এস এস শোহান, বাগেরহাট

বাগেরহাটে আর্থিক স্বচ্ছলতার আকাঙ্ক্ষা ও বিদেশি গাছের প্রতি টান থেকে লাগানো পাম অয়েল গাছ এখন কৃষকদের গলার কাটায় পরিণত হয়েছে। আশানুরূপ ফল না হওয়া এবং ফল থেকে তেল বানাতে না পেরে মাথায় হাত চাষিদের। এ কারণে এক রকম বাধ্য হয়ে শখের গাছ কেটে ফেলছেন তাঁরা। প্রতিটি গাছ কাটতে গুনতে হচ্ছে ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা। এমন পরিস্থিতিতে পড়ে পাম চাষে উদ্বুদ্ধ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি চাষিদের।
কৃষি বিভাগ বলছে, ভালোমন্দ না বুঝে এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ ছাড়াই কৃষকেরা পাম অয়েল গাছের চাষ করেছেন। ভুক্তভোগী চাষিদের সূত্রে জানা যায়, একটি পাম গাছ থেকে বছরে ১০ হাজার টাকা আয় করা যায়। এমন প্রলোভনে বাগেরহাটের বিপুলসংখ্যক চাষি তার জমিতে পাম ওয়েল গাছ লাগিয়েছেন।
শুধু সাধারণ জনগণ নয় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শুরু করে অনেক সরকারি বেসরকারি দপ্তরের চত্বরে লাগানো হয়েছে পাম গাছ। বিদেশি গাছ হওয়ায় চারার দামও নেওয়া হয়েছে অনেক বেশি। প্রতিটি চারা চাষিরা ক্রয় করেছেন ৩০০ থেকে ১২০০ টাকা দিয়ে। গ্রিন বাংলাদেশ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মাঠকর্মীর মাধ্যমে এই চারা বিক্রি করিয়েছেন বলে অভিযোগ চাষিদের। তবে এই প্রতিষ্ঠানের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
চাষিরা জানান, ২০১০ সালের দিকে গ্রিন বাংলাদেশ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাঠকর্মীরা পাম গাছের চারা বিক্রির জন্য এলাকায় আসেন। পাম অয়েলের উপকারিতা সম্পর্কে চাষিদের নিয়ে সেমিনার করেন। চাষিদের ব্যক্তিগতভাবেও বোঝানো হয় পাম গাছের আর্থিক লাভের কথা।
মাঠকর্মীরা নগদ ও কিস্তি দুইভাবেই চারা বিক্রি করেছেন চাষিদের কাছে। চাষিদের বাড়িতে চারা রোপণ, পরিচর্যা ও পরবর্তীতে ফল ক্রয়েরও চুক্তি করেছেন তারা। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চারা বিক্রির পরে আর মাঠকর্মীদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। আর ৪ থেকে ৬ বছর পরে পর্যায়ক্রমে যখন বেশির ভাগ গাছ ফল দেওয়া শুরু হলো তখনো দেখা নেই গ্রিন বাংলাদেশের।
এদিকে গাছে আশানুরূপ ফল না হওয়া, ফল বিক্রি বা ফল দিয়ে তেল তৈরি করতে না পারায় হতাশ চাষিরা। অনেকে গাছ কেটেও ফেলছেন। দরিদ্র চাষিরা টাকার অভাবে জায়গা দখল করে রাখা গাছগুলোকে কাটতেও পারছেন না। হায় হুতাশ করছেন অনেক চাষি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বাগেরহাটের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৯টি উপজেলায় পাঁচ হাজার পামঅয়েল গাছ ছিল। চাষিরা অনেক গাছ কেটে ফেলেছেন। বর্তমানে মাত্র ৯৩৬টি গাছ রয়েছে। এর মধ্যে বাগেরহাট সদর উপজেলায় ৩৫০, শরণখোলায় ২০০, মোরেলগঞ্জে ৯৭, কচুয়ায় ২০, মোংলায় ২১, রামপালে ৯৪, ফকিরহাটে ৫০, চিতলমারীতে ৩৭টি গাছ রয়েছে। তবে চাষি ও স্থানীয়দের দাবি বাগেরহাটে ৫০ হাজারের বেশি পাম গাছের চারা লাগানো হয়েছিল।
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার গোপালপুর গ্রামের শেখ মাসুম বলেন, গ্রিন বাংলাদেশ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমি ৫০টি গাছ লাগিয়েছিলাম। গ্রিন বাংলাদেশের সঙ্গে আমার একটি চুক্তিও হয়েছিল। চারা ক্রয়, গাছ রোপণ ও রোপণ পরবর্তী এক বছরের পরিচর্যায় আমার প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু যখন গাছে ফল আসল তখন আমি আর বিক্রি করতে পারিনি। গাছগুলো অস্বাভাবিক পরিমাণ জায়গা দখল করেছিল। যার কারণে আমি সব গাছ কেটে ফেলেছি। মাত্র একটি গাছ আছে বাড়ির পাশে।
গ্রিন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার জিয়া উদ্দিন মোরল শাহিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। মোরেলগঞ্জ এলাকায় লোকমুখে শোনা যায় তিনি বিভিন্ন অপরাধের কারণে পলাতক রয়েছেন তিনি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. মোতাহার হোসেন বলেন, পামঅয়েল তৈরির জন্য যে কলের প্রয়োজন তা বাংলাদেশে সহজলভ্য নয়। বাগেরহাট-খুলনাসহ এই অঞ্চলে এই ধরনের কল নেই। ফলে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পাম ফল দিয়ে তেল তৈরি করতে পারছেন না। কৃষকদের এই দুর্দশার বিষয়টি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
নরেন্দ্রপুর গ্রামের সালেহা বেগম বেগম বলেন, ঘেরের পাড়ে নারকেল গাছ না লাগিয়ে পামঅয়েল গাছ লাগিয়েছিলাম। ১২টি গাছের ৭টিই কেটে ফেলেছি। এখন মাত্র ৫টি আছে। তবে সেগুলোতেও তেমন ফল হয় না। কাটতেও ঝামেলা আছে। একটি গাছ কাটতে প্রায় দুইজন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। যাতে প্রায় ১ হাজার টাকা খরচ। তবে না কেটেও উপায় নেই।

বাগেরহাটে আর্থিক স্বচ্ছলতার আকাঙ্ক্ষা ও বিদেশি গাছের প্রতি টান থেকে লাগানো পাম অয়েল গাছ এখন কৃষকদের গলার কাটায় পরিণত হয়েছে। আশানুরূপ ফল না হওয়া এবং ফল থেকে তেল বানাতে না পেরে মাথায় হাত চাষিদের। এ কারণে এক রকম বাধ্য হয়ে শখের গাছ কেটে ফেলছেন তাঁরা। প্রতিটি গাছ কাটতে গুনতে হচ্ছে ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা। এমন পরিস্থিতিতে পড়ে পাম চাষে উদ্বুদ্ধ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি চাষিদের।
কৃষি বিভাগ বলছে, ভালোমন্দ না বুঝে এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ ছাড়াই কৃষকেরা পাম অয়েল গাছের চাষ করেছেন। ভুক্তভোগী চাষিদের সূত্রে জানা যায়, একটি পাম গাছ থেকে বছরে ১০ হাজার টাকা আয় করা যায়। এমন প্রলোভনে বাগেরহাটের বিপুলসংখ্যক চাষি তার জমিতে পাম ওয়েল গাছ লাগিয়েছেন।
শুধু সাধারণ জনগণ নয় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শুরু করে অনেক সরকারি বেসরকারি দপ্তরের চত্বরে লাগানো হয়েছে পাম গাছ। বিদেশি গাছ হওয়ায় চারার দামও নেওয়া হয়েছে অনেক বেশি। প্রতিটি চারা চাষিরা ক্রয় করেছেন ৩০০ থেকে ১২০০ টাকা দিয়ে। গ্রিন বাংলাদেশ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মাঠকর্মীর মাধ্যমে এই চারা বিক্রি করিয়েছেন বলে অভিযোগ চাষিদের। তবে এই প্রতিষ্ঠানের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
চাষিরা জানান, ২০১০ সালের দিকে গ্রিন বাংলাদেশ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাঠকর্মীরা পাম গাছের চারা বিক্রির জন্য এলাকায় আসেন। পাম অয়েলের উপকারিতা সম্পর্কে চাষিদের নিয়ে সেমিনার করেন। চাষিদের ব্যক্তিগতভাবেও বোঝানো হয় পাম গাছের আর্থিক লাভের কথা।
মাঠকর্মীরা নগদ ও কিস্তি দুইভাবেই চারা বিক্রি করেছেন চাষিদের কাছে। চাষিদের বাড়িতে চারা রোপণ, পরিচর্যা ও পরবর্তীতে ফল ক্রয়েরও চুক্তি করেছেন তারা। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চারা বিক্রির পরে আর মাঠকর্মীদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। আর ৪ থেকে ৬ বছর পরে পর্যায়ক্রমে যখন বেশির ভাগ গাছ ফল দেওয়া শুরু হলো তখনো দেখা নেই গ্রিন বাংলাদেশের।
এদিকে গাছে আশানুরূপ ফল না হওয়া, ফল বিক্রি বা ফল দিয়ে তেল তৈরি করতে না পারায় হতাশ চাষিরা। অনেকে গাছ কেটেও ফেলছেন। দরিদ্র চাষিরা টাকার অভাবে জায়গা দখল করে রাখা গাছগুলোকে কাটতেও পারছেন না। হায় হুতাশ করছেন অনেক চাষি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বাগেরহাটের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৯টি উপজেলায় পাঁচ হাজার পামঅয়েল গাছ ছিল। চাষিরা অনেক গাছ কেটে ফেলেছেন। বর্তমানে মাত্র ৯৩৬টি গাছ রয়েছে। এর মধ্যে বাগেরহাট সদর উপজেলায় ৩৫০, শরণখোলায় ২০০, মোরেলগঞ্জে ৯৭, কচুয়ায় ২০, মোংলায় ২১, রামপালে ৯৪, ফকিরহাটে ৫০, চিতলমারীতে ৩৭টি গাছ রয়েছে। তবে চাষি ও স্থানীয়দের দাবি বাগেরহাটে ৫০ হাজারের বেশি পাম গাছের চারা লাগানো হয়েছিল।
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার গোপালপুর গ্রামের শেখ মাসুম বলেন, গ্রিন বাংলাদেশ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমি ৫০টি গাছ লাগিয়েছিলাম। গ্রিন বাংলাদেশের সঙ্গে আমার একটি চুক্তিও হয়েছিল। চারা ক্রয়, গাছ রোপণ ও রোপণ পরবর্তী এক বছরের পরিচর্যায় আমার প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু যখন গাছে ফল আসল তখন আমি আর বিক্রি করতে পারিনি। গাছগুলো অস্বাভাবিক পরিমাণ জায়গা দখল করেছিল। যার কারণে আমি সব গাছ কেটে ফেলেছি। মাত্র একটি গাছ আছে বাড়ির পাশে।
গ্রিন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার জিয়া উদ্দিন মোরল শাহিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। মোরেলগঞ্জ এলাকায় লোকমুখে শোনা যায় তিনি বিভিন্ন অপরাধের কারণে পলাতক রয়েছেন তিনি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. মোতাহার হোসেন বলেন, পামঅয়েল তৈরির জন্য যে কলের প্রয়োজন তা বাংলাদেশে সহজলভ্য নয়। বাগেরহাট-খুলনাসহ এই অঞ্চলে এই ধরনের কল নেই। ফলে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পাম ফল দিয়ে তেল তৈরি করতে পারছেন না। কৃষকদের এই দুর্দশার বিষয়টি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
নরেন্দ্রপুর গ্রামের সালেহা বেগম বেগম বলেন, ঘেরের পাড়ে নারকেল গাছ না লাগিয়ে পামঅয়েল গাছ লাগিয়েছিলাম। ১২টি গাছের ৭টিই কেটে ফেলেছি। এখন মাত্র ৫টি আছে। তবে সেগুলোতেও তেমন ফল হয় না। কাটতেও ঝামেলা আছে। একটি গাছ কাটতে প্রায় দুইজন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। যাতে প্রায় ১ হাজার টাকা খরচ। তবে না কেটেও উপায় নেই।

গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে সর্বশেষ (৫৪ তম) সাক্ষীর জেরা শুরু হয়েছে। এই মামলাটির বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ।
০৬ অক্টোবর ২০২৫
‘দুই দিন আগেই বাড়ি থেকে পাথরঘাটায় চলে এসেছি। এখন পুরোনো জাল সেলাই করছি। এক সপ্তাহের বাজারও করে এনেছি। আজ বিকেলে সাগর মোহনায় যাব, গভীর রাত থেকে জাল ফেলব।’ কথাগুলো বলছিলেন বরগুনা সদরের বাইনচটকী এলাকার জেলে হোসেন আলী। গতকাল বুধবার সকালে বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কথা হয় তাঁর...
১২ জুন ২০২৫
ভারতের স্থলবন্দর নিষেধাজ্ঞার পর সীমান্তে আটকে থাকা তৈরি পোশাক, খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ট্রাকগুলো ফেরত আনছেন রপ্তানিকারকেরা। তবে যেসব ট্রাক বন্দরে ঢুকে গিয়েছিল, সেগুলো ভারতে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব ট্রাক ঢুকতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।
১৯ মে ২০২৫
আধুনিক যুগের সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারগুলোর একটি হচ্ছে গৌতম বুদ্ধের দেহাবশেষের সঙ্গে সম্পর্কিত ঐতিহাসিক রত্নসম্ভার। গতকাল বুধবার হংকংয়ে বিখ্যাত আর্ট নিলাম কোম্পানি সাদাবি’স-এর এক নিলামে এগুলো তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
০৮ মে ২০২৫