের পত্রিকাকে বলেন, সড়ক উন্নয়ন হবে, সেটা তো ভালো কথা। গাছ রেখেও পার্শ্ববর্তী দেশে উন্নয়ন চলছে। কিন্তু এখানে তা হচ্ছে না। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল দায়িত্ব নেওয়ার পর অপরিকল্পিতভাবে গাছ সাবাড় করেছেন। কখনো একটি গাছও লাগাননি।
এ বিষয়ে যশোর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আছাদুজ্জামান বলেন, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ মহাসড়ক সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জেলা পরিষদকে গাছ অপসারণের চিঠি দেয়। সেই চিঠির আলোকে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির অনুমোদন ও বিভাগীয় কমিশনারের অনুমোদন সাপেক্ষে গাছ কাটার দরপত্র আহ্বান করা হয়। গাছ বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে।
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল বলেন, ‘গাছ লাগানোর জন্য আমাদের কোনো নির্দেশনা ছিল না। সড়কগুলো কত লেন হবে, সেটা এখনো চূড়ান্ত হয়নি; ইচ্ছেমতো জায়গায় গাছ লাগালে তো আর হবে না। আমরা এবার সওজে রাস্তার শেষ সীমানা বের করে দেওয়ার চিঠি দেব। বিগত সময়ের গাছ বিক্রির টাকার ফান্ড আছে ব্যাংকে। নির্দেশনা পেলে আমরা গাছ লাগাব।’

গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে সর্বশেষ (৫৪ তম) সাক্ষীর জেরা শুরু হয়েছে। এই মামলাটির বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ।
০৬ অক্টোবর ২০২৫
‘দুই দিন আগেই বাড়ি থেকে পাথরঘাটায় চলে এসেছি। এখন পুরোনো জাল সেলাই করছি। এক সপ্তাহের বাজারও করে এনেছি। আজ বিকেলে সাগর মোহনায় যাব, গভীর রাত থেকে জাল ফেলব।’ কথাগুলো বলছিলেন বরগুনা সদরের বাইনচটকী এলাকার জেলে হোসেন আলী। গতকাল বুধবার সকালে বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কথা হয় তাঁর...
১২ জুন ২০২৫
ভারতের স্থলবন্দর নিষেধাজ্ঞার পর সীমান্তে আটকে থাকা তৈরি পোশাক, খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ট্রাকগুলো ফেরত আনছেন রপ্তানিকারকেরা। তবে যেসব ট্রাক বন্দরে ঢুকে গিয়েছিল, সেগুলো ভারতে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব ট্রাক ঢুকতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।
১৯ মে ২০২৫
আধুনিক যুগের সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারগুলোর একটি হচ্ছে গৌতম বুদ্ধের দেহাবশেষের সঙ্গে সম্পর্কিত ঐতিহাসিক রত্নসম্ভার। গতকাল বুধবার হংকংয়ে বিখ্যাত আর্ট নিলাম কোম্পানি সাদাবি’স-এর এক নিলামে এগুলো তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
০৮ মে ২০২৫